‘আরএসএস-এর কাজ এখন মেঝেতে কার্পেট বিছানোয় সীমাবদ্ধ’: মোহন ভাগবতকে কেজরিওয়ালের কটাক্ষ

‘আরএসএস-এর কাজ এখন মেঝেতে কার্পেট বিছানোয় সীমাবদ্ধ’: মোহন ভাগবতকে কেজরিওয়ালের কটাক্ষ
দিল্লির প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী এবং আম আদমি পার্টির (AAP) কনভেনর অরবিন্দ কেজরিওয়াল শুক্রবার আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবতকে নিশানা করে বিজেপির মধ্যে দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত নেতাদের অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে তীব্র প্রশ্ন তোলেন। কেজরিওয়াল একটি চিঠির প্রসঙ্গ তুলে ভাগবতকে প্রশ্ন করেন, “বিজেপিতে দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত নেতাদের যোগদান নিয়ে মোদীজি কি সত্যিই সন্তুষ্ট? ভয় দেখিয়ে সিবিআই এবং ইডির মাধ্যমে তাদের দলে টানার কৌশল নিয়েও কি সন্তুষ্ট?”
কেজরিওয়াল তার বক্তব্যে বলেন, “সম্প্রতি আমি মোহন ভাগবতকে একটি চিঠি লিখেছি। সেই চিঠিতে আমি ৪-৫টি প্রশ্ন তুলেছি। এর মধ্যে অন্যতম একটি প্রশ্ন ছিল, মোহন ভাগবত কি মোদীজির সেই সিদ্ধান্তে খুশি, যেখানে তিনি ইডি এবং সিবিআইয়ের ভয় দেখিয়ে সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত নেতাদের বিজেপিতে যোগ দিতে বাধ্য করেছেন?”
‘অজিত পাওয়ার এর ৭০,০০০ কোটি টাকার কেলেঙ্কারি’
কেজরিওয়াল ২০২৩ সালের জুন মাসের একটি ঘটনার প্রসঙ্গ তুলে বলেন, “২৭ জুন, ২০২৩ তারিখে প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন যে, অজিত পাওয়ার ৭০,০০০ কোটি টাকার কেলেঙ্কারি করেছেন এবং পাঁচ দিন পর তাকে বিজেপিতে যোগদান করিয়ে মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রী বানানো হলো। আমি জিজ্ঞাসা করতে চাই, আপনাদের কি লজ্জা নেই?”
তিনি আরও বলেন, “বিজেপি যখন নিজেই অজিত পাওয়ার এর বিরুদ্ধে এত বড় কেলেঙ্কারির অভিযোগ করেছিল, তখন মাত্র পাঁচ দিনের মধ্যেই কিভাবে তাকে উপমুখ্যমন্ত্রীর পদে বসানো হল? এটা কি তাদের সততার প্রতীক?”
‘হিমন্ত বিশ্ব শর্মাকে দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়েছিল, তারপর বিজেপিতে যোগদান করানো হলো’
অরবিন্দ কেজরিওয়াল অসমের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার ঘটনাকেও উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, “২২ জুলাই ২০১৫-তে বিজেপি বলেছিল যে, হিমন্ত বিশ্ব শর্মা দুর্নীতিগ্রস্ত, কিন্তু এক মাসের মধ্যেই তাকে বিজেপিতে অন্তর্ভুক্ত করা হল। এরকম আরও ২৫ জন নেতা আছেন যারা বিজেপিতে মোদীজির ঘনিষ্ঠ। এটা কি তাদের সততার প্রমাণ?”
কেজরিওয়াল বলেন, “এই ২৫ জন নেতার বিরুদ্ধে দুর্নীতির গুরুতর অভিযোগ ছিল, কিন্তু বিজেপি তাদের দলে নিয়ে মোদীজির নেতৃত্বে সরকার চালাচ্ছে। এটাই কি বিজেপির স্বচ্ছতার প্রতীক?”
এছাড়াও, পড়ুন : উচ্চতা-অ্যাডজাস্টেবল মনিটর সাপোর্ট আর্ম মার্কেটের উদীয়মান বাজারের প্রবণতা কী?
মোহন ভাগবতকে সরাসরি প্রশ্ন
কেজরিওয়ালের বক্তব্যে আরএসএস এবং বিজেপির সম্পর্ক নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন তোলা হয়েছে। তিনি বলেন, “আমি মোহন ভাগবতকে জিজ্ঞাসা করেছি, তিনি কি বিজেপির বর্তমান অবস্থানে সন্তুষ্ট? কারণ তিনি যে সংগঠনের নেতৃত্ব দেন, সেই আরএসএস নিজেদের সততা এবং আদর্শ নিয়ে বরাবর গর্বিত। কিন্তু এখন বিজেপিতে দুর্নীতিগ্রস্ত নেতাদের যোগদানের ঘটনায় তিনি কি আদৌ কিছু বলছেন?”
আরও উল্লেখ্য, “বিজেপির শাসনকালে ইডি এবং সিবিআইয়ের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। এই দুই সংস্থা কি কেবলমাত্র বিরোধীদের দমন করার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে? কেন বিজেপিতে যোগদানের পর সেইসব নেতাদের বিরুদ্ধে আর কোনও তদন্ত হয় না?”
কেজরিওয়ালের মন্তব্যের প্রেক্ষাপটে বিজেপির প্রতিক্রিয়া
কেজরিওয়ালের এই মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় বিজেপির পক্ষ থেকে কোনও প্রতিক্রিয়া দেওয়া হয়নি। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, আসন্ন লোকসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে এই ধরনের আক্রমণ কেজরিওয়াল এবং আম আদমি পার্টির পক্ষে রাজনৈতিক মাইলেজ হিসেবে কাজ করতে পারে।
প্রসঙ্গত, কেজরিওয়াল আগেও মোদী সরকারের বিরুদ্ধে এধরনের অভিযোগ তুলেছেন এবং মোদী সরকারের নীতির তীব্র সমালোচনা করেছেন। তবে এবারের আক্রমণ সরাসরি আরএসএস এবং মোহন ভাগবতকে কেন্দ্র করে হওয়ায় বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।
কেজরিওয়াল এর বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি বিজেপি এবং আরএসএস-এর মধ্যে সম্পর্ক নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এবং এর মাধ্যমে তিনি যে আরএসএসকে চাপে ফেলতে চান, সেটাও স্পষ্ট।
রাজনৈতিক মহলে এই বক্তব্য নিয়ে আলোচনা চলছে এবং অনেকেই মনে করছেন, কেজরিওয়ালের এই বক্তব্য আসন্ন নির্বাচনে বিজেপির বিরোধীদের সমর্থনে কাজ করবে।
মোহন ভাগবত এবং আরএসএস-এর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন
আরএসএস বরাবরই নিজেদেরকে একটি সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন হিসেবে তুলে ধরেছে, যারা দেশের উন্নয়নে কাজ করে। কিন্তু কেজরিওয়ালের এই মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি দাবি করেছেন যে, আরএসএস-এর ভূমিকা এখন শুধুমাত্র কার্পেট বিছানোর মধ্যে সীমাবদ্ধ। তিনি আরও উল্লেখ করেছেন যে, আরএসএস-এর নীতি ও আদর্শ থেকে বিচ্যুত হয়েছে এবং বিজেপি সরকারকে সমর্থন করার জন্য তাদের আদর্শের সঙ্গে আপস করছে।