কানাডার সঙ্গে কূটনৈতিক সংঘাতে জয়শঙ্করের বড় আক্রমণ: ‘ডাবল স্ট্যান্ডার্ডস বলাও কম’

কানাডার সঙ্গে কূটনৈতিক সংঘাতে জয়শঙ্করের বড় আক্রমণ: ‘ডাবল স্ট্যান্ডার্ডস বলাও কম’

কানাডার সঙ্গে কূটনৈতিক সংঘাতে জয়শঙ্করের বড় আক্রমণ: ‘ডাবল স্ট্যান্ডার্ডস বলাও কম’

ভারত ও কানাডার মধ্যে চলমান কূটনৈতিক সংঘাতের মধ্যে, ভারত ছয়জন কানাডিয়ান কূটনীতিবিদকে বহিষ্কার করে এবং ভারতীয় রাষ্ট্রদূতকে ফিরিয়ে আনে। এই পদক্ষেপটি আসে কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডোর মন্তব্যের পর, যেখানে তিনি হরদীপ সিং নিজ্জার হত্যাকাণ্ডের তদন্তের সঙ্গে ভারতের সম্পৃক্ততার অভিযোগ তোলেন।

এই পরিস্থিতিতে, ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রী এস জয়শঙ্কর সোমবার কানাডার কূটনৈতিক নীতি নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেন। দিল্লিতে ‘এনডিটিভি ওয়ার্ল্ড সামিট ২০২৪: দ্য ইন্ডিয়া সেঞ্চুরি’ অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, কানাডা দ্বৈত মানদণ্ড অনুসরণ করছে এবং তাদের দেশে কূটনীতিকদের প্রতি তারা যে বিধিনিষেধ আরোপ করে তা ভারতীয় কূটনীতিকদের জন্য ভিন্ন।

জয়শঙ্কর বলেন, “তাদের দেশে তারা যা অনুমোদন দেয় এবং আমাদের দেশে যা চায়, তা একেবারেই আলাদা। যখন আমরা তাদের বলি, আপনার দেশে খোলাখুলিভাবে ভারতের নেতাদের এবং ভারতের কূটনীতিকদের হুমকি দেওয়া হচ্ছে, তখন তারা ‘মতপ্রকাশের স্বাধীনতা’র কথা বলে। কিন্তু যখন কোনও ভারতীয় সাংবাদিক সোশ্যাল মিডিয়ায় মন্তব্য করে, তা তাদের কাছে বিদেশী হস্তক্ষেপ হিসেবে দেখা হয়।”

এই বক্তব্যের মাধ্যমে জয়শঙ্কর কানাডার ‘ডাবল স্ট্যান্ডার্ড’ নিয়ে সরাসরি আক্রমণ করেন এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে কানাডার আচরণের দ্বৈত নীতির দিকে ইঙ্গিত করেন।

তিনি আরও বলেন, “যখন কোনও ভারতীয় সাংবাদিক বলে, কানাডার হাই কমিশনার সাউথ ব্লক থেকে বের হয়ে খুব রাগী মুখে ছিলেন, তখন তা কানাডার কাছে বিদেশী হস্তক্ষেপ হিসেবে ধরা হয়। এমন দ্বৈত মানদণ্ড রয়েছে, যা বলা কম। এমনকি ‘ডাবল স্ট্যান্ডার্ড’ বলাও এদের জন্য মৃদু কথা।”

কানাডার অভিযোগ ও ভারতীয় প্রতিক্রিয়া
কানাডা ও ভারতের মধ্যে কূটনৈতিক উত্তেজনা ২০২৩ সালের মাঝামাঝি থেকে শুরু হয়, যখন কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো প্রকাশ্যে দাবি করেন যে, খালিস্তানি নেতা হরদীপ সিং নিজ্জার হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে ভারত সরকারের যোগসূত্র থাকতে পারে। এই অভিযোগের পর, উভয় দেশের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক জটিল হয়। কানাডা প্রথমে একজন ভারতীয় কূটনীতিককে বহিষ্কার করে, এবং এর জবাবে ভারতও কানাডার বেশ কয়েকজন কূটনীতিককে দেশ থেকে বহিষ্কার করে।

ভারত বরাবরই কানাডার এই অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে প্রত্যাখ্যান করেছে। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রক একাধিকবার জানিয়েছে যে, খালিস্তানি কার্যকলাপের সঙ্গে ভারতের কোনও সংযোগ নেই এবং কানাডা তার দেশে খালিস্তানিদের মুক্ত পরিবেশ দিচ্ছে, যা ভারত-কানাডা সম্পর্ককে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।

এই প্রসঙ্গে জয়শঙ্কর বলেন, “আমরা এমন একটি পরিবর্তনশীল বিশ্বে রয়েছি, যেখানে কিছু বড় পরিবর্তনের প্রয়োজন। তারা তাদের মতো করে কাজ করবে, তবে সেটি আমাদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। এই বড় পরিবর্তনগুলির সঙ্গে তাদের মানিয়ে চলা উচিত।”

মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নাকি হুমকি?
কানাডার মতপ্রকাশের স্বাধীনতার উপর বিশেষভাবে আক্রমণ করে জয়শঙ্কর বলেন, “যখন ভারতীয় কূটনীতিকদের প্রকাশ্যে হুমকি দেওয়া হয়, তখন সেটিকে তারা মতপ্রকাশের স্বাধীনতা বলে চালিয়ে দেয়। কিন্তু যখন কোনও ভারতীয় সাংবাদিক কোনও সমালোচনা করে, তখন সেটি বিদেশী হস্তক্ষেপ হয়ে যায়।”

ভারতের তরফ থেকে বারবার অভিযোগ করা হয়েছে যে, কানাডা খালিস্তানি চরমপন্থীদের বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা নিচ্ছে না। এর ফলে কানাডায় ভারতীয় কূটনীতিক ও নেতাদের বিরুদ্ধে হুমকির ঘটনা বৃদ্ধি পাচ্ছে। ভারত একাধিকবার এ বিষয়টি নিয়ে কানাডার কাছে আপত্তি জানিয়েছে, কিন্তু কানাডা ‘মতপ্রকাশের স্বাধীনতা’র অজুহাতে তা উপেক্ষা করে আসছে।

এছাড়াও, পড়ুন : ওয়াটার মিটার মার্কেট: উদ্ভাবন এবং স্থায়িত্বের প্রবাহকে নেভিগেট করা


কূটনৈতিক সম্পর্কের অবনতির সম্ভাবনা
ভারত ও কানাডার মধ্যে চলমান এই কূটনৈতিক সংঘাত বিশ্ব রাজনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ভারত ইতিমধ্যেই কানাডার বেশ কয়েকজন কূটনীতিককে বহিষ্কার করেছে এবং কানাডার সঙ্গে বাণিজ্যিক ও কূটনৈতিক সম্পর্ক আরও খারাপ হতে পারে বলে অনেকের আশঙ্কা রয়েছে।

এদিকে, কানাডা ও ভারতের মধ্যে এই উত্তেজনার ফলে কানাডায় বসবাসরত ভারতীয়দের উপর এর প্রভাব কী হবে, সে বিষয়েও উদ্বেগ রয়েছে। তবে ভারতীয় সরকার বারবার আশ্বাস দিয়েছে যে, তারা কানাডায় বসবাসরত ভারতীয়দের সুরক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।

ভারত-কানাডা সম্পর্কের ভবিষ্যৎ
ভারত-কানাডা সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে এখন অনেক জল্পনা রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, দুই দেশের মধ্যে এই কূটনৈতিক উত্তেজনা যদি আরও দীর্ঘস্থায়ী হয়, তবে এটি উভয় দেশের জন্যই ক্ষতিকারক হতে পারে।

তবে এখন পর্যন্ত ভারতের পক্ষ থেকে কোনও সমঝোতার ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি, বরং জয়শঙ্করের বক্তব্যে এটিই স্পষ্ট হয়েছে যে, ভারত কানাডার বিরুদ্ধে তাদের অবস্থানে অনড় থাকবে।