হরিয়ানা বিধানসভা নির্বাচন ২০২৪: তীব্র লড়াই, ভোটগ্রহণ শুরু, বিজেপির তৃতীয়বার ক্ষমতায় ফেরার চেষ্টায় কংগ্রেসের পাল্টা অভিযান

হরিয়ানা বিধানসভা নির্বাচন ২০২৪: তীব্র লড়াই, ভোটগ্রহণ শুরু, বিজেপির তৃতীয়বার ক্ষমতায় ফেরার চেষ্টায় কংগ্রেসের পাল্টা অভিযান
হরিয়ানা বিধানসভা নির্বাচন ২০২৪ আজ শুরু হয়েছে। রাজ্যের ৯০টি বিধানসভা আসনে ভোটগ্রহণ চলছে, যেখানে প্রায় ২ কোটি ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। এই একধাপীয় নির্বাচনে বিজেপি তৃতীয়বার ক্ষমতায় আসার চেষ্টায় রয়েছে, যেখানে কংগ্রেস, জননায়ক জনতা পার্টি (জেজেপি), এবং অন্যান্য ছোট দলগুলোও জোরালোভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে।
রাজ্যের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী নায়াব সিং সাইনি এবং প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ভূপিন্দর সিং হুডা-সহ আরও অনেক গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের ভবিষ্যত নির্ধারণ করবে এই ভোট। প্রতিযোগিতায় আছেন জেজেপি নেতা দুষ্যন্ত চৌটালা এবং ক্রীড়া তারকা থেকে রাজনীতিতে আসা ভিনেশ ফোগাটও। মোট ১০২৭ জন প্রার্থী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
খাট্টারের আহ্বান: আগেভাগে ভোট দিন
ভোটগ্রহণ শুরুর কয়েক মিনিট পরই কেন্দ্রীয় মন্ত্রী এবং প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মনোহরলাল খাট্টার তার নিজের কেন্দ্র কর্ণালে ভোট প্রদান করেন। খাট্টার ভোটদান পর্বে অংশগ্রহণের পর রাজ্যের বাসিন্দাদের উদ্দেশে বলেন, “যত দ্রুত সম্ভব ভোট প্রদান করুন। যাদের দিনের পরে ব্যস্ততা আছে, তারা আগে ভোট দিন।” তিনি বলেন, তিনি নিজেই প্রথম ভোট দিয়েছেন এবং সকলকে গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগের আহ্বান জানান।
হুডার অভিযোগ: বিজেপিকে পুলিশ প্রশাসনের সহায়তা
অন্যদিকে, কংগ্রেস নেতা দীপেন্দর সিং হুডা অভিযোগ করেছেন যে, বিজেপির প্রার্থী এবং বর্তমান বিধায়ক জেপি দালালকে সাহায্য করছে ভিওয়ানি জেলার পুলিশ প্রশাসন। হুডা নির্বাচন কমিশনকে উদ্দেশ্য করে বলেন, “ভিওয়ানি জেলার পুলিশ সুপার মডেল কোড অফ কন্ডাক্টের লঙ্ঘন করছেন এবং বিজেপির প্রার্থীকে প্রভাবিত করছেন।” তিনি নির্বাচনের নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করার জন্য ওই পুলিশ কর্মকর্তার বদলি দাবি করেছেন।
হরিয়ানায় ভোটের দিন পরিস্থিতি: তীব্র লড়াই
আজকের নির্বাচনকে ঘিরে হরিয়ানার বিভিন্ন এলাকায় তীব্র প্রতিযোগিতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ভোটের দিন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে প্রায় ৬৭,০০০ এরও বেশি পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, রাজ্যে ভোটারদের জন্য প্রায় ২২,০০০ ভোটকেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে, যেখানে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) এবং ভিভিপ্যাটের ব্যবস্থাও করা হয়েছে। নির্বাচনে মোট ২.১ কোটি নিবন্ধিত ভোটার রয়েছেন, যার মধ্যে ১ কোটি ১ লক্ষ পুরুষ এবং ৯৫ লক্ষ নারী ভোটার রয়েছেন।
বিজেপির জন্য তৃতীয় মেয়াদের লড়াই
২০১৪ এবং ২০১৯ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি জয়ী হয়ে ক্ষমতায় এসেছে, এবং এবার তৃতীয়বারের মতো ক্ষমতায় ফেরার লক্ষ্যে দলটি প্রচার চালাচ্ছে। বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী নায়াব সিং সাইনি বলছেন, “হরিয়ানায় গত দশ বছরে যা উন্নয়ন হয়েছে, তার ভিত্তিতেই জনগণ আবারও বিজেপিকে বেছে নেবে।”
তবে কংগ্রেসের ভূপিন্দর সিং হুডা এবং অন্যান্য বিরোধী নেতারা বিজেপির উন্নয়নমূলক কাজের বিপক্ষে সুর তুলেছেন। তারা অভিযোগ করছেন যে বিজেপির সরকার নাগরিক পরিষেবা এবং কৃষক সমস্যার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোতে ব্যর্থ হয়েছে।
এছাড়াও, পড়ুন : লিথিয়াম কার্বনেট: কম ভোল্টেজের জন্য একটি উচ্চ চাহিদা!
ভিনেশ ফোগাটের রাজনৈতিক প্রবেশ
ক্রীড়া থেকে রাজনীতিতে পদার্পণ করা ভিনেশ ফোগাটের অংশগ্রহণও এবারের নির্বাচনে আলাদা মাত্রা যোগ করেছে। তিনি বিজেপির বিরুদ্ধে একাধিক বিষয়ে সরব হয়েছেন এবং নিজের নির্বাচনী এলাকা থেকে একটি শক্তিশালী লড়াই করার ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি গতকাল এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, “খেলাধুলা আমাকে অনেক কিছু শিখিয়েছে এবং আমি রাজনীতির ময়দানে ন্যায়বিচার এবং সঠিক কাজের জন্য লড়াই করব।”
কংগ্রেসের পাল্টা অভিযান: ভূপিন্দর হুডার নেতৃত্বে প্রত্যাবর্তনের আশায়
কংগ্রেস গত দুই নির্বাচন ধরে হরিয়ানায় ক্ষমতাচ্যুত রয়েছে। দলটি এবার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ভূপিন্দর সিং হুডার নেতৃত্বে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। হুডা কংগ্রেসের সমর্থকদের আশ্বস্ত করেছেন যে কংগ্রেস পুনরায় ক্ষমতায় এলে রাজ্যের অর্থনীতি ও কৃষকদের উন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
জেজেপির দুষ্যন্ত চৌটালার অবস্থান
দুষ্যন্ত চৌটালার জননায়ক জনতা পার্টি (জেজেপি) দ্বিতীয়বারের মতো বিধানসভা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। গতবার বিজেপির সঙ্গে জোটে গিয়ে সরকারে অংশ নিয়েছিল জেজেপি, তবে এবারের নির্বাচন আরও কঠিন হতে চলেছে বলে মনে করা হচ্ছে। চৌটালা তার প্রচারে বলেছেন, “জেজেপি হরিয়ানার জনগণের উন্নয়নের জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।” তবে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন যে বিজেপির সঙ্গে ফের জোট গড়ার বিষয়ে তার দল আরও ভাবনাচিন্তা করবে।
ভোটারদের মধ্যে উচ্চমাত্রার আগ্রহ: নারী ভোটারদের ভূমিকা
আজকের নির্বাচনে নারীদের ভূমিকা বিশেষভাবে গুরুত্ব পাচ্ছে। ৯৫ লক্ষ নারী ভোটারের মধ্যে অনেকেই আগ্রহ সহকারে ভোটকেন্দ্রে যাচ্ছেন। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলও নারী ভোটারদের বিশেষভাবে লক্ষ্য রেখে প্রচার চালিয়েছে। বিশেষত গ্রামীণ এলাকাগুলিতে নারী ভোটারদের উপস্থিতি ভোটের ফলাফলের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।
সুষ্ঠু ভোটের জন্য নির্বাচন কমিশনের উদ্যোগ
হরিয়ানার নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে যে, ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া পুরোপুরি সুষ্ঠুভাবে পরিচালিত হচ্ছে। ইভিএম মেশিনগুলো সঠিকভাবে কাজ করছে কিনা তা নিশ্চিত করতে প্রায় ৩০০ জন পর্যবেক্ষক নিযুক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি ভোটারদের অভিযোগের ভিত্তিতে তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য একটি বিশেষ নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রও স্থাপন করা হয়েছে।
প্রতিক্রিয়ার জন্য নজর রাখা হচ্ছে
নির্বাচনের ফলাফলের আগে থেকেই রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, হরিয়ানার এবারের নির্বাচন অত্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হতে চলেছে। বড় রাজনৈতিক দলগুলোর পাশাপাশি কিছু ছোট দল এবং নির্দল প্রার্থীরাও লড়াইয়ের ময়দানে রয়েছে।