ফৈজাবাদের সাংসদ অওধেশ প্রসাদের ছেলে অপহরণ ও ডাকাতির অভিযোগে অভিযুক্ত

ফৈজাবাদের সাংসদ অওধেশ প্রসাদের ছেলে অপহরণ ও ডাকাতির অভিযোগে অভিযুক্ত

ফৈজাবাদের সাংসদ অওধেশ প্রসাদের ছেলে অপহরণ ও ডাকাতির অভিযোগে অভিযুক্ত

ফৈজাবাদ: সমাজবাদী পার্টির (এসপি) লোকসভার সাংসদ অওধেশ প্রসাদের ছেলে অজিত প্রসাদকে অপহরণ, হুমকি এবং একজন ব্যক্তির উপর হামলার অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়েছে। অভিযোগটি স্থানীয় প্রপার্টি ডিলার রবি তিওয়ারির দায়ের করা একটি অভিযোগের ভিত্তিতে করা হয়েছে।

এ ঘটনা অজিত প্রসাদকে ঘিরে তৈরি বিতর্ককে নতুন মাত্রা দিয়েছে, যিনি মলকিপুর বিধানসভা আসনের আসন্ন উপ-নির্বাচনে সমাজবাদী পার্টির প্রার্থী হিসেবে মনোনীত হয়েছেন। উল্লেখ্য, মলকিপুর উত্তর প্রদেশের ৪০৩টি বিধানসভা আসনের মধ্যে একটি, যা দীর্ঘদিন ধরে অযোধ্যার ছায়ায় রয়ে গেছে।

ঘটনাটি কীভাবে ঘটল?

অভিযোগ অনুসারে, শনিবার দুপুরে ফৈজাবাদের স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া (এসবিআই) শাখার কাছে রবি তিওয়ারি নামের এক প্রপার্টি ডিলারকে অজিত প্রসাদ ও রাজু যাদবসহ প্রায় ১৫-২০ জন অজ্ঞাত ব্যক্তি ঘিরে ধরে। তিওয়ারির দাবি, তারা তাকে গাড়িতে টেনে নিয়ে রাকাবগঞ্জের দিকে রওনা দেয় এবং পুরো সময় ধরে তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়।

তিওয়ারি আরও অভিযোগ করেছেন যে, তার থেকে জোর করে ₹১ লাখ টাকা কেড়ে নেওয়া হয়েছে এবং তাকে মারধরের একটি ভিডিও ধারণ করা হয়েছে। তাকে ছেড়ে দেওয়ার আগে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলে তিনি জানান।

জমি সংক্রান্ত বিরোধের সূত্রপাত

তিওয়ারির দাবি অনুসারে, তিনি অজিত প্রসাদ এবং স্থানীয় জমির মালিক শীতলা প্রসাদের মধ্যে একটি জমি চুক্তির মধ্যস্থতা করছিলেন। এই ঘটনার পরে, তিনি কোতোয়ালি থানায় আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করেন। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগটি প্রাথমিকভাবে গ্রহণ করা হয়েছে এবং ঘটনার তদন্ত চলছে।

সমাজবাদী পার্টির অবস্থান

সমাজবাদী পার্টির (এসপি) পক্ষ থেকে এই ঘটনা নিয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য এখনো পাওয়া যায়নি। তবে জানা গেছে, এসপি নেতৃত্ব অজিত প্রসাদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগকে গুরুত্বসহকারে দেখছে। অযোধ্যার সাংসদ অওধেশ প্রসাদ, যিনি নিজেও সমাজবাদী পার্টির একজন প্রভাবশালী নেতা, এই বিষয়ে চুপ রয়েছেন। দলের অন্য নেতারাও এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকার করেছেন।

রাজনৈতিক প্রভাব ও বিতর্ক

এই ঘটনা অজিত প্রসাদের রাজনৈতিক ভবিষ্যতকে ঘিরে একটি বড় বিতর্ক তৈরি করেছে। মলকিপুর বিধানসভা আসনের উপ-নির্বাচন অত্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে, যেখানে সমাজবাদী পার্টির প্রার্থীর বিরুদ্ধে বিজেপি এবং কংগ্রেসও শক্তিশালী প্রার্থী দিতে প্রস্তুত। তবে এই অপহরণ ও হামলার অভিযোগ অজিত প্রসাদের নির্বাচনী প্রচারকে বড় ধাক্কা দিতে পারে।

পুলিশি তদন্তের অগ্রগতি

ফৈজাবাদ পুলিশ সুপার অমিত কুমার জানিয়েছেন যে, ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়া হচ্ছে এবং পুলিশ এই মামলার প্রতিটি দিক খতিয়ে দেখছে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি আশ্বাস দেন। ইতোমধ্যে ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে এবং জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশ বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালাচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, তিওয়ারির অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা হচ্ছে এবং ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীদেরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। পুলিশের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই মামলায় জড়িত অন্যান্য ব্যক্তিদের চিহ্নিত করার জন্য প্রয়োজনীয় প্রমাণ সংগ্রহ করা হচ্ছে।

এছাড়াও, পড়ুন :ক্রমাগত দ্রাবক পুনরুদ্ধার মেশিন বাজার – একটি বিশ্বব্যাপী এবং আঞ্চলিক বিশ্লেষণ

অযোধ্যায় রাজনৈতিক উত্তেজনা

অযোধ্যা, যাকে ভারতের রাজনৈতিক মানচিত্রে অত্যন্ত সংবেদনশীল একটি অঞ্চল হিসেবে বিবেচনা করা হয়, সেখানে এই ঘটনা নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করতে পারে। বিশেষ করে সাম্প্রতিক বছরগুলিতে অযোধ্যার রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং এর আশপাশের অঞ্চলগুলোতে বেশ কয়েকটি বড় রাজনৈতিক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।

এই ঘটনা রাজ্য জুড়ে রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়িয়ে তুলতে পারে এবং আসন্ন উপ-নির্বাচনে এর প্রভাব পড়তে পারে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই অভিযোগটি অজিত প্রসাদের রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে, যা সমাজবাদী পার্টির জন্যও একটি বড় চ্যালেঞ্জ।

আগামী দিনের পরিস্থিতি

যদিও পুলিশের পক্ষ থেকে তদন্ত চলছে, অজিত প্রসাদ এবং তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ সম্পর্কে জনগণের কৌতূহল ক্রমেই বাড়ছে। এটি শুধু একটি অপরাধমূলক মামলা হিসেবে নয়, বরং আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বড় রাজনৈতিক আলোচনারও বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সমাজবাদী পার্টির নেতৃত্ব এই বিষয়টি কীভাবে সামলাবে এবং অজিত প্রসাদের রাজনৈতিক ভবিষ্যত কীভাবে নির্ধারিত হবে, তা এখন সময়ই বলে দেবে। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে দলীয় সমর্থকদের মধ্যে হতাশা এবং ক্ষোভের লক্ষণ স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে।

কোতোয়ালি থানার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন যে, তারা শীঘ্রই অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবেন এবং তদন্তে আরও অগ্রগতি ঘটবে বলে আশা করছেন।