সাইক্লোন ডানা: ২০০টির বেশি ট্রেন বাতিল, বিমানের পরিষেবা স্থগিত; ওড়িশা ও পশ্চিমবঙ্গে জারি হাই অ্যালার্ট

সাইক্লোন ডানা: ২০০টির বেশি ট্রেন বাতিল, বিমানের পরিষেবা স্থগিত; ওড়িশা ও পশ্চিমবঙ্গে জারি হাই অ্যালার্ট

ওড়িশা উপকূলের দিকে দ্রুত ধাবমান সাইক্লোন ‘ডানা’-র কারণে ইতিমধ্যে ওড়িশা ও পশ্চিমবঙ্গ দুই রাজ্যেই সতর্কতা জারি করা হয়েছে। ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী মোহন চরণ মাঝি জানিয়েছেন যে, বুধবার সন্ধ্যা পর্যন্ত প্রায় ৩-৪ লক্ষ মানুষকে বিপজ্জনক এলাকা থেকে সরিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ে নেওয়া হয়েছে। এছাড়া পশ্চিমবঙ্গে প্রায় ১.১৪ লক্ষ মানুষকে আগে থেকেই ত্রাণ শিবিরে স্থানান্তর করা হয়েছে।

ওড়িশার প্রস্তুতি: লক্ষ্য ১০ লক্ষের বেশি মানুষকে সরিয়ে নেওয়া

সাইক্লোন ডানা’র আঘাত হানার সম্ভাব্য এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে ওড়িশার বেশ কয়েকটি উপকূলবর্তী জেলা। মুখ্যমন্ত্রী মোহন চরণ মাঝি জানিয়েছেন, মোট ১০ লক্ষ মানুষকে সরিয়ে নেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে, যার মধ্যে বুধবার সন্ধ্যা পর্যন্ত প্রায় ৩০ শতাংশ মানুষকে সুরক্ষিত স্থানে নেওয়া সম্ভব হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে এবং জনগণকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

কী জানাচ্ছে আবহাওয়া দফতর?

ভারতীয় আবহাওয়া অধিদফতরের (IMD) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, সাইক্লোন ডানা ওড়িশার উপকূলে ২৫ অক্টোবর সকাল নাগাদ আঘাত হানতে পারে। সাইক্লোনটির আঘাত হানার সম্ভাব্য স্থান হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে ভীতরকণিকা ন্যাশনাল পার্ক এবং ধামরা বন্দর এলাকাকে। তখন বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ১২০ কিমি পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে, যা প্রবল ধ্বংসাত্মক হতে পারে বলে সতর্ক করেছে IMD।

সাইক্লোনের প্রভাবে ওড়িশা ও পশ্চিমবঙ্গের উপকূলবর্তী এলাকায় প্রচুর বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে দক্ষিণ ২৪ পরগনা, উত্তর ২৪ পরগনা, পূর্ব মেদিনীপুর এবং কলকাতায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। বুধবার থেকে বৃষ্টি শুরু হলেও, শুক্রবার সকালে মূল আঘাত হানতে পারে বলে জানানো হয়েছে।

বিপুল সংখ্যক ট্রেন ও ফ্লাইট বাতিল

সাইক্লোন ডানা’র কারণে পূর্ব এবং দক্ষিণ পূর্ব রেলের অধীনে চলাচলকারী বেশ কয়েকটি ট্রেন ইতিমধ্যে বাতিল করা হয়েছে। ২৪ ও ২৫ অক্টোবরের জন্য পূর্ব রেল কর্তৃপক্ষ ২০০টির বেশি ট্রেন বাতিলের ঘোষণা করেছে। এর ফলে যাত্রীদের দুর্ভোগ চরমে উঠতে পারে। যাত্রীদের নিরাপত্তার স্বার্থে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে রেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। এছাড়াও, বেশ কয়েকটি বিমানের পরিষেবা স্থগিত রাখা হয়েছে।

কলকাতা বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে যে, বিমান চলাচলের ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে এবং প্রয়োজনে আরও বিমানের উড়ান বাতিল হতে পারে। যাত্রীদের বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

পশ্চিমবঙ্গের প্রস্তুতি: একাধিক জেলায় সতর্কতা

পশ্চিমবঙ্গেও সাইক্লোনের প্রভাব পড়ার আশঙ্কায় প্রশাসন সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করছে। দক্ষিণ ২৪ পরগনা, উত্তর ২৪ পরগনা, পূর্ব মেদিনীপুর এবং হাওড়া জেলায় ইতিমধ্যেই সতর্কতা জারি করা হয়েছে। রাজ্যের মুখ্য সচিব জানিয়েছেন, প্রায় ১.১৪ লক্ষ মানুষকে ইতিমধ্যে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং ত্রাণ শিবিরের ব্যবস্থা করা হয়েছে। বিভিন্ন বিপর্যয় মোকাবিলা দলকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে এবং উপকূলবর্তী এলাকায় উদ্ধারকাজ চালানোর জন্য বিশেষ দল মোতায়েন করা হয়েছে।

বিপর্যয় মোকাবিলা ও প্রস্তুতি

ওড়িশা ও পশ্চিমবঙ্গে বিপর্যয় মোকাবিলায় এনডিআরএফ (NDRF) এবং ওড়িশার বিশেষ বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী (ODRAF) মোতায়েন করা হয়েছে। ওড়িশার সাতটি উপকূলবর্তী জেলা এবং পশ্চিমবঙ্গের চারটি জেলায় এই বাহিনীকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীকে উদ্ধারকাজ ও ত্রাণ বিতরণের জন্য প্রশিক্ষিত করা হয়েছে। দুর্যোগের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে এমন এলাকাগুলিতে বিদ্যুৎ ও পানীয় জলের সরবরাহ নিশ্চিত করার জন্য প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

এছাড়াও, পড়ুন : কনফোকাল সেন্সর বাজারের আকার 8.60% এর CAGR-এ বাড়ছে, এই প্রতিবেদনটি 2024-2030 টাইপ, বিভাজন, বৃদ্ধি এবং পূর্বাভাস দ্বারা বিশ্লেষণ কভার করে

চন্দিপুরের পরিস্থিতি: জনজীবন প্রভাবিত

বালাসোরের চন্দিপুর সৈকত এলাকা ইতিমধ্যে জনশূন্য হয়ে পড়েছে। পর্যটকদের এলাকা থেকে সরে যেতে বলা হয়েছে, স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে স্থানান্তর করা হয়েছে। সৈকত এলাকায় প্রবল ঝোড়ো হাওয়া বইতে শুরু করেছে এবং সমুদ্রের ঢেউ উচ্চতায় বাড়ছে। বুধবার থেকে স্থানীয় প্রশাসন সৈকত ও আশেপাশের এলাকাগুলিতে সতর্কতা জারি করেছে এবং মানুষকে বাড়ির ভিতরে থাকার নির্দেশ দিয়েছে।

ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলিতে বিশেষ সতর্কতা

সাইক্লোনের প্রভাবে নদী উপকূলবর্তী অঞ্চল এবং নিম্নাঞ্চলীয় এলাকাগুলিতে বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এছাড়া, জলোচ্ছ্বাসের কারণে সমুদ্রের জলস্তর বাড়তে পারে, যা উপকূলীয় গ্রামগুলিকে ভাসিয়ে দিতে পারে। ওড়িশার ভদ্রক, জাজপুর, কটক, কেন্দ্রাপাড়া এবং খুরদা জেলায় বিশেষ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। প্রশাসন এইসব এলাকার মানুষদের অনুরোধ করেছে যেন তারা সতর্ক থাকেন এবং নির্দেশিত আশ্রয়কেন্দ্রে চলে যান।

জনগণকে কীভাবে সতর্ক থাকতে হবে

সরকারি সতর্কতা মেনে উপকূলবর্তী অঞ্চলের মানুষদের নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। আবহাওয়ার সতর্কতা মেনে চলা এবং স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশ মানা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নৌবাহিনী ও উপকূলরক্ষী বাহিনীর তরফ থেকে জাহাজ চলাচল বন্ধ রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া, মাছ ধরার নৌকাগুলিকে নিরাপদ স্থানে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং আগামী কয়েকদিনের জন্য সমুদ্রে না যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।