ভারতের রাশিয়ায় প্রযুক্তি সরবরাহের বৃদ্ধি: রাশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম সংবেদনশীল প্রযুক্তি সরবরাহকারী এখন ভারত

ভারতের রাশিয়ায় প্রযুক্তি সরবরাহের বৃদ্ধি: রাশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম সংবেদনশীল প্রযুক্তি সরবরাহকারী এখন ভারত
ভারত রাশিয়ার সামরিক-শিল্প কমপ্লেক্সে সংবেদনশীল প্রযুক্তি সরবরাহের ক্ষেত্রে দ্বিতীয় বৃহত্তম দেশ হয়ে উঠেছে, ইউরোপীয় ও মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে। সাম্প্রতিক তথ্য থেকে জানা গেছে, প্রায় এক পঞ্চমাংশ সংবেদনশীল প্রযুক্তি যা রাশিয়ার সামরিক ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হচ্ছে, তা ভারত থেকে রপ্তানি করা হচ্ছে। এই তথ্যটি পশ্চিমা দেশগুলোর জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে, যেগুলো ইউক্রেনের প্রতি সমর্থন জ্ঞাপন করে রাশিয়ার উপর নিষেধাজ্ঞা চাপিয়ে দিয়েছে।
ভারতের প্রযুক্তি রপ্তানি বৃদ্ধি
ব্লুমবার্গের একটি প্রতিবেদন অনুসারে, ২০২৪ সালের এপ্রিলে এবং মে মাসে ভারত থেকে রাশিয়ায় রপ্তানিকৃত সংবেদনশীল প্রযুক্তির মূল্য ছিল $৬০ মিলিয়নেরও বেশি, যা বছরের প্রথম দিকের তুলনায় দ্বিগুণ। জুলাই মাসে এই সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়ে $৯৫ মিলিয়নে পৌঁছায়। উল্লেখযোগ্য যে এই ধরনের প্রযুক্তির মধ্যে মাইক্রোচিপ, সার্কিট এবং মেশিন টুলস অন্তর্ভুক্ত, যা রাশিয়ার সামরিক উৎপাদন ব্যবস্থায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
নিষিদ্ধ প্রযুক্তি রপ্তানির কারণ
এই প্রযুক্তি রপ্তানির পরিমাণ বৃদ্ধি পাওয়ার মূল কারণ হিসেবে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ভারতের কিছু সংস্থা নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে রাশিয়ার সাথে বাণিজ্য বাড়াচ্ছে। চীনের পর ভারত এখন রাশিয়ায় সবচেয়ে বেশি নিষিদ্ধ প্রযুক্তি সরবরাহকারী দেশ। মার্কিন এবং ইউরোপীয় কর্মকর্তারা উল্লেখ করেছেন যে, এই ধরনের রপ্তানি রাশিয়ার সামরিক শক্তি বাড়াতে সহায়ক হচ্ছে এবং এটি ইউক্রেনের মিত্রদের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে।
পশ্চিমা দেশের উদ্বেগ
ভারতের এই প্রযুক্তি রপ্তানির প্রবণতা পশ্চিমা দেশগুলোকে বিশেষভাবে বিরক্ত করছে। তারা ইউক্রেনের প্রতি সমর্থন দেখিয়ে রাশিয়ার উপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা চাপানোর চেষ্টা করছে, তবে ভারত এবং চীন রাশিয়ার সাথে বাণিজ্য বৃদ্ধি করছে। বিশেষ করে, ইউক্রেনের মিত্ররা ভারতের কূটনৈতিক প্রতিনিধিদের সাথে এই বিষয়ে আলোচনা করার চেষ্টা করলেও সুনির্দিষ্ট কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি বলে জানা গেছে। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকার করেছে।
রাশিয়ার সামরিক ক্ষেত্রে প্রভাব
ভারত থেকে রাশিয়ায় সরবরাহকৃত সংবেদনশীল প্রযুক্তির সাহায্যে রাশিয়া তাদের সামরিক ক্ষেত্রে দ্রুত উন্নতি করছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন যে, এই ধরনের প্রযুক্তি রাশিয়ার অস্ত্র উৎপাদন প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করছে এবং তাদের যুদ্ধের ক্ষমতা বাড়িয়ে তুলছে। মার্কিন এবং ইউরোপীয় নিষেধাজ্ঞাগুলি এই ধরনের প্রযুক্তি প্রবাহ বন্ধ করার চেষ্টা করছে, তবে ভারত ও চীনের মত দেশগুলি তাদের বাণিজ্যিক সম্পর্ক বজায় রাখছে।
রাশিয়া-ভারত বাণিজ্য সম্পর্ক
ভারত ও রাশিয়ার মধ্যে ঐতিহাসিকভাবে মজবুত বাণিজ্যিক সম্পর্ক রয়েছে। ২০২২ সালে ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে রাশিয়ার ওপর বিভিন্ন দেশ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে, তবে ভারত এবং রাশিয়ার মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্কের কোনো বড় পরিবর্তন দেখা যায়নি। ভারতীয় সংস্থাগুলি রাশিয়ার তেল ও অন্যান্য পণ্য ক্রয় করছে, এবং এর বিনিময়ে রাশিয়ায় প্রযুক্তি এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সামগ্রী রপ্তানি করছে।
ভারত রাশিয়ার সঙ্গে এই বাণিজ্যিক সম্পর্ক বজায় রাখার ফলে, ইউক্রেনের মিত্র দেশগুলির জন্য কৌশলগত জটিলতা সৃষ্টি হচ্ছে। তারা চাইছে রাশিয়ার ওপর চাপ বাড়াতে এবং তাদের সামরিক শক্তি কমাতে, তবে ভারত এবং চীন রাশিয়ার সাথে বাণিজ্যিক সম্পর্ক বজায় রেখে এই প্রচেষ্টায় বাধা সৃষ্টি করছে।
এছাড়াও, পড়ুন : মোমবাতি বাজারের আকার 5.50% এর CAGR-এ বাড়ছে, এই প্রতিবেদনটি 2024-2030 এর ধরন, বিভাজন, বৃদ্ধি এবং পূর্বাভাস দ্বারা বিশ্লেষণ কভার করে
আন্তর্জাতিক চাপ এবং ভারতের অবস্থান
ভারত ইউক্রেন সংঘাতের বিষয়ে প্রকাশ্যে নিরপেক্ষ অবস্থান নিয়েছে এবং যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে কোনো পক্ষের প্রতি খোলাখুলিভাবে সমর্থন দেয়নি। তবে, ভারতের রাশিয়ার সাথে ঘনিষ্ঠ বাণিজ্যিক সম্পর্ক বজায় রাখা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য প্রশ্নের কারণ হয়ে উঠেছে।
উল্লেখ্য, ভারতের অবস্থান আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে ভারসাম্য বজায় রাখার দিকে লক্ষ্য রেখে গড়ে উঠেছে। যদিও ভারত রাশিয়ার কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ক্রয় করে আসছে, তবুও এটি পশ্চিমা দেশগুলির সাথে কৌশলগত অংশীদারিত্ব বজায় রেখে চলছে। তবে ভারতের এই সংবেদনশীল প্রযুক্তি সরবরাহের খবর ইউক্রেনের মিত্রদের সাথে ভারতের সম্পর্ককে প্রভাবিত করতে পারে।
পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার প্রভাব
পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞাগুলি রাশিয়ার ওপর চাপ বাড়ানোর একটি উপায় হিসেবে কাজ করেছে, তবে এই নিষেধাজ্ঞাগুলির ফলে রাশিয়ার সাথে ভারতের বাণিজ্য কতটা প্রভাবিত হবে তা এখনো স্পষ্ট নয়। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, রাশিয়া এবং ভারতের মধ্যে বিদ্যমান বাণিজ্যিক সম্পর্ক এক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে এবং পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞাগুলি এই সম্পর্ককে প্রভাবিত করার সম্ভাবনা কম।