ওমর আবদুল্লার ন্যাশনাল কনফারেন্সকে সমর্থন দিলেন চার স্বতন্ত্র বিধায়ক

ওমর আবদুল্লার ন্যাশনাল কনফারেন্সকে সমর্থন দিলেন চার স্বতন্ত্র বিধায়ক
জম্মু ও কাশ্মীরের সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনে একক বৃহত্তম দল হিসেবে উঠে আসা ন্যাশনাল কনফারেন্স (এনসি) আজ আরও একটি বড় সাফল্য অর্জন করেছে। ৯০ সদস্যের বিধানসভায় ৪২টি আসন জয়ের পর, এনসি আজ চারজন স্বতন্ত্র বিধায়কের সমর্থন লাভ করেছে। এই সমর্থনের ফলে এনসির মোট বিধায়ক সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪৬-এ, যা ৯০ আসনের বিধানসভায় একেবারে সংখ্যাগরিষ্ঠতার সীমা পূর্ণ করছে।
ন্যাশনাল কনফারেন্সের সহ-সভাপতি এবং প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লা এই ঘোষণা করেছেন। দলের নবনির্বাচিত বিধায়কদের দ্বারা সর্বসম্মতভাবে তাকে এনসির বিধানসভা দলের নেতা হিসেবে নির্বাচিত করার পর, এই চারজন স্বতন্ত্র বিধায়ক তার প্রতি সমর্থন জানান। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লা শ্রীনগরে এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এই তথ্য জানান।
চার স্বতন্ত্র বিধায়কের পরিচয়
এই চারজন স্বতন্ত্র বিধায়ক হলেন পেয়ারে লাল শর্মা, সত্য শর্মা, চৌধুরী মোহাম্মদ আকরাম এবং ডঃ রামেশ্বর সিং। পেয়ারে লাল শর্মা ইন্দারওয়াল আসন থেকে, সত্য শর্মা চম্ব আসন থেকে, চৌধুরী মোহাম্মদ আকরাম সুরাঙ্কোট থেকে এবং ডঃ রামেশ্বর সিং বানি আসন থেকে নির্বাচিত হয়েছেন। নির্বাচন কমিশনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই চারজন বিধায়কের বিজয়ী হওয়ার ব্যবধান যথাক্রমে ৬৪৩, ৬৯২৯, ৮৮৫১ এবং ২০৪৮ ভোট।
এনসির শক্তিবৃদ্ধি
এনসি ৪২টি আসন নিয়ে প্রথমে সবচেয়ে বড় দল হিসেবে নির্বাচিত হলেও, সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজনীয় ৪৬টি আসনের অভাব ছিল। কিন্তু এই চার স্বতন্ত্র বিধায়কের সমর্থন পাওয়ার ফলে দলটি এখন সরাসরি সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করেছে। এই সমর্থনের ফলে, এনসি এখন তাদের প্রাক-নির্বাচনী জোটসঙ্গী কংগ্রেসের সহায়তা ছাড়াই সরকার গঠনের জন্য প্রস্তুত।
এটি জম্মু ও কাশ্মীরের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ঘটনা, কারণ ২০১৯ সালে এর বিশেষ মর্যাদা হারিয়ে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে পরিণত হওয়ার পর এটিই প্রথম বিধানসভা নির্বাচন। ফারুক আবদুল্লার নেতৃত্বে থাকা দলটি প্রায় পাঁচ বছর পরে আবার সরকার গঠনের পথে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষণ
জম্মু ও কাশ্মীরের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নির্বাচনে প্রথম অবস্থান লাভ করার পর, ন্যাশনাল কনফারেন্স প্রথম থেকেই স্বতন্ত্রদের দিকে নজর দিয়েছিল। স্বতন্ত্র প্রার্থীরা নির্বাচনের সময় কোনো নির্দিষ্ট দলের সঙ্গে জোটবদ্ধ না হলেও, তাদের সমর্থন সরকার গঠনে প্রায়ই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
ওমর আবদুল্লা, যিনি প্রায় নিশ্চিতভাবেই পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী হতে চলেছেন, দীর্ঘদিন ধরে এই অঞ্চলে একটি শক্তিশালী রাজনৈতিক নেতা হিসেবে পরিচিত। তিনি দলের অভ্যন্তরে ও বাহ্যিকভাবে শক্তিশালী সমর্থন বজায় রেখেছেন। তার পিতা ফারুক আবদুল্লাও জম্মু ও কাশ্মীরের একজন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী এবং এনসির প্রতিষ্ঠাতা নেতা। তাদের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা এবং পরিবারগত ভিত্তি তাদের দলকে শক্তিশালী ভিত্তি প্রদান করেছে।
এছাড়াও, পড়ুন : গ্লোবাল 1,5-পেন্টেনডিওল বাজারের আকার 2023 সালে USD 34.00 মিলিয়ন ছিল, এই প্রতিবেদনটি বাজারের বৃদ্ধি, প্রবণতা, সুযোগ এবং পূর্বাভাস 2024-2030 কভার করে
দলের অভ্যন্তরীণ অবস্থা
এই নির্বাচনের ফলাফলের পর, এনসি বিধানসভায় একটি শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। ওমর আবদুল্লার নেতত্বে বিধানসভার দল একমত হয়েছেন, যা দলের ঐক্য ও স্থায়িত্বের ইঙ্গিত দেয়। দলের অনেক প্রবীণ নেতাও এই নির্বাচনী সাফল্যে খুশি। ওমর আবদুল্লা সংবাদমাধ্যমের সামনে বলেছেন, “আমাদের দল নতুন যুগের পথে এগোচ্ছে, এবং আমরা জম্মু ও কাশ্মীরের মানুষের জন্য একটি স্থিতিশীল সরকার প্রদান করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”
সমর্থকদের প্রতিক্রিয়া
এনসি সমর্থকদের মধ্যে এই রাজনৈতিক অগ্রগতিতে আনন্দের হাওয়া বইছে। জম্মু ও কাশ্মীরের বিভিন্ন অঞ্চলে দলের সমর্থকদের মধ্যে উৎসবের আবহাওয়া লক্ষ্য করা গেছে। বিশেষ করে শ্রীনগরে এনসির প্রধান কার্যালয়ে দলের নেতাদের অভিনন্দন জানানোর জন্য সমর্থকদের ভিড় ছিল। অনেকেই মনে করছেন যে, দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সংঘাত ও অবস্থা থেকে বেরিয়ে এসে নতুন আশার সূচনা হয়েছে।
সরকার গঠনের দিক
যদিও এনসি এখন সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে এবং সরকার গঠন করার ক্ষেত্রে কোনো জটিলতা নেই, তবে জম্মু ও কাশ্মীরের রাজনৈতিক বাস্তবতা সবসময়ই অপ্রত্যাশিত। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের সমর্থন সব সময়ই একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এনসির পক্ষে পরবর্তী সময়ে রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করার জন্য দক্ষ নেতৃত্ব এবং সঠিক নীতি প্রণয়নের প্রয়োজন হবে। তবে, বর্তমান পরিস্থিতিতে দলটির শক্তিশালী অবস্থান এবং স্বতন্ত্রদের সমর্থন তাদের অগ্রগতির পথে নতুন দিগন্ত খুলে দিয়েছে।
এই রাজনৈতিক উন্নয়ন জম্মু ও কাশ্মীরের রাজনৈতিক দৃশ্যপটকে নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করতে পারে এবং আগামী দিনগুলোতে এর প্রভাব স্পষ্ট হবে।