কর্ণাটক সরকার সিবিআই-কে “পক্ষপাতদুষ্ট” বলে অভিযোগ করে সাধারণ সম্মতি প্রত্যাহার করল

কর্ণাটক সরকার সিবিআই-কে “পক্ষপাতদুষ্ট” বলে অভিযোগ করে সাধারণ সম্মতি প্রত্যাহার করল
বেঙ্গালুরু: কর্ণাটক সরকার বৃহস্পতিবার সেন্ট্রাল ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশন (CBI)-এর সাধারণ সম্মতি প্রত্যাহার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। রাজ্যের আইন ও সংসদীয় বিষয়ক মন্ত্রী এইচকে পাতিল এক সাংবাদিক সম্মেলনে এই সিদ্ধান্তের কথা জানান। কর্ণাটকের মুখ্যমন্ত্রী সিদ্দারামাইয়া নেতৃত্বাধীন মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর এই ঘোষণাটি আসে।
মন্ত্রী পাতিল বলেন, “দিল্লি স্পেশাল পুলিশ এস্টাব্লিশমেন্ট অ্যাক্ট, ১৯৪৬ অনুযায়ী কর্ণাটক রাজ্যে অপরাধ তদন্তের জন্য সিবিআই-কে দেওয়া সাধারণ সম্মতিটি প্রত্যাহার করা হয়েছে।” এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে কর্ণাটক রাজ্য সরকার CBI-কে মামলার ক্ষেত্রে স্বাধীনভাবে তদন্ত করার সুযোগ বন্ধ করেছে। এখন থেকে প্রতিটি মামলায় পৃথক অনুমতির প্রয়োজন হবে।
সিবিআই-এর “পক্ষপাত” নিয়ে অভিযোগ
সিবিআই সম্পর্কে কর্ণাটক সরকারের প্রধান অভিযোগ হল, এই কেন্দ্রীয় সংস্থা “পক্ষপাতদুষ্ট” হয়ে কাজ করছে। মন্ত্রী পাতিল বলেন, “স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে যে সিবিআই বা কেন্দ্রীয় সরকার তাদের যন্ত্রপাতিগুলি ন্যায়বিচারমূলকভাবে ব্যবহার করছে না। তাই আমরা প্রতিটি মামলার ভিত্তিতে তদন্তের অনুমতি দেব। সাধারণ সম্মতি প্রত্যাহার করা হয়েছে।”
এই সিদ্ধান্তটি মূলত একটি বিবাদমূলক প্রেক্ষাপটে এসেছে। সম্প্রতি মাইসোর আরবান ডেভেলপমেন্ট অথরিটি (MUDA)-এর বিরুদ্ধে কিছু অভিযোগ উঠেছিল। রাজ্য সরকারের মতে, কেন্দ্রীয় সংস্থা সিবিআই সেই তদন্তগুলিতে সঠিকভাবে কাজ করছে না, এবং সেই কারণেই তারা সিবিআই-এর বিরুদ্ধে এই পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।
সিবিআই-এর ক্ষমতা এবং রাজ্য সরকারের সম্মতি
কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা সিবিআই-এর ক্ষমতা সব রাজ্যের মধ্যে একভাবে কাজ করার জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের সম্মতির উপর নির্ভরশীল। তবে, প্রত্যেক রাজ্যের নিজস্ব প্রশাসনিক অধিকার রয়েছে যে তারা সিবিআই-কে নিজেদের রাজ্যে কাজ করার জন্য সাধারণ সম্মতি দেবে কিনা। এর মাধ্যমে রাজ্য সরকারগুলি কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থার তদন্ত কার্যক্রমে নিয়ন্ত্রণ রাখতে পারে।
একই ধরনের পদক্ষেপ ইতিমধ্যেই পশ্চিমবঙ্গ, ছত্তিশগড়, মহারাষ্ট্রসহ অন্যান্য কয়েকটি রাজ্য সরকারের দ্বারা গ্রহণ করা হয়েছে। এইসব রাজ্যগুলি তাদের অভিযোগ করেছে যে সিবিআই নির্দিষ্টভাবে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে কাজ করছে। কর্ণাটক সরকারের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্ত সেই তালিকায় নতুন একটি সংযোজন।
এছাড়াও, পড়ুন : ভেটেরিনারি ডেন্টাল এক্সট্রাকশন ইনস্ট্রুমেন্টস মার্কেটে বৃদ্ধির সুযোগ এবং চ্যালেঞ্জগুলি কী কী?
রাজ্য সরকারের বিরোধী দলগুলির প্রতিক্রিয়া
এই সিদ্ধান্তের পর রাজ্য সরকারের বিরোধী দলগুলি এর তীব্র সমালোচনা করেছে। বিজেপি নেতারা অভিযোগ করেছেন যে রাজ্য সরকার দুর্নীতি ঢাকার জন্য এই পদক্ষেপ নিচ্ছে। তাদের মতে, MUDA সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মামলা থেকে দৃষ্টি সরানোর জন্য সরকার সিবিআই-কে নিষ্ক্রিয় করছে।
বিজেপি মুখপাত্র বলেন, “রাজ্য সরকার বুঝতে পারছে যে সিবিআই সত্যকে প্রকাশ করবে, তাই তারা তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত বন্ধ করার জন্য সাধারণ সম্মতি প্রত্যাহার করছে।” বিরোধী দলের দাবি, সিবিআই-এর তদন্ত বন্ধ করা মানে জনগণের অধিকার কেড়ে নেওয়া।
সিদ্দারামাইয়া সরকারের প্রতিক্রিয়া
মুখ্যমন্ত্রী সিদ্দারামাইয়া এই সিদ্ধান্তকে “নিয়মতান্ত্রিক এবং ন্যায়বিচারমূলক” বলে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি দাবি করেছেন যে এই পদক্ষেপ জনগণের স্বার্থ রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয়। মুখ্যমন্ত্রীর মতে, কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা যখন পক্ষপাতদুষ্ট হয়ে কাজ করে, তখন রাজ্যের অধিকার রয়েছে সেই সংস্থার ক্ষমতাকে সীমাবদ্ধ করতে।
আইনগত প্রেক্ষাপট
দিল্লি স্পেশাল পুলিশ এস্টাব্লিশমেন্ট অ্যাক্ট অনুযায়ী, সিবিআই কোনও রাজ্যের মধ্যে কার্যক্রম পরিচালনা করার জন্য সেই রাজ্যের সাধারণ সম্মতি প্রয়োজন। তবে, এই সম্মতি না থাকলে কেন্দ্র সরকার পৃথক মামলার জন্য অনুমতি দিতে পারে।
রাজ্যগুলির সাধারণ সম্মতি প্রত্যাহারের পরেও, কেন্দ্রীয় সরকার প্রয়োজন অনুযায়ী পৃথক অনুমতি দিতে পারে। তবে এতে কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারের মধ্যে সাংবিধানিক জটিলতা দেখা দিতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের পদক্ষেপগুলি মূলত রাজনৈতিক এবং প্রশাসনিক সংঘাতের প্রতিফলন।
সিবিআই-এর আগের ভূমিকা এবং বর্তমান অবস্থা
সিবিআই কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা হিসেবে দেশের বিভিন্ন বড় মামলার তদন্ত করে থাকে। বিভিন্ন রাজ্যে সরকারের সাধারণ সম্মতি থাকলে তারা নির্দিষ্ট মামলা তদন্তে স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারে। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিভিন্ন রাজ্যের সরকার সিবিআই-এর কাজ নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। এর ফলে কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারের মধ্যে একটি টানাপোড়েন সৃষ্টি হয়েছে।