রাহুল গান্ধী প্রতিশ্রুতি দিলেন, জম্মু ও কাশ্মীরের রাজ্যের মর্যাদা পুনরুদ্ধার করবেন, সংসদ ও রাস্তায় লড়াইয়ে নামবেন

রাহুল গান্ধী প্রতিশ্রুতি দিলেন, জম্মু ও কাশ্মীরের রাজ্যের মর্যাদা পুনরুদ্ধার করবেন, সংসদ ও রাস্তায় লড়াইয়ে নামবেন
কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী বুধবার প্রতিশ্রুতি দিলেন যে জম্মু ও কাশ্মীরের রাজ্যের মর্যাদা পুনরুদ্ধারের জন্য তার দল লড়াই করবে, যা একসময়ে বিজেপি সরকারের দ্বারা কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। তিনি ঘোষণা করেন যে, কংগ্রেস এই রাজ্যের জন্য সংসদে লড়াই করবে এবং প্রয়োজনে রাস্তায়ও নামবে। গান্ধী অভিযোগ করেন যে, বিজেপি জম্মু ও কাশ্মীরকে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল করার পেছনে তাদের উদ্দেশ্য ছিল কাশ্মীরের জনগণকে বঞ্চিত করে বহিরাগতদের সুবিধা প্রদান করা। তিনি আরও বলেন, “বিজেপি চেয়েছিল এল.জি. (লেফটেন্যান্ট গভর্নর) এর মাধ্যমে এই অঞ্চলের প্রশাসন চালাতে এবং কাশ্মীরের মানুষের অগ্রগতি থামাতে।”
জম্মুতে সমাবেশে বক্তব্য
রাহুল গান্ধী জম্মুর একটি জনসভায় বলেন, “আমরা যতক্ষণ পর্যন্ত এল.জি. এখানে রয়েছেন, ততক্ষণ বহিরাগতরা কাশ্মীরের মানুষদের সুবিধা কেড়ে নেবে। কাশ্মীরের মানুষের জন্য রাজ্যের মর্যাদা ফেরত আনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমরা রাজ্যের মর্যাদা ফিরিয়ে আনার জন্য সংসদে কথা বলব এবং প্রয়োজনে রাস্তায়ও নামব।”
প্রথম বিধানসভা নির্বাচন
এই সমাবেশের সময়, জম্মু ও কাশ্মীরে ২০১৪ সালের পর প্রথম বিধানসভা নির্বাচনের দ্বিতীয় পর্যায়ের ভোটগ্রহণ চলছিল। উল্লেখ্য, ২০১৯ সালের আগস্টে ভারতের সংবিধানের ৩৭০ অনুচ্ছেদ বাতিল করার মাধ্যমে জম্মু ও কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা কেড়ে নেওয়া হয় এবং অঞ্চলটিকে দুইটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে ভাগ করা হয়েছিল—জম্মু ও কাশ্মীর এবং লাদাখ। এই পদক্ষেপটি নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়েছিল এবং অনেক রাজনৈতিক দল ও সাধারণ মানুষ এর বিরোধিতা করে।
এছাড়াও, পড়ুন : অ্যালুমিনিয়াম অ্যালয় পাউডারের বাজারে গভীরভাবে ডুব দিন
বিজেপির বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ
গান্ধী বিজেপিকে আক্রমণ করে বলেন যে, “বিজেপির আসল উদ্দেশ্য ছিল জম্মু ও কাশ্মীরের জনগণের উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করা এবং বহিরাগতদের সুবিধা দেওয়া। এই অঞ্চলের মানুষ, বিশেষত কৃষক ও ছোট ব্যবসায়ীরা এই পদক্ষেপের কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।” তিনি আরও যোগ করেন, “বিজেপি সরকার মানুষের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নের পথ বন্ধ করেছে।”
রাজ্যের মর্যাদা পুনরুদ্ধারের দাবি
রাহুল গান্ধী বলেন যে, কাশ্মীরের মানুষদের অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছে এবং রাজ্যের মর্যাদা ফিরিয়ে আনার জন্য কংগ্রেস সর্বদা সংগ্রাম করবে। তিনি বলেন, “আমরা রাজ্যের মর্যাদা পুনরুদ্ধার করব এবং সরকার তারপর স্থানীয় শিল্পের সুরক্ষার জন্য কাজ করবে। ব্যাংকের দরজা সাধারণ মানুষের জন্য খোলা হবে এবং স্থানীয় ব্যবসায়ীদের ঋণ দেওয়া হবে।”
কাশ্মীরের ইতিহাসে “অন্যায়”
তিনি ইতিহাসের উদাহরণ টেনে বলেন, “১৯৪৭ সালের পর ভারতের ইতিহাসে কখনও কোনও রাজ্যকে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে পরিবর্তন করা হয়নি। রাজ্যগুলিকে ভাগ করা হয়েছে, কিন্তু কখনও কোনও রাজ্যের মর্যাদা কমিয়ে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল করা হয়নি। এটা কাশ্মীরের মানুষের প্রতি এক ধরনের গুরুতর অন্যায়।”
রাজনৈতিক পরিস্থিতি
গান্ধীর এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এসেছে যখন জম্মু ও কাশ্মীরে নির্বাচনী প্রক্রিয়া চলছে এবং রাজনৈতিক উত্তেজনা তুঙ্গে। বিজেপি এবং তাদের সমর্থকরা জম্মু ও কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা কেড়ে নেওয়ার সিদ্ধান্তকে সমর্থন করে আসছে, যদিও কংগ্রেস এবং অন্যান্য বিরোধী দলগুলি এই পদক্ষেপের বিরোধিতা করে আসছে। গান্ধী তার বক্তব্যে দাবি করেন যে, “বিজেপি সরকারের এই সিদ্ধান্ত কাশ্মীরের অর্থনীতি এবং জনগণের জীবিকা বিপর্যস্ত করেছে।”
জম্মু ও কাশ্মীরের ভবিষ্যত
রাহুল গান্ধী জম্মু ও কাশ্মীরের ভবিষ্যতের বিষয়ে আশাবাদ প্রকাশ করেন এবং কংগ্রেস ক্ষমতায় এলে রাজ্যের মর্যাদা পুনরুদ্ধারের প্রতিশ্রুতি দেন। তিনি বলেন, “আমাদের সরকার স্থানীয় জনগণের জন্য কাজ করবে এবং বহিরাগতদের শোষণ বন্ধ করবে। আমরা সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করব।”
এই পরিস্থিতিতে জম্মু ও কাশ্মীরের মানুষের ভবিষ্যৎ কোন পথে যাবে তা নিয়ে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে, তবে রাহুল গান্ধীর বক্তব্যে স্পষ্ট যে, তিনি এবং তার দল এই অঞ্চলের মানুষের অধিকার রক্ষায় দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।