সত্যেন্দ্র জৈন ২ বছর পর মানি লন্ডারিং মামলায় জামিন পেলেন

সত্যেন্দ্র জৈন ২ বছর পর মানি লন্ডারিং মামলায় জামিন পেলেন

দিল্লির প্রাক্তন মন্ত্রী এবং আম আদমি পার্টির (AAP) নেতা সত্যেন্দ্র জৈন মানি লন্ডারিং মামলায় অবশেষে জামিন পেয়েছেন। শুক্রবার দিল্লির একটি বিশেষ আদালত তাঁকে জামিন মঞ্জুর করে। ২০২২ সালের ৩০ মে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED) তাঁকে মানি লন্ডারিং-এর অভিযোগে গ্রেফতার করেছিল। অভিযোগ ছিল, সত্যেন্দ্র জৈনের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত চারটি কোম্পানির মাধ্যমে মানি লন্ডারিং করা হয়েছে।

বিচারকের মন্তব্য

পিটিআই-এর রিপোর্ট অনুসারে, বিশেষ বিচারক বিশাল গোগনে বলেন, “মামলার বিচার প্রক্রিয়ার দীর্ঘ বিলম্ব এবং ১৮ মাসের দীর্ঘ কারাবাসের কথা বিবেচনা করে, বিচার শুরু হওয়া বা শেষ হওয়ার আগে অভিযুক্ত জামিন পাওয়ার যোগ্য।” বিচারক সত্যেন্দ্র জৈনকে ৫০,০০০ টাকার ব্যক্তিগত বন্ড এবং দুটি সমান পরিমাণের জামিনদার দিয়ে জামিন দেন। এই মামলার ভিত্তি ছিল কেন্দ্রীয় তদন্ত ব্যুরো (CBI)-এর ২০১৭ সালে দায়ের করা একটি এফআইআর, যা দুর্নীতি দমন আইনের আওতায় ছিল।

মামলার পটভূমি

সত্যেন্দ্র জৈনের বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল যে তিনি তাঁর প্রভাবশালী অবস্থানকে কাজে লাগিয়ে কয়েকটি কোম্পানির মাধ্যমে অবৈধ উপায়ে অর্থ সঞ্চয় করেছিলেন। তদন্তের সময় দেখা যায় যে, এই চারটি কোম্পানির সাথে জৈনের যোগসাজশ রয়েছে এবং সেই কোম্পানির মাধ্যমে অবৈধ অর্থ স্থানান্তরিত করা হয়েছিল। এর পরিপ্রেক্ষিতে, CBI এবং ED তাঁর বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করে এবং পরে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। ১৮ মাস ধরে বিচার প্রক্রিয়া চলতে থাকলেও মামলার গতি তেমন এগোয়নি।

মানি লন্ডারিং-এর অভিযোগ

সত্যেন্দ্র জৈন, যিনি দিল্লি সরকারের একজন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী ছিলেন, তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল যে তিনি এই চারটি কোম্পানির মাধ্যমে ২০১৭ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে কোটি কোটি টাকা মানি লন্ডারিং করেছেন। এই কোম্পানিগুলির মধ্যে ছিল একাধিক নির্মাণ এবং প্রোপার্টি ব্যবসায় সংক্রান্ত প্রতিষ্ঠান। অভিযোগ অনুযায়ী, এই কোম্পানিগুলি তাঁর পরিচালনার অধীনে ছিল এবং অবৈধভাবে প্রাপ্ত অর্থ এই কোম্পানিগুলির মাধ্যমে সাদা করা হয়েছিল।

আম আদমি পার্টির প্রতিক্রিয়া

সত্যেন্দ্র জৈনের জামিন পাওয়ার খবরের পর আম আদমি পার্টির নেতা মণীশ সিসোদিয়া সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ একটি পোস্ট করেন। তিনি লেখেন, “সত্যমেব জয়তে। দেশের সংবিধান চিরজীবী থাকুক। একনায়কের শাসন আমাদের আবারও আঘাত করল। সত্যেন্দ্র জৈনকে মিথ্যা এবং ভিত্তিহীন অভিযোগে এতদিন ধরে কারাগারে রাখা হয়েছিল। তাঁর বাড়িতে চারবার তল্লাশি চালানো হয়েছিল, কিন্তু কিছুই পাওয়া যায়নি।”

সিসোদিয়া আরও লেখেন, “তবুও তাঁকে পিএমএলএ (PMLA) আইনের অধীনে মিথ্যা মামলায় আটক রাখা হয়েছিল। দেশের বিচার বিভাগের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই, যাঁরা সত্য ও ন্যায়বিচারের পক্ষে দাঁড়িয়েছেন।”

মামলার দীর্ঘসূত্রিতা

এই মামলাটি একাধিকবার বিলম্বিত হয়েছে এবং তদন্ত প্রক্রিয়া চলাকালীন নানা জটিলতা দেখা দিয়েছে। আদালত দীর্ঘ সময় ধরে মামলার শুনানি চলার ফলে অভিযুক্তদের পক্ষে যথাযথ আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করতে নির্দেশ দেন। বিশেষ করে, সত্যেন্দ্র জৈনের দীর্ঘ কারাবাস এবং বিচার প্রক্রিয়ার বিলম্বের কথা বিবেচনা করে আদালত তাঁকে জামিন মঞ্জুর করে।

এছাড়াও, পড়ুন : গ্লোবাল স্টেজ আলোকসজ্জা বাজারের আকার 2023 সালে USD 658.00 মিলিয়ন ছিল, এই প্রতিবেদনটি বাজারের বৃদ্ধি, প্রবণতা, সুযোগ এবং পূর্বাভাস 2024-2030 কভার করে


অভিযোগের ভিত্তি এবং তদন্ত

জৈনের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের ভিত্তিতে, সিবিআই এবং ইডি যৌথভাবে তাঁর সম্পত্তি, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট এবং অন্যান্য অর্থনৈতিক লেনদেনের তদন্ত চালায়। তদন্তের সময় উঠে আসে যে, এই চারটি কোম্পানির মাধ্যমে জৈন অবৈধভাবে প্রাপ্ত অর্থ সাদা করেছেন। ২০১৭ সালে দায়ের করা মামলার ভিত্তিতে শুরু হওয়া তদন্তে প্রাথমিকভাবে জৈনের বিরুদ্ধে অপরাধের প্রমাণ পাওয়া যায়, যা পরবর্তীতে আদালতে জমা দেওয়া হয়। তবে, বিচার প্রক্রিয়ায় নানা আইনি জটিলতার কারণে মামলাটি ধীরগতিতে চলছিল।

সত্যেন্দ্র জৈনের জামিন মঞ্জুরের এই খবর নতুন করে আম আদমি পার্টির রাজনীতিতে প্রভাব ফেলতে পারে।