দিল্লি পুলিশের হাতে আটক হওয়া পরিবেশ কর্মী সোনাম ওয়াংচুকের সমর্থনে দিল্লি থানার বাইরে মাথা মুড়িয়ে প্রতিবাদ

দিল্লি পুলিশের হাতে আটক হওয়া পরিবেশ কর্মী সোনাম ওয়াংচুকের সমর্থনে দিল্লি থানার বাইরে মাথা মুড়িয়ে প্রতিবাদ

দিল্লি পুলিশের হাতে আটক হওয়া পরিবেশ কর্মী সোনাম ওয়াংচুকের সমর্থনে দিল্লি থানার বাইরে মাথা মুড়িয়ে প্রতিবাদ

লাদাখের পরিবেশ কর্মী সোনাম ওয়াংচুকের সমর্থনে বুধবার দিল্লির বাওয়ানা থানার সামনে এক সমর্থক মাথা মুড়িয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছেন। দিল্লি পুলিশ ওয়াংচুক এবং ১৫০ জনেরও বেশি প্রতিবাদকারীকে আটক করার পরে এই প্রতীকী প্রতিবাদ অনুষ্ঠিত হয়।

সোনাম ওয়াংচুক, যিনি ‘দিল্লি চলো পদযাত্রা’ নামক আন্দোলনের নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন, সোমবার দিল্লি পুলিশের দ্বারা আটক হওয়ার পরে অনশন শুরু করেন। পরিবেশ রক্ষায় দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে আসা ওয়াংচুকের এই পদযাত্রা মূলত লাদাখের পরিবেশ রক্ষা ও অঞ্চলের মানুষের অধিকারের দাবিতে করা হয়েছিল। তার আটক হওয়ার খবরে প্রতিবাদীরা ক্ষোভ প্রকাশ করতে শুরু করেন, যার পরিপ্রেক্ষিতে বিভিন্ন স্থানে প্রতিবাদ মিছিল হয়।

এদিন, হাসান তামান্না নামের একজন সমর্থক, যিনি কার্গিলের বাসিন্দা, থানার সামনে মাথা মুড়িয়ে তার প্রতিবাদ জানান। সংবাদ সংস্থা পিটিআই-এর শেয়ার করা একটি ভিডিওতে তামান্নাকে দেখা যায়, তিনি বলেন, “আমার নাম হাসান তামান্না, আমি কার্গিল থেকে এসেছি। আমি সোনাম ওয়াংচুকের পদযাত্রায় অংশগ্রহণ করেছি। কিন্তু আজ আমি দেখছি, কীভাবে এখানে গণতন্ত্রকে হত্যা করা হয়েছে। ওয়াংচুকসহ অন্যান্যদের আটক করা হয়েছে। আমি এই ঘটনার প্রতিবাদ জানাতে মাথা মুড়িয়ে ফেলেছি।”

তামান্নাকে ভিডিওতে একটি পোস্টার হাতে ধরে থাকতে দেখা যায়, যেখানে লেখা ছিল, “কেন লাদাখিদের ভারতীয় গণতন্ত্রে তাদের অধিকারের জন্য শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ করার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না?”

সোনাম ওয়াংচুকের আটক ও প্রতিবাদ কর্মসূচি

সোনাম ওয়াংচুক দীর্ঘদিন ধরে লাদাখের পরিবেশ রক্ষা, বিশেষ করে গ্লোবাল ওয়ার্মিং এবং হিমবাহ গলে যাওয়ার বিপদের বিরুদ্ধে লড়াই করে আসছেন। তার নেতৃত্বে শুরু হওয়া ‘দিল্লি চলো পদযাত্রা’ এই অঞ্চলের সমস্যা তুলে ধরার লক্ষ্যে ছিল। পদযাত্রায় অংশগ্রহণকারী হাজার হাজার মানুষ লাদাখের স্বায়ত্তশাসনের দাবি এবং বিশেষ সাংবিধানিক অধিকার পুনঃস্থাপনের জন্য আওয়াজ তুলছিলেন।

তবে, দিল্লি পৌঁছানোর আগেই পুলিশ তাদের আটক করে এবং আটককৃতদের মধ্যে সোনাম ওয়াংচুকসহ ১৫০ জনের বেশি প্রতিবাদকারী রয়েছেন। এই ঘটনায় লাদাখ এবং অন্যান্য অঞ্চলে সমর্থকদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

  এছাড়াও, পড়ুন : প্যারাফিন মোম ইমালশন বাজার গতিশীলতা অন্বেষণ


প্রতিবাদকারীদের প্রতিক্রিয়া

আটকের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর, লাদাখ এবং দিল্লি সহ ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে প্রতিবাদ কর্মসূচি শুরু হয়। দিল্লিতে বাওয়ানা থানার সামনে তামান্নার এই প্রতীকী প্রতিবাদ আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। অনলাইনে শেয়ার করা ভিডিওতে দেখা যায়, তামান্না হাতে একটি ট্রিমার নিয়ে মাথা মুড়াচ্ছেন এবং তার পাশে থাকা পোস্টারে লাদাখিদের প্রতিবাদ করার অধিকারের পক্ষে স্লোগান লেখা রয়েছে।

তামান্নার মতো আরও অনেক সমর্থক সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজেদের ক্ষোভ প্রকাশ করছেন। তারা দাবি করছেন, ভারতের একটি গণতান্ত্রিক দেশে মানুষের শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ করার অধিকার কেড়ে নেওয়া হচ্ছে। সোনাম ওয়াংচুকের আটকের ঘটনার নিন্দা জানিয়ে অনেকেই সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট শেয়ার করছেন এবং সরকারের এই পদক্ষেপের বিরুদ্ধে মতামত দিচ্ছেন।

ওয়াংচুকের অনশন ও প্রতিবাদীদের দাবি

সোনাম ওয়াংচুক ইতিমধ্যে তার আটক হওয়ার পরপরই অনশন শুরু করেছেন। তার অনশনের মূল দাবি হলো, লাদাখকে ভারতের অন্য কোনো অঞ্চলের মতো সমান গুরুত্ব দিয়ে দেখা হোক এবং লাদাখের বাসিন্দাদের অধিকার সুরক্ষিত করা হোক। ওয়াংচুকের দাবি, লাদাখের সংবিধানিক অধিকার পুনঃস্থাপন করা প্রয়োজন এবং স্থানীয় জনগণের অর্থনৈতিক ও পরিবেশগত সমস্যাগুলির দিকে সরকারের মনোযোগ আকর্ষণ করতে হবে।

সরকার ও পুলিশের অবস্থান

এই প্রতিবাদ ও আটকের বিষয়ে সরকার কিংবা দিল্লি পুলিশের পক্ষ থেকে এখনো কোনো সরাসরি মন্তব্য করা হয়নি। তবে, সরকারি সূত্রে জানা গেছে, পদযাত্রার সময় আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখার উদ্দেশ্যে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, তারা শুধুমাত্র জনশৃঙ্খলা রক্ষার স্বার্থে পদক্ষেপ নিয়েছে এবং কোনোরকম অশান্তি বা বিশৃঙ্খলা এড়ানোর জন্যই এই আটকের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।

সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রতিবাদের প্রতিক্রিয়া

সোনাম ওয়াংচুক এবং তার সমর্থকদের এই প্রতিবাদ ইতিমধ্যেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। বিভিন্ন পরিচিত ব্যক্তিত্ব ও সমাজকর্মীরা এই ঘটনার নিন্দা জানিয়ে তাদের মত প্রকাশ করছেন। অনেকেই তামান্নার মাথা মুড়িয়ে প্রতিবাদ করার প্রতীকী পদক্ষেপকে সাহসিকতার উদাহরণ হিসাবে উল্লেখ করছেন এবং সরকারকে লাদাখের মানুষের কথা শুনতে আহ্বান জানাচ্ছেন।

সোনাম ওয়াংচুকের এই পদযাত্রা এবং তার সাথে ঘটে যাওয়া এই ঘটনার ফলাফল কী দাঁড়ায়, তা নিয়ে এখনও অনিশ্চয়তা রয়েছে।