মহারাষ্ট্র নির্বাচন: বিজেপির জন্য কঠিন পরীক্ষা

মহারাষ্ট্র নির্বাচন: বিজেপির জন্য কঠিন পরীক্ষা

মহারাষ্ট্র নির্বাচন: বিজেপির জন্য কঠিন পরীক্ষা

মহারাষ্ট্র বিধানসভা নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। এই নির্বাচন, যা ২৮৮ সদস্য বিশিষ্ট মহারাষ্ট্র বিধানসভার জন্য অনুষ্ঠিত হবে, আগামী ২০ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এই নির্বাচনে বিশেষভাবে নজর দেওয়া হচ্ছে ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) উপর, যা মহারাষ্ট্রের বর্তমান শাসনকাঠামোর মূল অংশীদার হিসেবে কাজ করছে। বিজেপি তাদের রাজ্যে ক্ষমতায় ফিরে আসার আশা করছে, বিশেষ করে ছয় মাস আগে অনুষ্ঠিত লোকসভা নির্বাচনে দলটির ভরাডুবির পর।

লোকসভা নির্বাচনে বিজেপির ভরাডুবি

ছয় মাস আগে, মহারাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত লোকসভা নির্বাচনে বিজেপির হতাশাজনক ফলাফল দেখা যায়। মহারাষ্ট্র থেকে ৪৮টি লোকসভা আসনের মধ্যে বিজেপি মাত্র ৯টি আসনে জয়লাভ করতে সক্ষম হয়, যা ছিল ২০১৪ এবং ২০১৯ সালের তুলনায় অত্যন্ত খারাপ ফলাফল। ২০১৪ এবং ২০১৯ সালের নির্বাচনে বিজেপি যথাক্রমে ২৩টি আসনে জয় পেয়েছিল। বিজেপির ভোট শতাংশও হ্রাস পায়। ২০১৯ সালের নির্বাচনে যেখানে তাদের ভোট শতাংশ ছিল ২৭.৮৪%, ২০২৪ সালে তা কমে দাঁড়ায় ২৬.৪৫%-এ।

মহারাষ্ট্রের উপ-মুখ্যমন্ত্রী এবং বিজেপির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নেতা দেবেন্দ্র ফাডনবিশ ৫ জুন লোকসভা নির্বাচনের পর দলটির পরাজয়ের দায় স্বীকার করেন এবং পদত্যাগের ইচ্ছা প্রকাশ করেন। যদিও তার পদত্যাগ তখন গ্রহণ করা হয়নি, এই ঘটনায় বিজেপির অভ্যন্তরে অস্থিরতা স্পষ্ট হয়। তিনি দলের ব্যর্থতার জন্য সরাসরি দায়িত্ব নেন এবং দলের নেতাদের মধ্যেও ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়।

মহারাষ্ট্র বিধানসভা নির্বাচন: বিজেপির প্রত্যাশা

আগামী নভেম্বরে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া মহারাষ্ট্র বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির প্রধান লক্ষ্য হলো পুনরায় সরকার গঠন করা। মহা উন্নয়ন আঘাড়ি (মহাযুতি) জোটের অংশ হিসেবে তারা বর্তমানে ক্ষমতায় রয়েছে, যেখানে অন্যান্য শরিকদের মধ্যে শিবসেনা এবং অন্যান্য ছোট দল রয়েছে। তবে, বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির চ্যালেঞ্জ অনেক বড়। লোকসভা নির্বাচনের ফলাফল তাদের জন্য একটি বড় ধাক্কা ছিল এবং তা পুনরাবৃত্তি হতে পারে বলে দলের কিছু সদস্য আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।

ফাডনবিশের ভূমিকা

বিজেপির প্রধান মুখ হিসেবে দেবেন্দ্র ফাডনবিশের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে। তিনি মহারাষ্ট্রের রাজনীতিতে অত্যন্ত প্রভাবশালী নেতা এবং দলের কৌশলগত পরিকল্পনা তার নেতৃত্বেই গড়ে উঠছে। যদিও লোকসভা নির্বাচনের পর তার নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, তিনি আবারও বিধানসভা নির্বাচনে দলের নেতৃত্বে রয়েছেন। দলীয় কর্মীদের মধ্যে ঐক্য বজায় রাখা এবং বিরোধী দলগুলির সাথে শক্তিশালী প্রতিযোগিতা করা ফাডনবিশের প্রধান চ্যালেঞ্জ।

বিরোধী দলের প্রস্তুতি

মহারাষ্ট্রে কংগ্রেস এবং এনসিপির মতো বিরোধী দলগুলিও নির্বাচনকে সামনে রেখে তাদের প্রচার শুরু করেছে। মহা উন্নয়ন আঘাড়ি সরকারের মধ্যে থাকা ঝামেলাগুলি বিরোধী দলগুলির জন্য সুযোগ হয়ে দাঁড়াতে পারে। তারা লোকসভা নির্বাচনের ফলাফলকে ভিত্তি করে বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির বিরুদ্ধে শক্তিশালী প্রচার চালানোর পরিকল্পনা করছে।

এছাড়া, শিবসেনার আভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বও বিজেপির জন্য উদ্বেগের কারণ হতে পারে। শিবসেনার বিভিন্ন অংশীদার দলগুলির মধ্যে মতবিরোধ বিজেপির জোটকে দুর্বল করতে পারে এবং নির্বাচনী ফলাফলের উপর প্রভাব ফেলতে পারে।

এছাড়াও, পড়ুন : গ্লোবাল শিয়ার ওয়েভ ট্রান্সডুসার বাজারের আকার 2023 সালে USD 835.00 মিলিয়ন ছিল, এই প্রতিবেদনটি বাজারের বৃদ্ধি, প্রবণতা, সুযোগ এবং পূর্বাভাস 2024-2030 কভার করে


নির্বাচন কমিশনের ঘোষণা

নির্বাচন কমিশন ২০ নভেম্বর মহারাষ্ট্র বিধানসভা নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করেছে। এই নির্বাচন বুধবারে অনুষ্ঠিত হবে, যা নিয়ে নানা জল্পনা-কল্পনা চলছে। তবে নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, এদিন নির্বাচনের দিন হিসেবে নির্ধারণের পেছনে কোনো বিশেষ কারণ নেই এবং এটি নির্ধারিত ছিল সরকারি ছুটির কারণে।

উপসংহার

বিজেপির জন্য এই নির্বাচন একটি কঠিন পরীক্ষা হতে চলেছে। লোকসভা নির্বাচনের পর তাদের রাজ্যে আবারও ক্ষমতায় ফিরে আসার লড়াই শুরু হবে বিধানসভা নির্বাচন দিয়ে।