ভারতের কূটনৈতিকদের বিরুদ্ধে কানাডার পদক্ষেপে ভারত সরকারের কঠোর প্রতিবাদ
ভারতের কূটনৈতিকদের বিরুদ্ধে কানাডার পদক্ষেপে ভারত সরকারের কঠোর প্রতিবাদ
কানাডা এবং ভারতের মধ্যে কূটনৈতিক উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। সম্প্রতি কানাডা সরকার হরদীপ সিং নিজ্জারের হত্যাকাণ্ডের তদন্তে ভারতীয় হাইকমিশনার এবং অন্যান্য ভারতীয় কূটনীতিকদের “পূর্বসংশ্লিষ্ট ব্যক্তির” তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছে, যা নিয়ে ভারত সরকার তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে।
২০২৪ সালের ১৪ অক্টোবর, ভারত সরকারের পক্ষ থেকে কানাডার চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্সকে ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ডেকে পাঠানো হয়, এবং কানাডার এই পদক্ষেপের বিরুদ্ধে কড়া প্রতিবাদ জানানো হয়। সংবাদসূত্র অনুযায়ী, কানাডার এই পদক্ষেপকে ভারত “অযৌক্তিক ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত” বলে অভিহিত করেছে।
নিজ্জারের হত্যা এবং কানাডার অভিযোগ
কানাডায় বসবাসরত এবং পরিচিত খালিস্তানি নেতা হরদীপ সিং নিজ্জারকে ২০২৩ সালের জুন মাসে ব্রিটিশ কলাম্বিয়ায় গুলি করে হত্যা করা হয়। কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো কানাডার পার্লামেন্টে ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে নিজ্জারের হত্যাকাণ্ডের যোগসূত্রের সম্ভাবনা নিয়ে অভিযোগ করেন। সেই সময় থেকেই কানাডা এবং ভারতের সম্পর্কের মধ্যে উত্তেজনা ক্রমশ বাড়তে থাকে।
ভারত অবশ্য শুরু থেকেই এই অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে নাকচ করেছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, “প্রধানমন্ত্রী ট্রুডো ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে যে অভিযোগ তুলেছিলেন, সেই অভিযোগের সপক্ষে কানাডার পক্ষ থেকে আজ পর্যন্ত কোনও প্রমাণ দেওয়া হয়নি, যদিও ভারত বহুবার তা চেয়ে পাঠিয়েছে।” ভারতের পক্ষ থেকে বারবার স্পষ্ট করে জানানো হয়েছে যে, এই অভিযোগ সম্পূর্ণভাবে কানাডার অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিষয় এবং ভোট ব্যাংক রাজনীতির অংশ।
কানাডার পদক্ষেপের প্রেক্ষিতে ভারতের প্রতিবাদ
কানাডার সাম্প্রতিক পদক্ষেপ, যাতে ভারতীয় হাইকমিশনার এবং অন্য কূটনীতিকদের “পূর্বসংশ্লিষ্ট ব্যক্তির” তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, তা ভারতের দৃষ্টিতে অত্যন্ত আপত্তিজনক। ভারত এই পদক্ষেপকে কেবলমাত্র অযৌক্তিক বলেই নয়, বরং দুই দেশের সম্পর্ককে ক্ষুণ্ণ করার প্রচেষ্টা হিসেবেও দেখছে।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, “ভারত সরকার এই অযৌক্তিক অভিযোগগুলোকে দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করে এবং এই পদক্ষেপকে ট্রুডো সরকারের রাজনৈতিক উদ্দেশ্যের অংশ হিসেবে বিবেচনা করে, যার মূল লক্ষ্য ভোট ব্যাংক সংক্রান্ত রাজনীতি।” পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আরও জানায়, “এই ধরনের পদক্ষেপ দুই দেশের সম্পর্ককে শুধুমাত্র দুর্বল করে তুলবে।”
এছাড়াও, পড়ুন : পরিবাহী যৌগগুলির বাজারের আকার 3.20% এর CAGR-এ বৃদ্ধি পাচ্ছে, এই প্রতিবেদনটি 2024-2030 টাইপ, বিভাজন, বৃদ্ধি এবং পূর্বাভাস দ্বারা বিশ্লেষণ কভার করে
ভারতের কূটনৈতিক চাপ এবং কানাডার অনড় অবস্থান
উল্লেখযোগ্য যে, ২০২৩ সালে যখন এই অভিযোগ প্রথম প্রকাশ্যে আসে, তখন থেকেই ভারত ও কানাডার সম্পর্কের মধ্যে দৃশ্যমান বিরোধিতা শুরু হয়। ভারত কানাডায় বসবাসরত খালিস্তানি নেতাদের কর্মকাণ্ড নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছে। বিশেষ করে হরদীপ সিং নিজ্জার, যিনি ভারতের বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলনের অন্যতম মুখ্য ব্যক্তি ছিলেন, তাঁর হত্যাকাণ্ড নিয়ে কানাডার সরকারের অভিযোগ ভারতকে সরাসরি আক্রমণ করে বলে মনে করা হচ্ছে।
তবে কানাডা সরকারও তাদের অবস্থানে অনড় রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী ট্রুডো একাধিকবার বলেছেন, কানাডার ভূখণ্ডে কারও হত্যার তদন্ত অবশ্যই স্বাধীনভাবে করা হবে এবং এতে কোনও রাজনৈতিক প্রভাব থাকবে না। যদিও ভারত কানাডার এই তদন্তের উদ্দেশ্য নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছে এবং এই তদন্তের পিছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করছে।
দুই দেশের সম্পর্কের ভবিষ্যৎ
এই পরিস্থিতিতে ভারত এবং কানাডার সম্পর্ক যে কঠিন পরীক্ষার সম্মুখীন হচ্ছে, তা স্পষ্ট। দুই দেশই এখন পরস্পরের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলছে এবং কূটনৈতিক উত্তেজনার পরিসর ক্রমশ বাড়ছে। ভারতের কূটনীতিকদের বিরুদ্ধে কানাডার এই পদক্ষেপ এবং ভারতের কড়া প্রতিক্রিয়ার ফলে দুই দেশের সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে যথেষ্ট উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
যদিও ভারত সরকারের পক্ষ থেকে এই বিষয়ে কোনো ভবিষ্যৎ পরিপ্রেক্ষিতের কথা উল্লেখ করা হয়নি, তবে ভারতের কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক মহলে এই পদক্ষেপকে একটি বড় সংকট হিসেবে দেখা হচ্ছে। দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক উন্নয়নের জন্য কোন কৌশল নেওয়া হবে বা এই পরিস্থিতি কীভাবে সামাল দেওয়া হবে, তা ভবিষ্যতের উপর নির্ভর করছে।
কানাডা-ভারত সম্পর্কের এই নতুন মোড় বিশ্বের কূটনৈতিক মহলে বিশেষভাবে আলোচিত হচ্ছে, এবং উভয় দেশের সরকারই নিজেদের অবস্থানে দৃঢ় রয়েছে।