মধ্যপ্রদেশের এনএইচ-৩০-এ বাস-ট্রাক সংঘর্ষে ৯ জন নিহত, ২৪ জন আহত

মধ্যপ্রদেশের এনএইচ-৩০-এ বাস-ট্রাক সংঘর্ষে ৯ জন নিহত, ২৪ জন আহত
মধ্যপ্রদেশের মাইহারের এনএইচ-৩০-এ শনিবার রাতে একটি বাস ও হাইভা ট্রাকের মধ্যে সংঘর্ষে ৯ জন নিহত এবং ২৪ জন আহত হয়েছেন। স্থানীয় পুলিশ জানিয়েছে যে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনাটি ঘটে রাতে, যখন বাসটি উত্তর প্রদেশের প্রয়াগরাজ থেকে মহারাষ্ট্রের নাগপুর যাচ্ছিল। দুর্ঘটনার স্থান থেকে উদ্ধারকাজ চলছে।
দুর্ঘটনার বিবরণ:
শনিবার রাত প্রায় ১১:৩০ টার দিকে এনএইচ-৩০-এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, হাইভা ট্রাকটির চালক হঠাৎ করেই ট্রাকটির গতি কমিয়ে রাস্তার মাঝেই থামিয়ে দেয়। এই মুহূর্তে পিছন থেকে আসা বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ট্রাকের সাথে সজোরে ধাক্কা খায়। বাসটি একটি বেসরকারি ট্র্যাভেল এজেন্সির অধীনে চলাচল করছিল, যা মূলত উত্তর প্রদেশের বাসিন্দাদের পরিবহন করছিল। ট্রাকটি পাথর বোঝাই ছিল এবং এর ফলেই সংঘর্ষের মাত্রা মারাত্মক আকার নেয়।
এছাড়াও, পড়ুন : অটোমোটিভ লিডার সেন্সর মার্কেট অ্যাপ্লিকেশনের ভূমিকা (OEM, গবেষণা) এবং বাজারের ধরন (সলিড স্টেট লিডার, মেকানিক্যাল/স্ক্যানিং লিডার) পূর্বাভাস
মৃত্যুর সংখ্যা ও আহতদের অবস্থা:
ঘটনাস্থলেই ৫ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ৫ জনের পরিচয় পাওয়া গেছে। তারা উত্তর প্রদেশ এবং মহারাষ্ট্রের বাসিন্দা বলে পুলিশ জানিয়েছে। বাকি চারজনের পরিচয় এখনও নিশ্চিত করা যায়নি, তবে তাদের কাপড় এবং অন্যান্য ব্যক্তিগত জিনিসপত্রের সাহায্যে শনাক্তকরণের চেষ্টা চলছে। বাকি ২৮ জন আহত যাত্রীকে দ্রুত সাতনা জেলার হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে, যেখানে আরও ৪ জন চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। বর্তমানে দুই যাত্রীর অবস্থা সংকটজনক বলে জানা গেছে।
উদ্ধারকাজের অগ্রগতি:
সাতনা জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) সুধীর আগরওয়াল জানিয়েছেন, “দুর্ঘটনায় বাসটি ভয়ঙ্করভাবে ট্রাকের মধ্যে আটকে পড়ে। বাসের ভেতরে যাত্রীদের উদ্ধার করতে জেসিবি এবং কাটার মেশিন ব্যবহার করা হচ্ছে।” উদ্ধারকর্মীরা দুর্ঘটনাস্থলে পৌঁছে দ্রুতগতিতে কাজ শুরু করে। আটকে পড়া যাত্রীদের নিরাপদে উদ্ধার করতে তাদের বিশেষ সরঞ্জামের প্রয়োজন হয়, কারণ সংঘর্ষের পর বাসটির সামনের অংশ সম্পূর্ণভাবে বিকৃত হয়ে যায়।
ট্র্যাফিক পরিস্থিতি:
দুর্ঘটনার কারণে প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে জাতীয় সড়কের উপর যানজট সৃষ্টি হয়। স্থানীয় প্রশাসন দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে ট্র্যাফিক নিয়ন্ত্রণে আনে। প্রাথমিকভাবে রাস্তাটি বন্ধ রাখা হলেও উদ্ধার কাজের অগ্রগতি সাপেক্ষে রাস্তাটি খুলে দেওয়া হয়। তবে, এই ধরনের দুর্ঘটনা প্রায়ই ঘটে বলে স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করছেন। তারা জাতীয় সড়কগুলিতে ভারী যানবাহনের নিয়মবহির্ভূত চলাচল এবং হঠাৎ থামিয়ে দেওয়ার অভ্যাসের জন্য দায়ী করছেন।
স্থানীয় প্রশাসনের প্রতিক্রিয়া:
পুলিশ জানিয়েছে যে, ঘটনাটি একটি দুর্ঘটনাজনিত ঘটনা এবং হাইভা ট্রাকের চালকের হঠাৎ গতি কমিয়ে দেওয়ার কারণেই বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। তবে বাসের চালককে নিয়ে কোনও মন্তব্য করেনি প্রশাসন।
অন্যদিকে, আহত যাত্রীদের জন্য হাসপাতালে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হচ্ছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে স্থানীয় প্রশাসন নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।