বদলাপুর শিশুর যৌন নির্যাতনের অভিযোগে অভিযুক্ত পরিচ্ছন্নতাকর্মী এনকাউন্টারে নিহত: পুলিশ

বদলাপুর শিশুর যৌন নির্যাতনের অভিযোগে অভিযুক্ত পরিচ্ছন্নতাকর্মী এনকাউন্টারে নিহত: পুলিশ

বদলাপুর শিশুর যৌন নির্যাতনের অভিযোগে অভিযুক্ত পরিচ্ছন্নতাকর্মী এনকাউন্টারে নিহত: পুলিশ

একজন ২৩ বছর বয়সী পরিচ্ছন্নতাকর্মী, যিনি গত মাসে বদলাপুরের (থানে জেলা) একটি স্কুলে দুই চার বছরের মেয়েকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে গ্রেফতার হয়েছিলেন, সোমবার পুলিশের গুলিতে নিহত হয়েছেন। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্তটি পুলিশ কর্মকর্তার বন্দুক ছিনিয়ে নিয়ে গুলি চালানোর সময় এই “প্রতিশোধমূলক গুলির ঘটনা” ঘটেছিল।

ঘটনার বিবরণ:

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্তকে একটি গাড়িতে নিয়ে যাওয়ার সময় সে অপরাধ তদন্ত শাখার (এসআইটি) সহকারী পুলিশ পরিদর্শক নীলেশ মোরের সার্ভিস পিস্তল ছিনিয়ে নেয় এবং পালানোর উদ্দেশ্যে পুলিশের টিমের উপর গুলি চালায়। অভিযুক্ত তিন রাউন্ড গুলি ছোড়ে, যাতে মোর ও তার সঙ্গে থাকা আরও দুই পুলিশ সদস্য আহত হন।

এই ঘটনার স্থান ছিল থানে জেলার মুম্বরা বাইপাসের কাছে। অভিযুক্তকে থানে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল একটি বিশেষ অপরাধ তদন্ত দল (সিট) দ্বারা, যারা ২০২১ সালে তার প্রাক্তন স্ত্রীর দায়ের করা একটি যৌন নির্যাতন মামলার তদন্ত করছিল।

পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্তটি তালোজা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে বিকাল ৫.৩০টার দিকে বের হয় এবং ঘটনার সময় ছিল “প্রায় ৬-৬.১৫টার মধ্যে”। পুলিশের দেওয়া বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সহকারী পুলিশ পরিদর্শক নীলেশ মোর বাম উরুতে গুলিবিদ্ধ হন এবং তাকে এবং অন্যান্য দুই আহত পুলিশ সদস্যকে কালোয়ার একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

পরিবারের প্রতিক্রিয়া:

অভিযুক্তের পরিবার পুলিশের বক্তব্যে প্রশ্ন তুলেছে। তারা দাবি করেছে, অভিযুক্তটি কিভাবে গুলি চালাতে পারে যখন তার হাত বাঁধা ছিল এবং মুখ ঢাকা ছিল। অভিযুক্তের পিতা-মাতা বলেছেন, পুলিশ এনকাউন্টারের সত্যতা নিয়ে সন্দেহ তৈরি করছে এবং এর সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেছেন।

পরিবারের আরও অভিযোগ, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাগুলি মিথ্যা এবং তার বিরুদ্ধে পুলিশ অসঙ্গত আচরণ করেছে। তারা এই অভিযোগ করেছে যে, অভিযুক্তকে ষড়যন্ত্র করে এই ঘটনায় ফাঁসানো হয়েছে।

পুলিশের বক্তব্য:

পুলিশের দাবি অনুযায়ী, ঘটনার সময় অভিযুক্তটির হাত মুক্ত ছিল এবং সে মুহূর্তের সুযোগ নিয়ে সহকারী পুলিশ পরিদর্শকের পিস্তল ছিনিয়ে নেয়। এসআইটি দল অভিযুক্তকে থানে আদালতে নিয়ে যাচ্ছিল, যেখানে তার বিরুদ্ধে আরও কিছু অপরাধমূলক অভিযোগের শুনানি ছিল।

এসআইটি-এর এক সিনিয়র কর্মকর্তা জানিয়েছেন, “অভিযুক্তটি পালানোর চেষ্টা করেছিল এবং পুলিশের উপর গুলি চালায়। তার পালানোর চেষ্টা প্রতিহত করতে বাধ্য হয়ে পুলিশ গুলি চালায়।”

ঘটনার বিশ্লেষণ:

এই এনকাউন্টারটি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচালনার পদ্ধতি সম্পর্কে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলিও ঘটনার স্বাধীন তদন্ত দাবি করেছে, কারণ এনকাউন্টারগুলি নিয়ে পূর্বেও অভিযোগ উঠেছিল যে এগুলি প্রায়ই যথাযথ আইনী প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে সংঘটিত হয়।

প্রসঙ্গত, যৌন নির্যাতনের শিকার হওয়া দুই শিশু বর্তমানে পুলিশি নিরাপত্তায় রয়েছে এবং তাদের পরিবারের প্রতি মানসিক সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। মামলাটির তদন্ত বর্তমানে অব্যাহত রয়েছে এবং অভিযুক্তের মৃত্যুর পরে মামলাটি কীভাবে অগ্রসর হবে তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

এছাড়াও, পড়ুন : Haulm Toppers ইন্ডাস্ট্রি ইনসাইটস রিপোর্ট: Haulm Toppers মার্কেট ট্রেন্ডস, অ্যাপ্লিকেশান এবং প্রতিযোগিতামূলক ল্যান্ডস্কেপ বিশ্লেষণ করা (2024 – 2031)

এনকাউন্টারের যৌক্তিকতা নিয়ে বিতর্ক:

অভিযুক্তের আইনজীবী দাবি করেছেন যে, পুলিশ ষড়যন্ত্রমূলকভাবে এনকাউন্টারটি ঘটিয়েছে। তিনি আরও বলেন, “আমার মক্কেল নির্দোষ ছিল, তাকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হয়েছে এবং এই এনকাউন্টারের মাধ্যমে সত্যকে ধ্বংস করার চেষ্টা করা হয়েছে।”

অন্যদিকে, পুলিশ কর্মকর্তারা বলেছেন, “অভিযুক্তটি বিপজ্জনক ছিল এবং তার গুলি চালানো থেকে বাঁচতে পুলিশ গুলি চালিয়েছিল। এটা স্বাভাবিক আত্মরক্ষার অংশ।”

এনকাউন্টারের বিষয়টি এখনও বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে এবং মামলাটির সত্যতা প্রকাশ পেতে আরও তদন্ত প্রয়োজন হবে।

মানবাধিকার সংগঠনগুলির প্রতিক্রিয়া:

দেশজুড়ে বেশ কিছু মানবাধিকার সংস্থা এই এনকাউন্টারটির স্বচ্ছ তদন্তের দাবি জানিয়েছে। তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, “এনকাউন্টারগুলো প্রায়শই বিচারের প্রক্রিয়াকে পাশ কাটিয়ে ঘটে এবং এগুলি আইনের শাসনের জন্য ক্ষতিকারক হতে পারে।”

সরকারি সূত্রে জানানো হয়েছে যে, এনকাউন্টার সংক্রান্ত প্রতিটি পদক্ষেপ স্বচ্ছ ও বৈধ প্রক্রিয়ায় সম্পন্ন করা হয়েছে এবং ঘটনাটি সম্পর্কে আরও তদন্তের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিলে তা করা হবে।

সমাপনী মন্তব্য:

বদলাপুরের ঘটনাটি দেশে এনকাউন্টার সংস্কৃতির ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু করেছে। পুলিশের দাবি এবং পরিবারের অভিযোগের মধ্যে ফারাক থাকায় এটি আরও বেশি আলোচিত হচ্ছে। যথাযথ তদন্তের মাধ্যমেই এই ঘটনার আসল সত্য উন্মোচিত হতে পারে।