বিজেপি দলের নেতার অনলাইন বৈঠক নিয়ে বিতর্ক, দল জানাল “আমরা কোনও প্রার্থীর পক্ষে বা বিপক্ষে নেই”

বিজেপি দলের নেতার অনলাইন বৈঠক নিয়ে বিতর্ক, দল জানাল "আমরা কোনও প্রার্থীর পক্ষে বা বিপক্ষে নেই"

বিজেপি দলের নেতার অনলাইন বৈঠক নিয়ে বিতর্ক, দল জানাল “আমরা কোনও প্রার্থীর পক্ষে বা বিপক্ষে নেই”

আমেরিকার আসন্ন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রেক্ষিতে ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) অভ্যন্তরে একটি নতুন বিতর্ক শুরু হয়েছে। বুধবার বিজেপির বিদেশ বিষয়ক সেলের দায়িত্বপ্রাপ্ত বিজয় চৌথাইওয়ালে একটি অনলাইন ইভেন্টের বিষয়ে স্পষ্ট বক্তব্য দিয়েছেন। এই ইভেন্টটি দিল্লির বিজেপি নেতা বিজয় জোলি আয়োজন করছেন, যেখানে উপস্থিত থাকবেন রিপাবলিকান হিন্দু কোয়ালিশন ইউএসএ-এর চেয়ারপার্সন শালভ কুমার। তবে, বিজয় চৌথাইওয়ালে স্পষ্ট করেছেন যে এই অনলাইন বৈঠকের সাথে বিজেপির কোনও সম্পর্ক নেই এবং দল আমেরিকার নির্বাচনে কোনও প্রার্থীকে সমর্থন বা বিরোধিতা করছে না।

বিতর্কের সূচনা

সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সফরকালে মার্কিন নির্বাচনের দুই প্রধান প্রার্থী—মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিস এবং সাবেক রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্প—কারও সঙ্গেই বৈঠক করেননি। মোদির এই অবস্থানকেই বিজেপির নিরপেক্ষ অবস্থান হিসেবে দেখা হচ্ছিল। তবে বিজেপির দিল্লির নেতা বিজয় জোলির অনলাইন ইভেন্ট এবং সেখানে শালভ কুমারের উপস্থিতি বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

অনলাইন ইভেন্টের বিবরণ

এই অনলাইন ইভেন্টটি নিয়ে বিতর্ক আরও তীব্র হয় যখন জানা যায় যে শালভ কুমার এতে অংশগ্রহণ করছেন। শালভ কুমার রিপাবলিকান পার্টির ঘনিষ্ঠ এবং ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রচারের সাথে যুক্ত। তিনি ২০১৬ সালের মার্কিন নির্বাচনে ট্রাম্পকে সমর্থন করেছিলেন এবং আমেরিকার হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে তার প্রচার কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। এর প্রেক্ষিতে ধারণা করা হয় যে এই বৈঠকের মাধ্যমে বিজয় জোলি পরোক্ষভাবে রিপাবলিকান পার্টির এবং ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতি সমর্থন জানাচ্ছেন।

এছাড়াও, পড়ুন : Polycaprolactone Diol বাজারের আকার 5.90% এর CAGR এ বাড়ছে, এই প্রতিবেদনটি 2024-2030 এর প্রকার, বিভাগ, বৃদ্ধি এবং পূর্বাভাস দ্বারা বিশ্লেষণ কভার করে

বিজয় চৌথাইওয়ালের প্রতিক্রিয়া

এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে বিজেপির পক্ষ থেকে দ্রুত একটি বিবৃতি আসে। বিজয় চৌথাইওয়ালে তার সামাজিক মাধ্যম অ্যাকাউন্টে স্পষ্টভাবে জানান, “এই অনলাইন ইভেন্টের সঙ্গে বিজেপির কোনও সম্পর্ক নেই। আমরা মার্কিন নির্বাচনে কোনও প্রার্থীকে সমর্থন করছি না বা বিরোধিতা করছি না।” তার এই বক্তব্য স্পষ্ট করে দেয় যে বিজেপি দল হিসেবে মার্কিন নির্বাচনের ব্যাপারে কোনও পক্ষ নিচ্ছে না এবং যে কোনও ব্যক্তিগত উদ্যোগকে দলীয় উদ্যোগ হিসেবে গণ্য করা উচিত নয়।

বিজেপির অভ্যন্তরীণ প্রতিক্রিয়া

বিজেপির অভ্যন্তরে এই ইভেন্ট নিয়ে কিছুটা বিভ্রান্তি ও অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েছে। বিজেপির একাংশের মতে, দলের উচ্চপর্যায়ে বৈদেশিক নীতির ব্যাপারে সংযত অবস্থান নেওয়া হয় এবং দলীয় নেতাদের এ ধরনের বিতর্কিত ইভেন্ট থেকে দূরে থাকা উচিত। বিশেষ করে যখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ দেশের নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে কোনও ইভেন্ট অনুষ্ঠিত হচ্ছে, তখন এ ধরনের পদক্ষেপ দলের ভাবমূর্তির ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।

শালভ কুমারের ভূমিকা ও বিতর্ক

শালভ কুমার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রবাসী হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে একজন প্রভাবশালী ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত। তিনি ২০১৬ সালে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সমর্থন করে মার্কিন প্রবাসী ভারতীয়দের মধ্যে একটি রাজনৈতিক আন্দোলন শুরু করেছিলেন। রিপাবলিকান পার্টির সঙ্গে তার সুসম্পর্ক এবং ট্রাম্পের প্রতি তার সমর্থন বরাবরই আলোচনার বিষয় ছিল। ফলে বিজয় জোলির আয়োজিত ইভেন্টে শালভ কুমারের উপস্থিতি স্বাভাবিকভাবেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।

রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ

বিজেপির পক্ষ থেকে বারবার বলা হয়েছে যে দলটি কোনও বিদেশি দেশের নির্বাচনী প্রক্রিয়ার মধ্যে জড়াতে চায় না এবং কোনও পক্ষ নিচ্ছে না। বিজেপির মতে, যেকোনও দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে হস্তক্ষেপ করা তাদের নীতির বিরুদ্ধে। তবে, দিল্লির নেতা বিজয় জোলির এই উদ্যোগ, বিশেষ করে একজন প্রভাবশালী বিদেশি রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের উপস্থিতি, বিষয়টিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

মোদির মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সফর

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে সাম্প্রতিক সফরের সময় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি কোনও রাজনৈতিক প্রার্থী বা মার্কিন নির্বাচনের বিষয়ে কোনও প্রকাশ্য মন্তব্য করেননি। তিনি তার সফরকে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক ও কৌশলগত অংশীদারিত্বের ওপর কেন্দ্রীভূত করেছিলেন। তার এই সংযত অবস্থান দলীয় নীতি এবং কূটনৈতিক শিষ্টাচার রক্ষা করার লক্ষ্যে ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।

উপসংহার

বিজেপি নেতা বিজয় জোলির অনলাইন ইভেন্ট নিয়ে দলের মধ্যে সৃষ্ট বিতর্ক পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছে দলীয় নেতৃত্ব। তবে, দলীয় নীতির স্পষ্টীকরণের মাধ্যমে দলের ভাবমূর্তি রক্ষা করতে চায় বিজেপি।