জম্মু-কাশ্মীরে কংগ্রেস ও ন্যাশনাল কনফারেন্সের আক্রমণে অমিত শাহ: ‘তিন প্রজন্মেও ফিরবে না ৩৭০ ধারা’

জম্মু-কাশ্মীরে কংগ্রেস ও ন্যাশনাল কনফারেন্সের আক্রমণে অমিত শাহ: ‘তিন প্রজন্মেও ফিরবে না ৩৭০ ধারা’
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং বিজেপি নেতা অমিত শাহ বৃহস্পতিবার জম্মু ও কাশ্মীরের উধমপুর জেলার চেনানিতে একটি নির্বাচনী সমাবেশে কংগ্রেস এবং ন্যাশনাল কনফারেন্স (এনসি)-এর জোটের কড়া সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেন, “তাদের তিন প্রজন্মেও ৩৭০ ধারা ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে না।” তার এই বক্তব্যে, জম্মু ও কাশ্মীরে ৩৭০ ধারা পুনরায় চালু করার প্রস্তাব নিয়ে কংগ্রেস এবং এনসি-কে আক্রমণ করেন শাহ।
উধমপুর জেলার চেনানি এলাকায় অনুষ্ঠিত এই জনসভায় অমিত শাহ স্পষ্টভাবে কংগ্রেস ও ন্যাশনাল কনফারেন্সের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলেন। তিনি দাবি করেন, কংগ্রেস এবং এনসি, জম্মু ও কাশ্মীরে ৪০,০০০ মানুষের মৃত্যুর জন্য দায়ী। তার মতে, এই দলগুলোই জম্মু-কাশ্মীরে সন্ত্রাসবাদের উত্থান ঘটিয়েছে এবং তা দীর্ঘস্থায়ী করেছে।
‘তিন প্রজন্মেও ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয়’
অমিত শাহ তার বক্তব্যে বলেন, “আপনারা শুধুমাত্র চেনানি নয়, সমগ্র জম্মু-কাশ্মীরের ভবিষ্যৎ নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে ভোট দেবেন। স্বাধীনতার পর, এই প্রথমবার এখানে এমন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে যেখানে ৩৭০ ধারা নেই এবং আলাদা কোনো পতাকা নেই। ন্যাশনাল কনফারেন্স এবং রাহুল বাবার মতো নেতারা বলছেন যে তারা ৩৭০ ধারা ফিরিয়ে আনবেন, কিন্তু আমি তাদের বলতে চাই, আপনাদের বা আপনাদের তিন প্রজন্মের পক্ষেও ৩৭০ ধারা ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে না।”
এই বক্তব্যের মাধ্যমে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ কংগ্রেস ও এনসি-কে তাদের রাজনৈতিক প্রচেষ্টাকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে বলেন, তারা যতই চেষ্টা করুক, ৩৭০ ধারার পুনরুদ্ধার করা কোনোভাবেই সম্ভব হবে না।
‘তিন পরিবারের রাজনৈতিক স্বার্থ এবং সন্ত্রাসবাদের প্রসার’
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ তার বক্তৃতায় কংগ্রেসের গান্ধী পরিবার, ন্যাশনাল কনফারেন্সের আবদুল্লাহ পরিবার এবং পিডিপি নেতা মুফতি পরিবারকে সরাসরি আক্রমণ করেন। তিনি বলেন, “এই তিনটি পরিবার জম্মু-কাশ্মীরে তাদের নিজস্ব লোকদের ভোটের টিকিট দিয়েছে এবং এর ফলে পুরো এলাকা দুর্নীতিগ্রস্ত হয়েছে। তিনটি পরিবারের মাধ্যমে তারা শুধু ৮৭ জন বিধায়ক তৈরি করেছে। কিন্তু বিজেপি জম্মু-কাশ্মীরের প্রত্যন্ত গ্রাম পর্যন্ত পৌঁছে ৩০,০০০ এরও বেশি পঞ্চ, সরপঞ্চ এবং তহসিল পঞ্চায়েতের প্রতিনিধিকে নির্বাচন করতে সহায়তা করেছে।”
অমিত শাহ আরও বলেন, “এই তিনটি পরিবার জম্মু-কাশ্মীরে একটি দুর্নীতির স্রোত তৈরি করেছিল, যা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তল থেকে পরিষ্কার করেছেন।”
এছাড়াও, পড়ুন :5G বাজারের আকার এবং শেয়ার বিশ্লেষণের জন্য গ্লোবাল থার্মাল ইন্টারফেস উপাদান
‘৩৭০ ধারার অবলুপ্তির পর প্রথম নির্বাচন’
অমিত শাহের মতে, ২০১৯ সালে ৩৭০ ধারা বিলুপ্তির পর জম্মু-কাশ্মীরে এই প্রথম বিধানসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ৩৭০ ধারার বিলুপ্তির ফলে জম্মু-কাশ্মীরে বিশেষ মর্যাদা বিলুপ্ত হয়েছে এবং কেন্দ্র শাসিত অঞ্চল হিসাবে জম্মু-কাশ্মীরের উন্নয়নের জন্য নতুন পথ উন্মুক্ত হয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, বিজেপি সরকার জম্মু-কাশ্মীরে শান্তি এবং উন্নয়নের জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তিনি বলেন, “৩৭০ ধারার বিলুপ্তির ফলে জম্মু-কাশ্মীরের সাধারণ মানুষ প্রকৃত উন্নয়নের স্বাদ পাচ্ছেন এবং সন্ত্রাসবাদের আধিপত্য কমেছে। এই ধারা পুনরুদ্ধারের কোনো প্রয়োজন নেই এবং কংগ্রেস বা ন্যাশনাল কনফারেন্স যে এটিকে ফিরিয়ে আনতে চায়, তা সম্পূর্ণ অসম্ভব।”
বিজেপির উন্নয়নের অঙ্গীকার
অমিত শাহ তার বক্তৃতায় বিজেপির উন্নয়নমূলক কাজের উপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, “বিজেপি সরকার জম্মু-কাশ্মীরে যে সব উন্নয়নমূলক প্রকল্প শুরু করেছে, তা খুব শীঘ্রই বাস্তবায়িত হবে। আমরা জম্মু-কাশ্মীরের প্রত্যন্ত এলাকাগুলিকে উন্নয়নের মূল ধারায় নিয়ে আসার জন্য বদ্ধপরিকর।”
এছাড়াও তিনি জম্মু-কাশ্মীরের স্থানীয় প্রশাসন এবং পঞ্চায়েতি রাজ ব্যবস্থার উপর জোর দেন। তার মতে, বিজেপি সরকার পঞ্চায়েত ব্যবস্থার মাধ্যমে সাধারণ মানুষের ক্ষমতায়ন করেছে, যা পূর্ববর্তী শাসনকালে কখনো সম্ভব হয়নি।
চেনানিতে বিজেপির সমর্থনে জনসভা
চেনানির এই জনসভায় অমিত শাহের বক্তৃতা শুনতে কয়েক হাজার মানুষ উপস্থিত ছিলেন। সমাবেশে বিজেপির স্থানীয় নেতারা এবং অন্যান্য কেন্দ্র ও রাজ্যের শীর্ষ নেতারাও উপস্থিত ছিলেন।
অমিত শাহের ভাষণকে বিজেপির সমর্থকরা বিশেষভাবে ইতিবাচক হিসেবে গ্রহণ করেছেন। তাদের মতে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য বিজেপির ভোট ব্যাংককে আরও শক্তিশালী করবে এবং জম্মু-কাশ্মীরে বিজেপির ভবিষ্যৎ নির্বাচনী সাফল্যে বড় ভূমিকা রাখবে।