শাহি ঈদগাহে রানি লক্ষ্মী বাঈ-এর মূর্তি স্থাপন সংক্রান্ত মামলায় দিল্লি হাইকোর্ট মামলা বন্ধ করল

অন্তঃসত্ত্বা কন্যাকে হত্যা মামলায় সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ: মৃত্যুদণ্ড বাতিল, ২০ বছরের কারাদণ্ড

শাহি ঈদগাহে রানি লক্ষ্মী বাঈ-এর মূর্তি স্থাপন সংক্রান্ত মামলায় দিল্লি হাইকোর্ট মামলা বন্ধ করল

দিল্লি হাইকোর্ট আজ, ৭ই অক্টোবর, ২০২৪ তারিখে, ঐতিহাসিক শাহি ঈদগাহ মসজিদে রানি লক্ষ্মী বাঈ-এর মূর্তি স্থাপন নিয়ে দায়েরকৃত একটি মামলা নিষ্পত্তি করেছে। মামলাটি মূলত ছিল ঐতিহাসিক স্থানটিতে মূর্তি স্থাপনকে ঘিরে বিতর্ক এবং সেখানে ধর্মীয় অনুভূতির ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা নিয়ে।

হাইকোর্টের রায়

দিল্লি হাইকোর্টের বিচারপতি ভি কে রাও-এর বেঞ্চ আজ শুনানির সময় মন্তব্য করেন যে, বিষয়টি নিয়ে আদালত আর কোনো হস্তক্ষেপ করবে না কারণ সরকার ইতিমধ্যে একটি সমঝোতার পথে এগোচ্ছে এবং আদালতের হস্তক্ষেপ ছাড়াই সমস্যার সমাধান করতে পারবে। আদালত আরও জানায় যে, উভয় পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে সমস্যার শান্তিপূর্ণ সমাধান করার জন্য যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট

শাহি ঈদগাহ মসজিদ, যা মুঘল আমলে নির্মিত একটি বিখ্যাত ধর্মীয় স্থাপনা, এটি ঐতিহাসিকভাবে সংরক্ষিত একটি স্থাপত্য। তবে, রানি লক্ষ্মী বাঈ, যিনি ১৮৫৭ সালের প্রথম স্বাধীনতা সংগ্রামের অন্যতম আইকন, তার মূর্তি স্থাপন এই মসজিদ প্রাঙ্গণে করা উচিত কিনা, তা নিয়ে বিতর্ক ওঠে। মূর্তি স্থাপনকারীরা মনে করেন, রানি লক্ষ্মী বাঈ ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের নায়ক, এবং তার মূর্তি স্থাপন ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক গুরুত্ব বহন করে।

অন্যদিকে, মসজিদ কর্তৃপক্ষের দাবি ছিল যে, মসজিদের অভ্যন্তরীণ অংশে ধর্মীয় উপাসনার সাথে মূর্তি স্থাপন করলে তা তাদের ধর্মীয় অধিকারকে ক্ষুন্ন করবে। এ বিষয়ে তারা আদালতে একটি আবেদন দায়ের করেন।

মূর্তি স্থাপনের প্রস্তাব এবং বিতর্ক

গত বছরের শেষদিকে রানি লক্ষ্মী বাঈ-এর মূর্তি স্থাপনের একটি প্রস্তাব দিল্লির মিউনিসিপ্যাল ​​কর্পোরেশনে জমা দেওয়া হয়। প্রস্তাবে বলা হয়, শাহি ঈদগাহের সামনের চত্বরে মূর্তি স্থাপন করা হবে যা ঐতিহাসিক গুরুত্ব বহন করবে। তবে, স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায় এবং মসজিদ কর্তৃপক্ষ এই প্রস্তাবের তীব্র বিরোধিতা করেন। তাদের দাবি ছিল যে, এই প্রস্তাব ধর্মীয় অনুভূতিকে আঘাত করবে এবং মসজিদের ঐতিহ্য ও গুরুত্বকে প্রশ্নবিদ্ধ করবে।

সরকারী অবস্থান

সরকার, বিশেষত দিল্লি প্রশাসন, বিষয়টি নিয়ে একটি ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থান নেওয়ার চেষ্টা করে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয় যে, উভয় পক্ষের ধর্মীয় অনুভূতির প্রতি সম্মান জানিয়ে সমস্যার সমাধান করা হবে। প্রশাসন জানায়, ঐতিহাসিক স্থানগুলির রক্ষণাবেক্ষণ এবং ধর্মীয় স্থাপনার সুরক্ষা নিশ্চিত করা তাদের প্রধান দায়িত্ব।

এদিকে, রানি লক্ষ্মী বাঈ-এর মূর্তি স্থাপনকারী সংগঠনগুলির পক্ষ থেকে জানানো হয় যে, তারা আইনগত প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে তাদের দাবিকে শক্তিশালী করতে চাইছেন এবং শান্তিপূর্ণ সমাধানের জন্য প্রস্তুত।

আদালতের হস্তক্ষেপ ও পরবর্তী পদক্ষেপ

এই বিতর্ক নিয়ে আদালতের হস্তক্ষেপের পর, উভয় পক্ষের মধ্যে সমঝোতার প্রক্রিয়া শুরু হয়। বিচারপতি ভি কে রাও-এর বেঞ্চ আজকের শুনানিতে জানায় যে, মিউনিসিপ্যাল ​​কর্পোরেশন, স্থানীয় প্রশাসন, এবং মসজিদ কর্তৃপক্ষের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান সম্ভব। হাইকোর্ট জানায় যে, সরকার বিষয়টি নিয়ে একটি স্পষ্ট ও শান্তিপূর্ণ সমাধানের পথে এগোচ্ছে এবং এই অবস্থায় আদালতের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন নেই। আদালত সমস্ত পক্ষকে সংযম বজায় রেখে সমাধানের পথে এগোতে উৎসাহিত করে।

এছাড়াও, পড়ুন : Octyldodecyl Isostearate মার্কেট শেয়ার, আকার, প্রবণতা, শিল্প বিশ্লেষণ প্রতিবেদন, প্রকার অনুসারে, শেষ ব্যবহারের দ্বারা (বাণিজ্যিক, ভোক্তা, শিল্প, অন্যান্য), রেজি দ্বারা


স্থানীয় প্রতিক্রিয়া

বিতর্কিত এই ইস্যুতে দিল্লির বিভিন্ন অংশে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। মসজিদের পাশে বসবাসকারী স্থানীয় বাসিন্দারা জানান যে, তারা মসজিদের ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় গুরুত্বকে রক্ষা করতে চান এবং এ বিষয়ে কোনো আপোষ করার পক্ষপাতী নন। অন্যদিকে, রানি লক্ষ্মী বাঈ-এর সমর্থকরা জানান যে, তারা মূর্তির স্থাপন নিয়ে দৃঢ় অবস্থানে রয়েছেন এবং এই বিষয়টি ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের সাথে সংযুক্ত।

ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি

যদিও আদালত মামলাটি বন্ধ করে দিয়েছে, তবে এই ইস্যু নিয়ে দিল্লির রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে উত্তেজনা বিরাজ করছে। দিল্লি প্রশাসনের পক্ষ থেকে আরও একটি বৈঠক ডাকার কথা ঘোষণা করা হয়েছে, যেখানে উভয় পক্ষের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা করা হবে।

উপসংহার

আজকের এই রায়ের পর পরিস্থিতি শান্ত থাকলেও, ভবিষ্যতে এই ইস্যু নিয়ে আরও আলোচনা ও বিতর্ক হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।