misleading ও speculative: MHA ওমর আবদুল্লাহর দাবি খারিজ করল জম্মু ও কাশ্মীরের সরকারকে দুর্বল করার অভিযোগে

misleading ও speculative: MHA ওমর আবদুল্লাহর দাবি খারিজ করল জম্মু ও কাশ্মীরের সরকারকে দুর্বল করার অভিযোগে
জাতীয় সম্মেলনের নেতা ওমর আবদুল্লাহ অভিযোগ করেছেন যে বিজেপি জম্মু ও কাশ্মীরের প্রধান সচিবকে “ট্রানজাকশন অফ বিজনেস রুলস” পরিবর্তন করার নির্দেশ দিয়েছে এবং এর ফলে নির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রীর ক্ষমতা হ্রাস পেয়ে লেফটেন্যান্ট গভর্নরের হাতে চলে যাবে। এই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় (MHA) ওমর আবদুল্লাহর বক্তব্যকে “মিথ্যা এবং জল্পনাপ্রসূত” বলে উল্লেখ করেছে।
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, “ওমর আবদুল্লাহর টুইট বিভ্রান্তিকর এবং জল্পনা ভিত্তিক। এর এক বিন্দুও সত্য নয়, কারণ এমন কোনও প্রস্তাবই নেই। ভারতের সংসদে ২০১৯ সালে পাশ হওয়া জম্মু ও কাশ্মীর পুনর্গঠন আইনে ট্রানজাকশন অফ বিজনেস রুলসের বিধানের কথা বলা হয়েছে এবং সেই বিধান ২০২০ সালে বিজ্ঞপ্তি দ্বারা জারি করা হয়েছিল।”
ওমর আবদুল্লাহ তার টুইটে দাবি করেছিলেন যে কেন্দ্রীয় সরকার জম্মু ও কাশ্মীরের আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফলের আগে সরকারি ব্যবসায়িক নিয়ম সংশোধন করেছে, যাতে আসন্ন প্রশাসনের ক্ষমতা সীমিত করা যায়। নির্বাচনের ফলাফল ৮ অক্টোবর ঘোষণা হওয়ার কথা।
অভিযোগের প্রতিক্রিয়া জানিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আরও জানায়, “জম্মু ও কাশ্মীরের জনগণ গোটা প্রক্রিয়াকে স্বাগত জানিয়েছে এবং ভারতের সরকারের প্রচেষ্টার ফলে গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকার গঠনে জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত হয়েছে। ইতিহাসে প্রথমবারের মতো নিরপেক্ষ এবং সুষ্ঠু নির্বাচনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে, এবং এতে নাগরিকদের ব্যাপক অংশগ্রহণ পরিলক্ষিত হয়েছে।”
ওমর আবদুল্লাহর দাবি
ওমর আবদুল্লাহর অভিযোগ অনুযায়ী, বিজেপি কেন্দ্রীয় সরকার জম্মু ও কাশ্মীরের প্রশাসনিক ক্ষমতা দুর্বল করতে চাইছে। তার বক্তব্য অনুযায়ী, ট্রানজাকশন অফ বিজনেস রুলসে পরিবর্তন আনতে সরকার একটি প্রস্তাব করেছে, যাতে মুখ্যমন্ত্রীর ক্ষমতা হ্রাস পায় এবং অধিকাংশ প্রশাসনিক ক্ষমতা লেফটেন্যান্ট গভর্নরের হাতে ন্যস্ত হয়।
ওমর আবদুল্লাহ আরও অভিযোগ করেন যে বিজেপি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে এই ধরনের পদক্ষেপ নিচ্ছে, এবং এতে জম্মু ও কাশ্মীরের নির্বাচিত সরকারের অধিকার এবং ক্ষমতা হ্রাস পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি বলেন, “এই ধরনের পদক্ষেপ গণতন্ত্রের পরিপন্থী এবং জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের ক্ষমতা হ্রাস করার অপচেষ্টা।”
বিজেপির প্রস্তাবিত পরিবর্তন এবং জম্মু ও কাশ্মীরের নির্বাচন
আগামী ৮ অক্টোবর জম্মু ও কাশ্মীরের বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা করা হবে। নির্বাচনের আগে ওমর আবদুল্লাহর এই অভিযোগ নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। তিনি দাবি করেছেন যে, বিজেপি সরকারের এই পরিবর্তন আসন্ন নির্বাচনের ফলাফলকে প্রভাবিত করার উদ্দেশ্যে করা হয়েছে। তার অভিযোগ, কেন্দ্রীয় সরকার নির্বাচিত সরকারের ক্ষমতা খর্ব করতে চাইছে, যাতে আসন্ন নির্বাচনে জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধি প্রশাসনিক ক্ষমতা পেতে না পারে।
অন্যদিকে, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ওমর আবদুল্লাহর এই দাবিকে সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে খারিজ করে দিয়েছে। মন্ত্রণালয় জানায়, “জম্মু ও কাশ্মীর পুনর্গঠন আইনে ২০১৯ সালে ট্রানজাকশন অফ বিজনেস রুলস জারি করা হয়েছিল এবং সেই রুলস এখনো কার্যকর রয়েছে। এতে কোনও পরিবর্তন আনার প্রস্তাব নেই।”
এছাড়াও, পড়ুন : আর্টেমিসিনিন কম্বিনেশন থেরাপি মার্কেটের বিশ্বব্যাপী প্রভাব
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিক্রিয়া
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, “মি. ওমর আবদুল্লাহর টুইট বিভ্রান্তিকর এবং একদম ভিত্তিহীন। তার দাবিতে কোনও সত্যতা নেই, এবং কোনও ধরনের প্রস্তাবও নেই যে ট্রানজাকশন অফ বিজনেস রুলসে পরিবর্তন আনা হবে।”
কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে যে জম্মু ও কাশ্মীরের জনগণ ভারতের সরকারের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে এবং নির্বাচনের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠার প্রক্রিয়ায় সম্পূর্ণ অংশগ্রহণ করেছে। সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং জনগণের অংশগ্রহণে এটি সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।
ওমর আবদুল্লাহর অভিযোগের প্রতিক্রিয়ায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে যে, জম্মু ও কাশ্মীর পুনর্গঠন আইনের মাধ্যমে প্রদত্ত নিয়মাবলী অনুসারে ২০২০ সালে ট্রানজাকশন অফ বিজনেস রুলস জারি করা হয়েছে এবং এতে কোন ধরনের পরিবর্তন আনার প্রয়োজন নেই। জম্মু ও কাশ্মীরের জনগণ গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে নির্বাচিত সরকারের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে এবং নির্বাচনের মাধ্যমে প্রশাসনের ক্ষমতা স্থির করা হবে।
উল্লেখ্য, জম্মু ও কাশ্মীরের বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পূর্বেই ওমর আবদুল্লাহর এই অভিযোগ রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।