প্রধানমন্ত্রী মোদির গাজার মানবিক পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ, ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রপতি মাহমুদ আব্বাসের সাথে বৈঠক

প্রধানমন্ত্রী মোদির গাজার মানবিক পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ, ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রপতি মাহমুদ আব্বাসের সাথে বৈঠক

প্রধানমন্ত্রী মোদির গাজার মানবিক পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ, ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রপতি মাহমুদ আব্বাসের সাথে বৈঠক

নিউ ইয়র্ক, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৪: ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সোমবার জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (UNGA) সাইডলাইনে ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রপতি মাহমুদ আব্বাসের সাথে বৈঠক করেছেন। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী মোদি গাজার যুদ্ধবিধ্বস্ত এলাকায় মানবিক সংকট নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং ফিলিস্তিনের জনগণের প্রতি ভারতের অব্যাহত সমর্থনের আশ্বাস দিয়েছেন। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের (MEA) মুখপাত্র রণধীর জয়স্বাল এক বিবৃতিতে এই তথ্য জানিয়েছেন।

ভারতের অব্যাহত সমর্থন:
“প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রপতি মাহমুদ আব্বাসের সাথে বৈঠক করেছেন। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী গাজার মানবিক পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং ফিলিস্তিনের জনগণের প্রতি ভারতের অব্যাহত সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছেন,” টুইটারে জানিয়েছেন MEA মুখপাত্র।

এ সময় ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রপতি আব্বাসের সাথে আলোচনায়, মোদি মধ্যপ্রাচ্যের শান্তি প্রক্রিয়া এবং ইসরায়েল-প্যালেস্টাইন সংঘাতের জন্য টেকসই সমাধানের গুরুত্ব নিয়েও আলোচনা করেন।

দ্বি-রাষ্ট্র সমাধানের সমর্থন:
ভারত বরাবরই ইসরায়েল-প্যালেস্টাইন সংঘাতে দ্বি-রাষ্ট্র সমাধানের পক্ষে কথা বলেছে। এই সমাধানে ফিলিস্তিন একটি সার্বভৌম এবং স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে, যা ইসরায়েলের নিরাপত্তা উদ্বেগকেও সমানভাবে গুরুত্ব দেবে। বৈঠকের পর প্রকাশিত যৌথ বিবৃতিতে Quad নেতারা দ্বি-রাষ্ট্র সমাধানের প্রতি তাদের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন।

যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “আমরা ফিলিস্তিনের সার্বভৌম, স্থায়ী এবং স্বাধীন রাষ্ট্রের পক্ষে আছি, যা ইসরায়েলের বৈধ নিরাপত্তা উদ্বেগকে বিবেচনায় নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হবে। এই সমাধান উভয় পক্ষের মধ্যে ন্যায়বিচার, দীর্ঘস্থায়ী এবং নিরাপদ শান্তির পথে নিয়ে যাবে।”

বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, “যেকোনো একতরফা পদক্ষেপ যা দ্বি-রাষ্ট্র সমাধানের সম্ভাবনাকে ক্ষতিগ্রস্ত করে, যেমন ইসরায়েলের বসতি সম্প্রসারণ এবং সব পক্ষের সহিংস চরমপন্থা, তা বন্ধ করতে হবে। আমরা এই সংঘাতকে বাড়তে দেওয়া এবং এটি অঞ্চলজুড়ে ছড়িয়ে পড়া থেকে রোধ করার প্রয়োজনীয়তাও জোর দিয়েছি।”

গাজার মানবিক সংকট এবং ভারতের প্রতিক্রিয়া:
গাজায় চলমান সংঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত সাধারণ জনগণের দুর্দশা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। গাজার পরিস্থিতি দিন দিন খারাপ হচ্ছে, যা আন্তর্জাতিক মহলে গভীর উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ভারত আন্তর্জাতিক মানবিক নীতি অনুসারে গাজার জনগণের সহায়তায় বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। চলতি বছরের জুলাই মাসে ভারত জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা, United Nations Relief and Works Agency (UNRWA)-তে ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের জন্য ২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রথম কিস্তি হিসেবে ২.৫ মিলিয়ন ডলার অর্থ সাহায্য প্রদান করেছে। এই সহায়তা গাজার শরণার্থীদের মৌলিক চাহিদা পূরণ এবং তাদের জীবনযাত্রার মান উন্নত করতে ব্যবহার করা হবে।

ভারত ইতিমধ্যেই তার বৈদেশিক নীতিতে মানবিক সাহায্য প্রদানে অগ্রগামী ভূমিকা পালন করে চলেছে। গাজায় সম্প্রতি যে সহিংসতা বেড়েছে, তার ফলে বহু নিরীহ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং ভারত তাদের সহায়তায় সর্বাত্মক চেষ্টা করছে। প্রধানমন্ত্রী মোদির নেতৃত্বে ভারত আন্তর্জাতিক মঞ্চে ফিলিস্তিনের জনগণের প্রতি সমর্থন অব্যাহত রেখেছে।

এছাড়াও, পড়ুন: পয়েন্ট-অফ-ইউজ অ্যাবেটমেন্ট সিস্টেম মার্কেট কৌশলগত অন্তর্দৃষ্টি


হামাসের সন্ত্রাসী হামলার নিন্দা:
ইসরায়েলের উপর হামাসের সাম্প্রতিক সন্ত্রাসী আক্রমণের পরে, প্রধানমন্ত্রী মোদি এক বিবৃতিতে এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছিলেন। ৭ অক্টোবর ২০২৪ তারিখে ইসরায়েলের উপর এই আক্রমণটি আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে এবং মোদি এই আক্রমণকে অমানবিক এবং সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড হিসেবে অভিহিত করেছিলেন।

ইসরায়েল-প্যালেস্টাইন সংঘাতের প্রতি ভারতে দীর্ঘদিন ধরে ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থান নিয়েছে, যা শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টায় নিরপেক্ষতার উপর ভিত্তি করে। মোদি প্রশাসনের পররাষ্ট্র নীতিতে মানবিক সাহায্য এবং সংকটে থাকা জনগণের প্রতি সহানুভূতি প্রদর্শন করা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠায় ভারতের ভূমিকা:
মধ্যপ্রাচ্যের শান্তি প্রক্রিয়ায় একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে ভারত বরাবরই স্থিতিশীলতা এবং শান্তি প্রতিষ্ঠায় সহযোগিতার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। দ্বি-রাষ্ট্র সমাধানের প্রতি ভারতের সমর্থন আন্তর্জাতিক স্তরে প্রশংসিত হয়েছে এবং এই নীতি ভারতকে মধ্যপ্রাচ্যে একটি বিশ্বাসযোগ্য শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।

গাজার মানবিক সংকট আরও গভীর হলে এবং সংঘাত বৃদ্ধি পেলে, ভারতের সহানুভূতিশীল অবস্থান আন্তর্জাতিক মহলে প্রশংসিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

ভারতের এই উদ্যোগ ইসরায়েল এবং ফিলিস্তিনের মধ্যেকার সংকটের সমাধানে নতুন মাত্রা যোগ করবে এবং বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠায় ভারতের শক্তিশালী ভূমিকা প্রতিষ্ঠিত করবে।

সম্পর্কিত খবর:

  • ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রী এস. জয়শঙ্করের মধ্যপ্রাচ্য সফর পরিকল্পনা
  • ২০২৪ সালে ভারত-ইসরায়েল বাণিজ্য বৃদ্ধির পরিসংখ্যান
  • ফিলিস্তিনকে নিয়ে জাতিসংঘে ভারতের বক্তব্য