জাস্টিন ট্রুডোর মোদীকে ক্ষমা চাইতে হবে: নিঝ্জারের হত্যা নিয়ে কানাডা-ভারত সম্পর্কের উত্তেজনা

জাস্টিন ট্রুডোর মোদীকে ক্ষমা চাইতে হবে: নিঝ্জারের হত্যা নিয়ে কানাডা-ভারত সম্পর্কের উত্তেজনা
কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো গত এক বছরে বারবার ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলির সঙ্গে খালিস্তানি নেতা হরদীপ সিং নিঝ্জারের হত্যার যোগসাজশ থাকার ‘বিশ্বাসযোগ্য’ অভিযোগ করেছেন। ২০২৩ সালের ১৮ জুন ব্রিটিশ কলম্বিয়ার সারে এলাকায় নিঝ্জারকে গুলি করে হত্যা করা হয়। তবে, এই অভিযোগে কানাডা এখনো কোনো প্রমাণ প্রকাশ করতে পারেনি, যা এই ঘটনা নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নানা বিতর্ক সৃষ্টি করেছে।
মোদী-ট্রুডো সম্পর্কের অবনতি: ২০২৩ এর পর থেকে উত্তেজনা বৃদ্ধি
নিঝ্জারের হত্যার পর থেকে ভারত-কানাডা কূটনৈতিক সম্পর্ক নতুন মাত্রায় উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে কানাডার পার্লামেন্টে ট্রুডো দাবি করেন যে, কানাডার নিরাপত্তা সংস্থাগুলি ভারতে নিঝ্জারের হত্যার সঙ্গে সম্পর্কিত বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ অনুসন্ধান করছে। তিনি আরো উল্লেখ করেন যে, এই হত্যাকাণ্ডে ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলির সম্পৃক্ততার সম্ভাবনা রয়েছে। কিন্তু কানাডা এখন পর্যন্ত কোনো স্পষ্ট প্রমাণ উপস্থাপন করেনি যা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ট্রুডোর দাবিকে সমর্থন করতে পারে।
হরদীপ সিং নিঝ্জার: খালিস্তানি আন্দোলনে জড়িত
নিঝ্জার ছিলেন খালিস্তানি সন্ত্রাসবাদী, যিনি ভারতের পাঞ্জাব রাজ্যে অস্থিরতা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে সক্রিয়ভাবে কাজ করছিলেন। ২০১৪ সালে ইন্টারপোল নিঝ্জারের বিরুদ্ধে রেড কর্নার নোটিশ জারি করে। খালিস্তান টাইগার ফোর্সের প্রধান হিসেবে নিঝ্জার ২০১৩ এবং ২০১৪ সালে পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই-এর সাথে বৈঠক করেছিলেন। এই বৈঠকগুলির লক্ষ্য ছিল পাঞ্জাবে সন্ত্রাসী কার্যক্রম সংগঠিত করা।
ভারত সরকার নিঝ্জারকে দীর্ঘদিন ধরে খুঁজছিল, কারণ তার বিরুদ্ধে ভারতে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের প্রচুর অভিযোগ ছিল। নিঝ্জারের বিরুদ্ধে ১০টি মামলা দায়ের করা হয়েছিল, যার মধ্যে অনেকগুলো ছিল হত্যা, সন্ত্রাসী কার্যক্রম এবং রাষ্ট্রবিরোধী কার্যকলাপের জন্য।
কানাডার দাবি ও প্রমাণের অভাব
ট্রুডোর দাবি যে ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলি নিঝ্জারের হত্যার সাথে যুক্ত, আন্তর্জাতিক মহলে ভারতের কড়া প্রতিক্রিয়ার জন্ম দিয়েছে। ভারত এ অভিযোগ দৃঢ়ভাবে অস্বীকার করেছে এবং কানাডাকে কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করতে বলেছে। দিল্লি স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে যে, তারা এই ধরনের কোনো কর্মকাণ্ডে জড়িত নয় এবং কানাডার এই অভিযোগ কেবলমাত্র রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে করা হয়েছে।
কানাডার প্রধানমন্ত্রী তার পার্লামেন্টে এই অভিযোগ উপস্থাপনের পর থেকেই কানাডার সরকার এই বিষয়ে কোনো প্রমাণ বা তথ্য প্রদান করতে পারেনি। ভারতের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, যদি সত্যিই কানাডার কাছে কোনো বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ থাকে, তবে তা অবিলম্বে উপস্থাপন করা উচিত।
এছাড়াও, পড়ুন : গ্লোবাল সিলিকন হাইড্রোজেল মার্কেটের কৌশলগত বাজার অন্তর্দৃষ্টি (2024 – 2031)
খালিস্তানি সন্ত্রাসবাদী কার্যক্রম এবং কানাডার ভূমিকা
খালিস্তানি সন্ত্রাসবাদের প্রসঙ্গে কানাডার ভূমিকা বহু বছর ধরে প্রশ্নবিদ্ধ। কানাডা বারবার এই সন্ত্রাসী আন্দোলন এবং এর নেতাদের আশ্রয় দিয়ে আসছে বলে ভারত অভিযোগ করে আসছে। নিঝ্জার ছিলেন একজন বিশিষ্ট খালিস্তানি নেতা, যিনি কানাডায় বসবাস করলেও ভারতে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালনার জন্য সক্রিয় ছিলেন।
ভারত এই ধরনের সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে লড়াই করে আসছে, এবং তাদের মতে, কানাডার এই অভিযোগ ভারত-কানাডা সম্পর্ককে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।
ট্রুডোর বিরুদ্ধে ক্রমবর্ধমান চাপ
ট্রুডোকে এখন আন্তর্জাতিক মহল এবং তার নিজ দেশের রাজনৈতিক মহল থেকে ব্যাপক চাপের মুখে পড়তে হচ্ছে। বিশেষ করে, ভারতের সঙ্গে তার সম্পর্ককে পুনরুদ্ধার করার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা চলছে। তবে, প্রমাণ ছাড়া ট্রুডোর এই অভিযোগ নিয়ে তার সরকারের উপর প্রশ্ন উঠছে, এবং ভারত এই ইস্যুকে ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলে কূটনৈতিক প্রচারণা চালাচ্ছে।
কানাডা সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, তারা তাদের অনুসন্ধান চালিয়ে যাচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করছে। তবে এই প্রসঙ্গে কোনো প্রমাণ প্রকাশ না হওয়ায়, ভারতীয় সরকার কানাডার বিরুদ্ধে কূটনৈতিক চাপ বাড়াচ্ছে।
ভারতীয় সরকারের প্রতিক্রিয়া
ভারত সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে যে, তারা এই অভিযোগকে রাজনৈতিকভাবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মনে করছে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ট্রুডোকে সরাসরি বলতে পারেন যে, ভারত কখনোই এই ধরনের কর্মকাণ্ড সমর্থন করে না এবং যদি প্রমাণ না থাকে, তাহলে কানাডাকে তাদের অভিযোগ প্রত্যাহার করতে হবে।
বিশ্বমঞ্চে কানাডার অবস্থান
কানাডা-ভারত সম্পর্ক এখন আন্তর্জাতিক মঞ্চে একটি উত্তপ্ত বিতর্কের বিষয় হয়ে উঠেছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের অন্যান্য দেশগুলো এই ইস্যুটির দিকে নজর দিচ্ছে, এবং কানাডার দাবি নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। কানাডা যদি নিঝ্জারের হত্যার পিছনে ভারতীয় সংযোগের কোনো প্রমাণ পেশ করতে ব্যর্থ হয়, তবে আন্তর্জাতিক মহলে তাদের অবস্থান দুর্বল হতে পারে।