জম্মু ও কাশ্মীর নির্বাচন: ফারুক আবদুল্লার পিডিপি জোটের ইঙ্গিত নিয়ে ওমর আবদুল্লাহর প্রতিক্রিয়া, ‘আমি সত্যিই চাই…’

ওমর আবদুল্লার ন্যাশনাল কনফারেন্সকে সমর্থন দিলেন চার স্বতন্ত্র বিধায়ক

জম্মু ও কাশ্মীর নির্বাচন: ফারুক আবদুল্লার পিডিপি জোটের ইঙ্গিত নিয়ে ওমর আবদুল্লাহর প্রতিক্রিয়া, ‘আমি সত্যিই চাই…’

জম্মু ও কাশ্মীরের জাতীয় সম্মেলনের (এনসি) নেতা ওমর আবদুল্লাহ, পিপলস ডেমোক্রেটিক পার্টির (পিডিপি) সঙ্গে সম্ভাব্য জোটের বিষয়ে যে জল্পনা চলছে, তা সময়ের আগে বলেই উল্লেখ করেছেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, এই মুহূর্তে এমন কোনো প্রস্তাব আসেনি এবং ভোটের ফলাফলও জানা যায়নি। এ বিষয়ে গুজব ছড়ানো থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

সম্প্রতি ফারুক আবদুল্লাহ, এনসি সভাপতি, বলেছেন যে প্রয়োজনে তাঁর দল পিডিপির সমর্থন নেওয়ার বিষয়ে আলোচনা করতে পারে। তবে এনসি’র সহ-সভাপতি ওমর আবদুল্লাহ সেই সম্ভাবনাকে অসময়োপযোগী বলে খারিজ করে দিয়েছেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, বর্তমান পরিস্থিতিতে ভোটারদের সিদ্ধান্ত না জানার কারণে এ ধরনের জল্পনা সঠিক নয়।

“ওরা এখনও সমর্থন দেয়নি, সমর্থন প্রস্তাব করেনি এবং আমরা এখনও জানি না ভোটাররা কী সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। আমি সত্যিই চাই, আগামী ২৪ ঘণ্টা এই সমস্ত অনুমান বন্ধ রাখা হোক,” বলেন ওমর আবদুল্লাহ তাঁর এক্স পোস্টে। এর আগেও তিনি এ ধরনের বিবৃতির মাধ্যমে গুজবের অবসান ঘটানোর চেষ্টা করেছেন।

ফারুক আবদুল্লাহর মন্তব্য

এদিকে, ফারুক আবদুল্লাহ সোমবার বলেছেন যে, তাঁর দল পিডিপির সমর্থন গ্রহণের সম্ভাবনাকে উন্মুক্ত রেখেছে। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, “নির্বাচনে আমরা প্রতিদ্বন্দ্বী হতে পারি, কিন্তু প্রয়োজনে পিডিপির সমর্থন নেওয়ার বিষয়ে আমার কোনো আপত্তি নেই। আমি নিশ্চিত যে কংগ্রেসও এতে কোনো আপত্তি করবে না।”

এই বক্তব্যের পর থেকেই জম্মু ও কাশ্মীরের রাজনৈতিক মহলে আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। এনসি এবং পিডিপি, দুই প্রধান রাজনৈতিক দল হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে একে অপরের প্রতিদ্বন্দ্বী। বিশেষ করে ২০১৫ সালে জম্মু ও কাশ্মীরে মুফতি মোহাম্মদ সাঈদের নেতৃত্বাধীন পিডিপি-বিজেপি জোটের সরকার গঠনের পর থেকে এই দুই দলের সম্পর্ক আরও জটিল হয়েছে। সেই প্রেক্ষাপটে ফারুক আবদুল্লাহর মন্তব্য অনেকটাই অপ্রত্যাশিত ছিল।

সরকার গঠন নিয়ে বিতর্ক

এদিকে, ওমর আবদুল্লাহ লোকসভার সদস্য শেখ আবদুল রশিদের পরামর্শের তীব্র সমালোচনা করেছেন। রশিদ সম্প্রতি বলেছেন যে, জম্মু ও কাশ্মীরের পূর্ণ রাজ্যের মর্যাদা পুনরুদ্ধার না হওয়া পর্যন্ত নতুন সরকার গঠন করা উচিত নয়। রশিদের বক্তব্যে তিনি আপত্তি জানিয়ে বলেছেন, “এটি শুধুমাত্র বিজেপিকে উপকৃত করবে,” যেহেতু বিজেপি চাইবে কেন্দ্রীয় শাসন অব্যাহত থাকুক।

ওমর আরও বলেন, “রাজ্য পুনরুদ্ধারের প্রক্রিয়া রাজ্য পরিষদ এবং জনমত দ্বারা পরিচালিত হওয়া উচিত, কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক শক্তির দ্বারা নয়।” তিনি রশিদের এই পরামর্শকে বিজেপির পরিকল্পনাকে সুবিধা দেওয়ার জন্য একটি কৌশল বলে উল্লেখ করেছেন। বিজেপির উদ্দেশ্য হলো, কেন্দ্রীয় শাসনের সময়সীমা বৃদ্ধি করে নিজেদের সুবিধামতো নির্বাচন পরিচালনা করা।

ওমরের এই মন্তব্য রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। জম্মু ও কাশ্মীরে কেন্দ্রীয় শাসন অব্যাহত থাকায়, স্থানীয় নেতারা ক্রমশই উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন। বিশেষত ২০১৯ সালে জম্মু ও কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বাতিল করার পর থেকে রাজনৈতিক পরিস্থিতি বেশ চাপের মধ্যে রয়েছে।

   এছাড়াও, পড়ুন : হাই-এন্ড ইলেকট্রিক গিটার শিল্পে স্থায়িত্ব প্রবণতা


আসন্ন নির্বাচনের প্রেক্ষাপট

জম্মু ও কাশ্মীরে আসন্ন নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক উত্তেজনা তুঙ্গে। বিশেষ মর্যাদা প্রত্যাহারের পর এটি প্রথম নির্বাচনী প্রক্রিয়া, যা জম্মু ও কাশ্মীরের ভবিষ্যতের রাজনীতি নির্ধারণ করবে। এনসি এবং পিডিপি, দুই প্রধান দলই প্রভাব বিস্তারের জন্য জোরদার প্রচারণা চালাচ্ছে। অন্যদিকে বিজেপিও তাদের শক্তি প্রদর্শনে প্রস্তুত।

এনসি এবং পিডিপি’র মধ্যে সম্ভাব্য জোটের জল্পনা নিয়ে এখনও পুরোপুরি পরিষ্কার কিছু জানা যায়নি। তবে ফারুক আবদুল্লাহর মন্তব্য এবং ওমরের বক্তব্যের মাধ্যমে স্পষ্ট হচ্ছে যে, এই মুহূর্তে এনসি কোনো সিদ্ধান্ত নিতে ইচ্ছুক নয় এবং ভোটের ফলাফল না জানা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে চায়।

সমাপ্তির আগ মুহূর্তে গুজব বন্ধের আহ্বান

ওমর আবদুল্লাহ ভোটের ফলাফলের আগেই অযথা গুজব না ছড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন। “ভোটারদের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। আমরা তাদের সিদ্ধান্তের প্রতি পূর্ণ সম্মান জানাই এবং সঠিক সময়েই সমস্ত পদক্ষেপ নেব,” বলেন তিনি।

এদিকে, জম্মু ও কাশ্মীরের রাজনীতির আসন্ন নির্বাচনের ফলাফল এবং পরবর্তী সরকার গঠন নিয়ে সবার চোখ এখন ভোট গণনার দিকে।