রাহুল গান্ধীর শ্বশুর রবার্ট বাড্রা কৃষকদের জমি নিয়েছেন: রাজনাথ সিংয়ের কংগ্রেসের ওপর আক্রমণ

রাহুল গান্ধীর শ্বশুর রবার্ট বাড্রা কৃষকদের জমি নিয়েছেন: রাজনাথ সিংয়ের কংগ্রেসের ওপর আক্রমণ
হরিয়ানার নির্বাচনী সমাবেশে কংগ্রেসের বিরুদ্ধে জমি দখলের অভিযোগ তুলে আক্রমণ করলেন প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং। বুধবার হরিয়ানায় অনুষ্ঠিত এক নির্বাচনী সমাবেশে প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং কংগ্রেসের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানালেন, যেখানে তিনি দাবি করেন যে, কংগ্রেস কৃষকদের জমি কেড়ে নিয়েছে এবং উন্নয়ন ও নীতির প্রতিশ্রুতিগুলি পূরণ করতে ব্যর্থ হয়েছে।
রাজনাথ সিংয়ের এই আক্রমণের মূল লক্ষ্য ছিল কংগ্রেস এবং বিশেষত রবার্ট বাড্রা, যিনি কংগ্রেস নেত্রী সোনিয়া গান্ধীর জামাই। প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং অভিযোগ করেন যে, কংগ্রেসের শাসনামলে রবার্ট বাড্রা হরিয়ানায় কৃষকদের জমি কেড়ে নিয়েছিলেন। তিনি বলেন, “এটি তাদের ‘দামাদ জি’ (জামাই) যারা কৃষকদের জমি নিয়ে নিয়েছিল। বিজেপির কোনো আত্মীয় এ কাজ করেনি।”
এই মন্তব্যের মাধ্যমে সিং স্পষ্টভাবে কংগ্রেসের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন, বিশেষ করে জমি দখল সংক্রান্ত অভিযোগকে সামনে এনে কংগ্রেসকে চাপে ফেলার চেষ্টা করেন। এর পাশাপাশি তিনি কংগ্রেসের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিগুলির সত্যতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন।
ভুল প্রতিশ্রুতির অভিযোগ
রাজনাথ সিং কংগ্রেসের বিরুদ্ধে নির্বাচনকালে করা প্রতিশ্রুতিগুলি পূরণ না করার অভিযোগ তুলে বলেন, “তারা প্রতিশ্রুতি দেয় এবং জনগণকে বিভ্রান্ত করে। কিন্তু সেই প্রতিশ্রুতি কখনোই পূরণ করা হয় না। এমন প্রতিশ্রুতি তাদের দেওয়া উচিত নয়, যা তারা রাখতে পারে না।”
প্রতিরক্ষা মন্ত্রীর এই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি কংগ্রেসের আস্থাভাজনতা এবং রাজনৈতিক নৈতিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। কংগ্রেসের নির্বাচনী প্রচারে বারবার উন্নয়ন ও সাধারণ জনগণের জন্য সুবিধা দেওয়ার যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, তার বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে বিজেপি নেতা এই বিষয়গুলি তুলে ধরার চেষ্টা করেন।
জম্মু ও কাশ্মীর প্রসঙ্গে বক্তব্য
কংগ্রেসের ওপর আক্রমণ করে রাজনাথ সিং জম্মু ও কাশ্মীরের বিষয়েও বক্তব্য রাখেন। তিনি কংগ্রেস ও ন্যাশনাল কনফারেন্সের (এনসি) মধ্যে জোটের প্রসঙ্গ তুলে আনেন এবং কাশ্মীরে পুনরায় ধারা ৩৭০ প্রবর্তনের প্রতিশ্রুতির সমালোচনা করেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে শুধুমাত্র কেন্দ্রীয় সরকারই এমন কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারে এবং রাজ্য সরকার তা করতে পারে না। তিনি বলেন, “কংগ্রেস ও ন্যাশনাল কনফারেন্স কাশ্মীরের ধারা ৩৭০ পুনর্বহালের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, কিন্তু এটি কেন্দ্রীয় সরকারের এক্তিয়ারভুক্ত বিষয়।”
রাজনাথ সিংয়ের এই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি কাশ্মীর ইস্যুতে কংগ্রেস ও এনসি-র প্রচারণাকে একরকম “অবাস্তব” হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করেছেন এবং জনগণকে বুঝিয়েছেন যে এই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের ক্ষমতা কেবলমাত্র কেন্দ্রীয় সরকারের হাতে রয়েছে।
হরিয়ানা বিধানসভা নির্বাচন এবং রাজনৈতিক পটভূমি
হরিয়ানায় বর্তমানে বিধানসভা নির্বাচন সামনে রেখে রাজনৈতিক তাপমাত্রা বেড়েছে। কংগ্রেস এবং বিজেপি উভয় দলই একে অপরকে আক্রমণ করছে এবং রাজ্যের জনগণকে নিজেদের পক্ষে টানার জন্য বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি এবং নীতি তুলে ধরছে।
বিজেপি হরিয়ানায় নিজেদের উন্নয়নের অগ্রগতি এবং নীতি প্রণয়নের প্রসঙ্গ তুলে ধরছে, যেখানে কংগ্রেসের আমলে জমি দখলের মতো বিতর্কিত ইস্যুগুলিকে সামনে রেখে তাদের আক্রমণ করছে।
রাজনাথ সিংয়ের বক্তব্য সেই প্রচেষ্টার একটি অংশ বলে মনে করা হচ্ছে, যেখানে তিনি কংগ্রেসের বিরুদ্ধে শক্তিশালী আক্রমণ শানিয়ে হরিয়ানার কৃষকদের মধ্যে একটি বিরোধী মনোভাব তৈরির চেষ্টা করছেন। অন্যদিকে, কংগ্রেসও বিজেপির বিরুদ্ধে নানা ধরনের অভিযোগ তুলে ধরেছে, যা এই নির্বাচনকে আরও উত্তেজনাপূর্ণ করে তুলছে।
বিজেপির কৌশল
রাজনাথ সিংয়ের বক্তব্যের মাধ্যমে বোঝা যায় যে, বিজেপি এবার হরিয়ানার নির্বাচনে কংগ্রেসের বিরুদ্ধে জমি দখল ইস্যুকে এক গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে চাইছে। রাজ্যের কৃষক সমাজের মধ্যে জমি সংক্রান্ত বিষয়গুলি অত্যন্ত সংবেদনশীল, এবং সেই কারণেই বিজেপি এই ইস্যুটি তুলে ধরে তাদের ভোটারদের মন জিততে চাইছে।
এই বক্তব্যে বিশেষ করে রবার্ট বাড্রার প্রসঙ্গ এনে প্রতিরক্ষা মন্ত্রী সোনিয়া গান্ধী এবং কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্বকে চাপের মধ্যে ফেলতে চেয়েছেন। জমি দখল ইস্যুতে রবার্ট বাড্রার নাম বহু বছর ধরেই বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছে, এবং বিজেপি সেই বিতর্ককে আবারও পুনরুজ্জীবিত করার চেষ্টা করছে।
উত্তরপ্রত্যাশা কংগ্রেসের
কংগ্রেস রাজনাথ সিংয়ের এই আক্রমণের কীভাবে উত্তর দেবে, তা এখন দেখার বিষয়। যদিও রবার্ট বাড্রা এবং জমি দখলের অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরেই রাজনৈতিক আলোচনার মধ্যে রয়েছে, কংগ্রেস সবসময়ই এই অভিযোগগুলি প্রত্যাখ্যান করেছে এবং বিজেপির প্রচারণাকে “রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত” হিসেবে অভিহিত করেছে।
নির্বাচনী প্রচার তীব্র আকার ধারণ করার সাথে সাথে এই ধরনের আক্রমণ এবং পাল্টা আক্রমণ আরও বৃদ্ধি পাবে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের অভিমত।