শিবসেনা বনাম শিবসেনা: মুম্বাইয়ে দশেরার আগে শক্তি প্রদর্শন, ভোট উৎসাহ বৃদ্ধি

শিবসেনা বনাম শিবসেনা: মুম্বাইয়ে দশেরার আগে শক্তি প্রদর্শন, ভোট উৎসাহ বৃদ্ধি

শিবসেনা বনাম শিবসেনা: মুম্বাইয়ে দশেরার আগে শক্তি প্রদর্শন, ভোট উৎসাহ বৃদ্ধি

মহারাষ্ট্র বিধানসভা নির্বাচনের আগে, দশেরার দিন মুম্বাইতে শক্তি প্রদর্শনের জন্য মুখোমুখি হতে চলেছে একনাথ শিন্ডের শিবসেনা এবং উদ্ধব ঠাকরের শিবসেনা (ইউবিটি)। এই দুটি শিবসেনা শিবিরই দশেরার দিন শনিবার নিজেদের অনুগামীদের সামনে শক্তি প্রদর্শন করতে র‍্যালির আয়োজন করেছে। শিন্ডের শিবসেনা তাদের র‍্যালির জন্য দক্ষিণ মুম্বাইয়ের আজাদ ময়দানে জমায়েত হতে চলেছে, অন্যদিকে উদ্ধব ঠাকরের শিবসেনা (ইউবিটি) দাদারের শিবাজি পার্কে নিজেদের সমর্থকদের সামনে সমাবেশ করতে চলেছে।

শিবসেনার দুটি শিবিরের র‍্যালি: দশেরার দিন বিশেষ গুরুত্ব

বৃহস্পতিবার রাতে প্রচণ্ড বৃষ্টির কারণে উভয় স্থানেই কাদামাখা অবস্থায় র‍্যালি করার জন্য প্রস্তুতি চলছে। যদিও এ সম্পর্কে শিবসেনা (ইউবিটি) নেতা সঞ্জয় রাউত স্পষ্ট জানিয়েছেন, বৃষ্টির কারণে কোনো রকম বাধা সৃষ্টি হবে না এবং শিবাজি পার্কের র‍্যালি যথাযথভাবে অনুষ্ঠিত হবে। শিন্ডের শিবিরের তরফ থেকে জানানো হয়েছে, আজাদ ময়দানে প্রায় ২ লাখ মানুষ সমবেত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। সমর্থকদের সমাবেশের জন্য শিন্ডের দল প্রায় ৩ হাজার ব্যক্তিগত বাস ভাড়া করেছে।

শিন্ডে বনাম ঠাকরে: রাজনৈতিক শক্তির লড়াই

উভয় শিবিরই দশেরার র‍্যালিকে সামনে রেখে নিজেদের সমর্থকদের কাছে আকর্ষণীয় ভিডিও টিজার প্রকাশ করেছে। একনাথ শিন্ডের শিবিরের টিজারে শিবসেনার প্রতীকী বাঘকে কংগ্রেসের সাথে বাঁধা অবস্থায় দেখানো হয়েছে, যেখানে শিন্ডে একটি দড়ি কেটে তা মুক্ত করছেন। অন্যদিকে, উদ্ধব ঠাকরের শিবিরের টিজারে মহারাষ্ট্রের গৌরব রক্ষা এবং “বিশ্বাসঘাতকদের” বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়েছে, যেখানে বিদ্রোহী বিধায়কদের “বিশ্বাসঘাতক” হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

শিবাজি পার্ক বনাম আজাদ ময়দান: দুই শিবিরের পরিকল্পনা

মুম্বাইয়ের এই দুটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে দশেরার র‍্যালি আয়োজনকে কেন্দ্র করে উভয় শিবিরই নিজেদের রাজনৈতিক শক্তি প্রদর্শন করতে চাইছে। শিন্ডের শিবসেনার তরফ থেকে আজাদ ময়দানে বিপুল সমর্থকের সমাবেশের আয়োজন করা হয়েছে, যেখানে প্রায় ২ লাখ মানুষের জমায়েত আশা করা হচ্ছে। শিবিরের তরফ থেকে জানানো হয়েছে, সমর্থকদের ময়দানে আনতে ৩ হাজারের বেশি ব্যক্তিগত বাস ভাড়া করা হয়েছে।

অন্যদিকে, উদ্ধব ঠাকরের শিবির দাদারের ঐতিহ্যবাহী শিবাজি পার্কে নিজেদের র‍্যালির আয়োজন করেছে। শিবসেনার ঐতিহাসিক মূল শিবির হিসেবে পরিচিত এই পার্কে দশেরার র‍্যালির একটি দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। শিবসেনা (ইউবিটি) এই ঐতিহ্যকে বজায় রেখে নিজেদের রাজনৈতিক শক্তির প্রদর্শন করতে চাইছে।

বৃষ্টির চ্যালেঞ্জেও সমাবেশ

মুম্বাইতে বৃহস্পতিবার রাতের বৃষ্টির ফলে উভয় স্থানেই কাদা জমে গেছে, যা নিয়ে কিছুটা আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। তবে শিবিরের নেতারা স্পষ্ট করেছেন, বৃষ্টির কারণে সমাবেশের কোনো পরিকল্পনা বাতিল করা হবে না। সঞ্জয় রাউত বলেন, “দশেরার র‍্যালি মুম্বাইতে আমাদের জন্য একটি ঐতিহ্য। বৃষ্টি হলেও আমরা পরিকল্পিতভাবে তা পরিচালনা করব।”

অন্যদিকে, শিন্ডের শিবির থেকেও জানানো হয়েছে, তারা বৃষ্টির পরবর্তী পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে প্রস্তুত। আজাদ ময়দানের র‍্যালির জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে।

এছাড়াও, পড়ুন : বারবিকিউ গ্রিল চারকোল বাজারের আকার 3.80% এর CAGR এ বাড়ছে, এই প্রতিবেদনটি 2024-2030 এর প্রকার, বিভাজন, বৃদ্ধি এবং পূর্বাভাস দ্বারা বিশ্লেষণ কভার করে


বিদ্রোহের অভিযোগ: তির ঠাকরের বিরুদ্ধে

উদ্ধব ঠাকরের র‍্যালিতে কংগ্রেস এবং ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) বিরুদ্ধে সরাসরি আক্রমণ হানার পরিকল্পনা রয়েছে। ঠাকরের শিবির স্পষ্ট জানিয়েছে, তারা শিন্ডের নেতৃত্বাধীন শিবসেনা শিবিরকে বিশ্বাসঘাতক হিসেবে অভিহিত করবে এবং তাদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহের অভিযোগ আনবে। উদ্ধব ঠাকরের বক্তব্যে বিদ্রোহী বিধায়কদের রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের সমালোচনা এবং বিজেপির সঙ্গে জোটের বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তোলার সম্ভাবনা রয়েছে।

উভয় শিবিরই নিজেদের সমর্থকদের কাছে নিজেদের বৈধতা এবং রাজনৈতিক শক্তির প্রমাণ দিতে চাইছে। শিন্ডের শিবিরের দাবি, তারা শিবসেনার ঐতিহ্যকে ধরে রেখেছে এবং ঠাকরের শিবিরকে “বিশ্বাসঘাতক” হিসেবে চিহ্নিত করছে। অন্যদিকে, ঠাকরের শিবির শিন্ডেকে দল বিভক্ত করার জন্য দায়ী করছে এবং মহারাষ্ট্রের গৌরব রক্ষা করার শপথ নিচ্ছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষণ

মহারাষ্ট্রের রাজনীতিতে শিবসেনার এই দুটি শিবিরের দ্বন্দ্ব এবং দশেরার র‍্যালি বিশাল রাজনৈতিক গুরুত্ব বহন করছে। মহারাষ্ট্র বিধানসভা নির্বাচনের আগেই এই ধরনের র‍্যালি দুই শিবিরের রাজনৈতিক শক্তি প্রদর্শনের অন্যতম প্রধান মাধ্যম হিসেবে দেখা হচ্ছে। শিবসেনার দুটি শিবিরই নিজেদের বৈধতা এবং সমর্থন আদায়ের জন্য প্রবলভাবে চেষ্টা করছে, যা মহারাষ্ট্রের রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে একটি নতুন মাত্রা যোগ করেছে।