বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষের অভিযোগ: ‘সবার মুখ বন্ধ করতে চায়’, আরজি কর মেডিকেল কলেজের ধর্ষিতা ছাত্রীর পরিবারকে টিএমসি ঘুষ দিতে চায়

বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষের অভিযোগ: ‘সবার মুখ বন্ধ করতে চায়’, আরজি কর মেডিকেল কলেজের ধর্ষিতা ছাত্রীর পরিবারকে টিএমসি ঘুষ দিতে চায়
বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ মঙ্গলবার তৃণমূল কংগ্রেস (টিএমসি) সরকারের বিরুদ্ধে আরজি কর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের ৩৩ বছর বয়সী শিক্ষানবিশ চিকিৎসকের ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনা নিয়ে কড়া ভাষায় সমালোচনা করেছেন। দিলীপ ঘোষ অভিযোগ করেন যে, তৃণমূল সরকার ধর্ষিতার পরিবারকে মুখ বন্ধ করতে ঘুষ দিতে চাইছে।
দিলীপ ঘোষ বলেন, “তারা (টিএমসি ও মমতা ব্যানার্জী) সবার মুখ বন্ধ করতে চায়। ধর্ষণ হলে তারা পরিবারকে ঘুষ দেয়, পরিবারকে ১০ লাখ টাকা দিয়ে মুখ বন্ধ করতে চায়। কিন্তু, এই পরিবার সেটা গ্রহণ করেনি, তাদের সাহসিকতা প্রশংসনীয়।”
বিজেপি নেতা আরও দাবি করেন যে, টিএমসি প্রশাসন পুরো ঘটনাটিকে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে। তিনি বলেন, “ধর্ষণ ঘটলে তারা কিছু অর্থ দিয়ে ঘটনা ধামাচাপা দিতে চায়। আর এবারও একই চেষ্টা করা হচ্ছে। কিন্তু আমরা তাদের থামতে দেব না। বিচার না পাওয়া পর্যন্ত আমাদের প্রতিবাদ চলবে।”
বিজেপির প্রতিবাদ ও দাবি
এই ঘটনার প্রতিবাদে সোমবার বিজেপির নেতারা উত্তর জেলা ডিসি অফিসের সামনে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। বিজেপির তরফে দাবি করা হয় যে, তারা শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ করার অনুমতি চাইছিল, কিন্তু রাজ্য সরকার সেটি করতে দেয়নি।
বিজেপি নেত্রী লকেট চ্যাটার্জী বলেন, “অন্যান্য দলগুলিকে প্রতিবাদ করার অনুমতি দেওয়া হয়, কিন্তু বিজেপিকে কেন দেওয়া হয় না? আমরা শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি পালন করতে চেয়েছিলাম। এটা কি পশ্চিমবঙ্গে মহিলাদের ওপর অত্যাচার বন্ধ করতে পারবে?”
মমতা ব্যানার্জীর পদত্যাগের দাবি
বিজেপি নেতারা আরজি কর মেডিকেল কলেজের এই ঘটনার পর মমতা ব্যানার্জীর পদত্যাগ দাবি করেন। দলটির নেতারা পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে মশাল মিছিল সংগঠিত করে রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলেছেন। তারা দাবি করেন যে, টিএমসি সরকার এই ঘটনাটিকে চাপা দিতে এবং দোষীদের বাঁচাতে তৎপর।
বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার মঙ্গলবার একটি র্যালির সময় বলেন, “বিজেপি সবসময় আরজি কর হাসপাতালে ঘটনার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করে আসছে। একটি চিকিৎসক সম্প্রতি বলেছিলেন যে, তাকে ময়নাতদন্ত না করতে হুমকি দেওয়া হয়েছিল। মমতা ব্যানার্জী এই ঘটনা আড়াল করার চেষ্টা করছেন। আমরা তার পদত্যাগ চাই।”
তিনি আরও বলেন, “যতক্ষণ না ধর্ষণের শিকার পরিবার ন্যায়বিচার পায়, আমাদের প্রতিবাদ চলতেই থাকবে। আমরা প্রতিটি জেলায় এই ঘটনা নিয়ে আন্দোলন করব।”
বিরোধীদের কড়া ভাষায় আক্রমণ
বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ টিএমসির বিরুদ্ধে আরও কঠোর ভাষায় আক্রমণ চালিয়ে বলেন, “ওরা (টিএমসি) চায় সবকিছু চাপা দিতে। রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভেঙে পড়েছে। মমতা ব্যানার্জীর সরকার নারীদের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ।”
ঘোষ আরও বলেন, “তারা (টিএমসি) চায় না যে ধর্ষণের মতো ভয়ঙ্কর অপরাধের বিরুদ্ধে কেউ আওয়াজ তুলুক। অথচ, আমাদের মতো বিরোধী দলগুলি শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ করতে চাইলেও তাদের বাধা দেওয়া হয়।”
এছাড়াও, পড়ুন : লেজার এনার্জি ডিটেক্টর মার্কেট আউটলুক: সম্পূর্ণ শিল্প বিশ্লেষণ (2024 থেকে 2031)
মামলার ধামাচাপা দেওয়ার অভিযোগ
ঘটনার পর থেকেই রাজ্য সরকারকে সমালোচনার মুখে পড়তে হচ্ছে। বিরোধী দলগুলির অভিযোগ যে, টিএমসি প্রশাসন ঘটনাটিকে ধামাচাপা দিতে চাইছে। অভিযোগ উঠেছে যে, টিএমসি সরকার আইনশৃঙ্খলার নিয়ন্ত্রণ রাখতে ব্যর্থ হয়েছে এবং মহিলাদের সুরক্ষা দেওয়ার ক্ষেত্রে তাদের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ।
এদিকে, টিএমসি সরকারের পক্ষ থেকে এখনও এই অভিযোগের কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়ছে
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্যের রাজনৈতিক উত্তাপ ক্রমশ বাড়ছে। বিজেপি দল রাজ্যের প্রতিটি জেলায় মিছিল ও প্রতিবাদ সংগঠিত করছে। দলের নেতারা বলছেন, যতক্ষণ না দোষীরা শাস্তি পায় এবং সরকার নিরপেক্ষভাবে এই ঘটনার তদন্ত চালায়, ততক্ষণ পর্যন্ত তারা আন্দোলন চালিয়ে যাবেন।
তবে তৃণমূলের পক্ষ থেকে এখনও সরকারিভাবে কোনও প্রতিক্রিয়া না আসলেও, ধারণা করা হচ্ছে যে, খুব শীঘ্রই সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক বক্তব্য প্রকাশ করা হবে।
সম্পাদকীয় মন্তব্য
আরজি কর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে ঘটে যাওয়া ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনা রাজ্যের রাজনৈতিক মঞ্চে উত্তাপ ছড়াচ্ছে। ঘটনাটি যেমন নারীদের নিরাপত্তার প্রশ্ন তুলছে, তেমনি রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিরও ওপর গভীর প্রশ্নচিহ্ন রাখছে।
সরকারের উচিত এই ঘটনার দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্ত করা এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের নৃশংস ঘটনা আর না ঘটে।