দিল্লি সীমান্তে সোনাম ওয়াংচুক ও তার সমর্থকদের আটক, রাহুল গান্ধীর প্রতিক্রিয়া: “অগ্রহণযোগ্য”

দিল্লি সীমান্তে সোনাম ওয়াংচুক ও তার সমর্থকদের আটক, রাহুল গান্ধীর প্রতিক্রিয়া: “অগ্রহণযোগ্য”
দিল্লি পুলিশ সোমবার জলবায়ু কর্মী সোনাম ওয়াংচুক এবং তার প্রায় ১২০ জন সমর্থককে দিল্লির সিংঘু সীমান্তে আটক করেছে। তারা লাদাখের জন্য ষষ্ঠ তফসিলের মর্যাদা দাবি করে দিল্লিতে পদযাত্রা করছিলেন। এই ঘটনা নিয়ে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে তীব্র সমালোচনা করেন এবং ঘটনাটিকে “অগ্রহণযোগ্য” বলে মন্তব্য করেন।
লাদাখের দাবি ও পদযাত্রা:
লাদাখের একাংশের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে ষষ্ঠ তফসিলের মর্যাদা দাবি করছে, যা আদিবাসী ও সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর বিশেষ সাংবিধানিক অধিকার ও সুরক্ষা প্রদান করে। এই দাবির পক্ষে লাদাখের বেশ কিছু নেতা, কর্মী এবং স্থানীয় বাসিন্দারা গত কয়েক মাস ধরে বিভিন্ন আন্দোলন করে আসছেন।
সোনাম ওয়াংচুক, যিনি বিশ্বজুড়ে তার পরিবেশগত কাজ এবং উদ্ভাবনের জন্য সুপরিচিত, এই পদযাত্রায় নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন। তার নেতৃত্বে এই বিক্ষোভকারীরা লাদাখ থেকে দিল্লি পর্যন্ত পদযাত্রা করে এসে রাজধানীতে তাদের দাবি তুলে ধরার পরিকল্পনা করেছিল। এই পদযাত্রার মূল উদ্দেশ্য ছিল লাদাখের সাংস্কৃতিক ও ভৌগোলিক সুরক্ষার জন্য ষষ্ঠ তফসিলের মর্যাদা লাভ করা।
পুলিশের হস্তক্ষেপ ও আটক:
দিল্লি পুলিশের বক্তব্য অনুযায়ী, এই বিক্ষোভকারীরা দিল্লির সীমান্তে জমায়েত হওয়ার চেষ্টা করছিল। কিন্তু তাদের অনুমতি ছিল না, যার কারণে তাদের আটক করা হয়। প্রায় ১২০ জন সমর্থককে সিংঘু সীমান্তে আটক করা হয়, যার মধ্যে সোনাম ওয়াংচুকও ছিলেন।
পুলিশ জানায়, “বিক্ষোভকারীরা দিল্লির আইনশৃঙ্খলার বিরুদ্ধে কাজ করছিল এবং অনুমতি ছাড়াই পদযাত্রা করছিল, যা সুরক্ষা সমস্যার কারণ হতে পারত।”
রাহুল গান্ধীর প্রতিক্রিয়া:
কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী এই ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন, “এটি অত্যন্ত অগ্রহণযোগ্য যে, সরকার মানুষের অধিকার কেড়ে নিচ্ছে এবং তাদের কণ্ঠরোধ করার চেষ্টা করছে। সোনাম ওয়াংচুক এবং লাদাখের মানুষেরা তাদের জমির জন্য ন্যায্য দাবির পক্ষে লড়াই করছে। সরকারের এই ধরনের দমনমূলক পদক্ষেপ গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে যায়।”
রাহুল গান্ধী তার টুইটারে আরও লিখেছেন, “লাদাখের মানুষজনের দাবি ন্যায়সঙ্গত। প্রধানমন্ত্রী মোদির সরকার তাদের কথা না শুনে তাদের আটক করছে, যা সরকারের অসহিষ্ণু মনোভাবকে তুলে ধরছে।”
সোনাম ওয়াংচুকের অবস্থান:
সোনাম ওয়াংচুক বরাবরই পরিবেশ ও সমাজ উন্নয়নের পক্ষে কথা বলে আসছেন। তিনি বিখ্যাত তার “আইস স্টুপা” উদ্ভাবনের জন্য, যা বরফের উপর ভিত্তি করে তৈরি এক বিশেষ পানির সংরক্ষণ পদ্ধতি।
এই আন্দোলনের প্রসঙ্গে ওয়াংচুক বলেন, “আমরা দীর্ঘদিন ধরে লাদাখের জন্য ষষ্ঠ তফসিলের মর্যাদা দাবি করছি। এটি আমাদের সাংস্কৃতিক সুরক্ষার জন্য প্রয়োজনীয়। আমরা শান্তিপূর্ণভাবে আমাদের দাবি জানাচ্ছিলাম, কিন্তু সরকারের প্রতিক্রিয়া আমাদের হতাশ করেছে।”
এছাড়াও, পড়ুন : গ্লোবাল লাইটিং ফিক্সচার এবং ইকুইপমেন্ট মার্কেট সাইজ 2024 – 2031 এর মধ্যে 4.9% এর CAGR অনুভব করবে বলে আশা করা হচ্ছে, শিল্পের অনুমান অনুসারে।
কেন্দ্রের প্রতিক্রিয়া:
কেন্দ্রীয় সরকার এখনো এই বিষয়ে কোনো সরাসরি প্রতিক্রিয়া জানায়নি। তবে, বিজেপি নেতৃত্বাধীন সরকারের একাধিক নেতা লাদাখের উন্নয়নের জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি করেছে। তারা বলেছে যে, লাদাখের উন্নয়নের জন্য কেন্দ্রের বিশেষ মনোযোগ রয়েছে এবং অঞ্চলটির সার্বিক উন্নতির জন্য সরকার কাজ করে যাচ্ছে।
কেন্দ্রের এই দাবি সত্ত্বেও, লাদাখের অনেক স্থানীয় বাসিন্দা এবং নেতা মনে করছেন যে তাদের অঞ্চলের বিশেষ সাংবিধানিক মর্যাদা প্রয়োজন, যা তাদের অধিকার ও সংস্কৃতিকে সুরক্ষা দেবে।
বিরোধীদের সমর্থন:
এই ঘটনার পর বিরোধী দলগুলি একত্রিত হয়ে সরকারের সমালোচনা করেছে। কংগ্রেস ছাড়াও, অন্যান্য বিরোধী দলগুলির নেতারা সোনাম ওয়াংচুক এবং তার সমর্থকদের আটককে গণতান্ত্রিক অধিকার লঙ্ঘন হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
বামপন্থী দলের নেতা সীতারাম ইয়েচুরি বলেন, “লাদাখের মানুষজন তাদের ন্যায়সঙ্গত দাবির পক্ষে কথা বলছে, আর সরকার তাদের চুপ করানোর চেষ্টা করছে। এটি একটি স্পষ্ট উদাহরণ যে, সরকার জনগণের দাবি ও মতামতকে উপেক্ষা করছে।”
আন্দোলনের ভবিষ্যৎ:
যদিও সোনাম ওয়াংচুক ও তার সমর্থকদের আটক করা হয়েছে, লাদাখের মানুষের দাবি এখনও স্পষ্টভাবে সামনে আসছে। এই আন্দোলন আরও বৃহত্তর রূপ নিতে পারে বলে অনেক বিশ্লেষক মনে করছেন।
অন্যদিকে, দিল্লির প্রশাসন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সচেষ্ট রয়েছে এবং তারা নিশ্চিত করেছে যে, শহরে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে সব ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হবে।