অতীশি দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে শপথ গ্রহণ করলেন, পাঁচ নেতা তার মন্ত্রিসভায় যোগ দিলেন

অতীশি দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে শপথ গ্রহণ করলেন, পাঁচ নেতা তার মন্ত্রিসভায় যোগ দিলেন

 অতীশি দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে শপথ গ্রহণ করলেন, পাঁচ নেতা তার মন্ত্রিসভায় যোগ দিলেন

নয়াদিল্লি, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৪
আম আদমি পার্টির  নেতা  অতীশি শনিবার দিল্লির ৮তম মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে রাজ নিবাসে শপথ গ্রহণ করেন। তিনি আরবিন্দ কেজরিওয়ালের স্থলাভিষিক্ত হলেন, যিনি এই সপ্তাহের শুরুর দিকে মদ নীতি মামলায় জামিন পাওয়ার পর মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছিলেন।

 অতীশি সঙ্গে শপথ নেন পাঁচ মন্ত্রিসভার সদস্য, যার মধ্যে চারজন পূর্ববর্তী মন্ত্রিসভার সদস্য এবং একজন নতুন মুখ। তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন গোপাল রাই, কৈলাশ গেহলট, সৌরভ ভরদ্বাজ, ইমরান হুসেন এবং নতুন অন্তর্ভুক্ত মুকেশ আহলাওয়াত।

 অতীশি নতুন মন্ত্রিসভা:

  • গোপাল রাই
  • কৈলাশ গেহলট
  • সৌরভ ভরদ্বাজ
  • ইমরান হুসেন
  • মুকেশ আহলাওয়াত (নতুন মুখ)

 অতীশি এই নতুন দায়িত্ব কেবলমাত্র সাময়িক, কারণ দিল্লি বিধানসভা নির্বাচন ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত হবে। নতুন মন্ত্রিসভায় পূর্বের চারজন মন্ত্রী তাদের আগের দায়িত্বগুলি পালন করতে থাকবেন বলে আশা করা হচ্ছে, তবে আহলাওয়াতকে বরাদ্দ করা হবে সেই পদগুলি যা এপ্রিল মাসে মন্ত্রী রাজ কুমার আনন্দের ইস্তফার পর খালি ছিল।

 অতীশি নেতৃত্ব ও রাজনৈতিক উত্থান:

অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শিক্ষিত  অতীশি আম আদমি পার্টি  অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মুখ হিসাবে উদ্ভাসিত হয়েছেন। তিনি কেজরিওয়ালের অনুপস্থিতিতে প্রাক্তন সরকারের দায়িত্বে ছিলেন, যখন কেজরিওয়াল তিহার জেলে বন্দি ছিলেন মদ নীতি মামলায়। ৪৩ বছর বয়সী  অতীশি দিল্লির ইতিহাসে তৃতীয় মহিলা মুখ্যমন্ত্রী এবং দেশের ১৭তম মহিলা মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে এই দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। এর আগে তিনি দিল্লির কল্কাজি থেকে প্রথমবারের জন্য বিধায়ক নির্বাচিত হন।

আগের সরকারে  অতীশির ভূমিকা:

আগের কেজরিওয়াল সরকারের সময়  অতীশির ওপর ছিল ১৩টি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রক, যার মধ্যে ছিল অর্থ, রাজস্ব, পিডব্লিউডি, বিদ্যুৎ এবং শিক্ষা। এই মন্ত্রকগুলির মাধ্যমে তিনি সরকারের বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনতে সক্ষম হন। শিক্ষাক্ষেত্রে তার অবদানের জন্য তিনি বিশেষভাবে প্রশংসিত হয়েছেন।

কেজরিওয়ালের ইস্তফা এবংআম আদমি পার্টি ভবিষ্যৎ লক্ষ্য:

কেজরিওয়াল ১৩ সেপ্টেম্বর তিহার জেল থেকে মুক্তি পান এবং ১৭ সেপ্টেম্বর হঠাৎ ইস্তফা দেওয়ার ঘোষণা করেন। তিনি বলেন যে, জনগণের কাছ থেকে ‘সততার সার্টিফিকেট’ পাওয়ার পরই তিনি পুনরায় মুখ্যমন্ত্রীর পদে ফিরবেন।  অতীশির মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার প্রস্তাব কেজরিওয়াল নিজেই দিয়েছিলেন এবং আম আদমি পার্টির আইনসভা দল তাকে সমর্থন করে।

এছাড়াও, পড়ুন: গ্লোবাল ইন্টারফেস রিওমিটার বাজারের আকার এবং বাজার

 অতীশির এই স্বল্প মেয়াদি সরকারে মূল লক্ষ্য হবে ‘অপূর্ণ কাজগুলি’ সম্পন্ন করা এবং আসন্ন নির্বাচনে কেজরিওয়ালকে একটি বড় ম্যান্ডেট দিয়ে ক্ষমতায় ফিরিয়ে আনার জন্য প্রস্তুতি নেওয়া।  অতীশিএবং দলের অন্যান্য সিনিয়র নেতারা স্পষ্ট করেছেন যে, আম আদমি পার্টির ফোকাস এখন পরবর্তী নির্বাচনে কেজরিওয়ালের বিজয় নিশ্চিত করা।

বিরোধীদের প্রতিক্রিয়া:

বিজেপির নেতারা  অতীশির শপথ গ্রহণের পর কটাক্ষ করে বলেছেন যে, তিনি একটি ‘দুর্নীতিগ্রস্ত’ সরকারে অংশীদার ছিলেন এবং মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে তিনি ‘রাবার স্ট্যাম্পের’ মতো কাজ করবেন, কারণ কেজরিওয়াল প্রকৃত ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবেন। বিরোধীরা আরও অভিযোগ করেছে যে, অতীশি কোনও স্বাধীন সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন না এবং তার সরকার কেবলমাত্র কেজরিওয়ালের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরিচালিত হবে।

আসন্ন বিধানসভা নির্বাচন এবং আম আদমি পার্টির প্রস্তুতি:

দিল্লি বিধানসভা নির্বাচন ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।  অতীশির স্বল্প মেয়াদি সরকার নির্বাচনের আগে কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প সম্পন্ন করার চেষ্টা করবে। এর মধ্যে শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং অবকাঠামো খাতে সরকার ইতিমধ্যেই কিছু গুরুত্বপূর্ণ কাজ করেছে, যা নির্বাচনে তাদের পক্ষে জনসমর্থন অর্জনের চেষ্টা করবে।

 অতীশির শপথ গ্রহণের মধ্য দিয়ে আম আদমি পার্টির নির্বাচনী প্রচার কার্যত শুরু হয়েছে।  অতীশি ও তার মন্ত্রিসভা আম আদমি পার্টির নির্বাচনী ইশতেহার তৈরিতে এবং জনগণের মধ্যে দলের উন্নয়নমূলক কাজগুলি তুলে ধরতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবেন।

পরবর্তী সময়ে কেজরিওয়ালের ‘সততার সার্টিফিকেট’ পাওয়ার অপেক্ষা এবং দিল্লির জনগণের রায়ই ঠিক করবে আগামী দিনের দিল্লির রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা।

দিল্লির রাজনীতিতে  অতীশির মুখ্যমন্ত্রী পদ গ্রহণ একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে। তার নেতৃত্বাধীন আম আদমি পার্টি সরকার দিল্লির উন্নয়নমূলক প্রকল্পগুলি সম্পন্ন করতে সচেষ্ট থাকবে, তবে সামনে রয়েছে একটি বড় চ্যালেঞ্জ – বিধানসভা নির্বাচন। আম আদমি পার্টি কি কেজরিওয়ালের জনপ্রিয়তাকে কাজে লাগিয়ে দিল্লির মসনদ পুনরায় দখল করতে পারবে? এর উত্তর দেবে আগামী ফেব্রুয়ারির নির্বাচন।