সুপ্রিম কোর্টে জগতার সিং হাওয়ারার পাঞ্জাব জেলে স্থানান্তরের আবেদন: কেন্দ্রের কাছে উত্তর চাওয়া হল

সুপ্রিম কোর্টে জগতার সিং হাওয়ারার পাঞ্জাব জেলে স্থানান্তরের আবেদন: কেন্দ্রের কাছে উত্তর চাওয়া হল
সুপ্রিম কোর্ট শুক্রবার বাব্বর খালসার সন্ত্রাসী জগতার সিং হাওয়ারার একটি আবেদনের ভিত্তিতে কেন্দ্র, দিল্লি ও পাঞ্জাব সরকারের কাছ থেকে উত্তর চেয়েছে। হাওয়ারা বর্তমানে দিল্লির তিহার জেলে আজীবন কারাদণ্ড ভোগ করছেন এবং তিনি তাঁর স্থানান্তর পাঞ্জাবের কোনও কারাগারে চেয়েছেন। ১৯৯৫ সালে পাঞ্জাবের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বেয়ান্ত সিংয়ের হত্যার মামলায় হাওয়ারা দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন।
আদালতের নির্দেশ
বিচারপতি বি গাভাই এবং কেভি বিশ্বনাথনের বেঞ্চ হাওয়ারার আবেদনের প্রেক্ষিতে কেন্দ্র এবং দিল্লি ও পাঞ্জাব সরকারের কাছ থেকে নোটিস জারি করেছে। আবেদনে দাবি করা হয়েছে, হাওয়ারার বিরুদ্ধে দিল্লিতে আর কোনও মামলা মুলতুবি নেই এবং তাঁর কারাবাসের সময়কালীন আচরণও সঠিক ছিল, যদি না ২০০৪ সালের জানুয়ারি মাসে একটি কুখ্যাত জেল ভাঙার ঘটনা বাদ দেওয়া হয়।
১৯৯৫ সালের বেয়ান্ত সিং হত্যাকাণ্ডের ঘটনা
১৯৯৫ সালের ৩১ আগস্ট, পাঞ্জাবের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বেয়ান্ত সিংকে চণ্ডীগড়ের সিভিল সেক্রেটারিয়েটের প্রবেশদ্বারে একটি বোমা বিস্ফোরণের মাধ্যমে হত্যা করা হয়। এই বিস্ফোরণে আরও ১৬ জন নিহত হন। এই হত্যা পরিকল্পনায় জগতার সিং হাওয়ারাকে মূল অভিযুক্ত হিসাবে দোষী সাব্যস্ত করা হয় এবং তাঁকে আজীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
হাওয়ারার পক্ষ থেকে সিনিয়র অ্যাডভোকেট কলিন গনসালভেস আদালতে আবেদনের পক্ষে সওয়াল করেন। তিনি দাবি করেন, হাওয়ারার বিরুদ্ধে দিল্লিতে কোনও মামলা মুলতুবি নেই এবং তিনি পাঞ্জাবের কোনও কারাগারে স্থানান্তর চান, যেখানে তাঁর পরিবার এবং সমর্থকরা সহজে তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে পারবেন।
২০০৪ সালের জেল ভাঙার ঘটনা
জগতার সিং হাওয়ারার নাম বিশেষত আলোচিত হয় ২০০৪ সালের একটি কুখ্যাত জেল ভাঙার ঘটনার জন্য। ২২ জানুয়ারি, ২০০৪ সালে হাওয়ারা তিহার জেলের একটি সুরক্ষিত সেলে বন্দী ছিলেন। কিন্তু তিনি কারাগারের একটি সুড়ঙ্গ খুঁড়ে পালিয়ে যান। পরবর্তীতে তাঁকে আবার গ্রেফতার করা হয়। এই ঘটনার প্রসঙ্গে আদালত হাওয়ারার আইনজীবীকে প্রশ্ন করে, “কীভাবে তিনি এই সুড়ঙ্গ খুঁড়তে সক্ষম হলেন?”
এই পালানোর ঘটনার পরও, হাওয়ারা দাবি করেন যে তাঁর কারাবাসের সময়কালীন আচরণ যথাযথ ছিল এবং তিনি কোনও বিতর্কে জড়াননি। আবেদনে আরও বলা হয়, কারাগারের কঠোর নিয়ম সত্ত্বেও, তিনি ইতিবাচক মনোভাব নিয়ে নিজের শাস্তি পালন করে যাচ্ছেন এবং স্থানান্তরের মাধ্যমে পরিবারের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ আরও সহজ হবে।
এছাড়াও, পড়ুন : ক্লাউড ফাইল নিরাপত্তা সফ্টওয়্যার বাজার সূচক
কেন্দ্র এবং দিল্লি ও পাঞ্জাব সরকারের প্রতিক্রিয়া
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে কেন্দ্র এবং সংশ্লিষ্ট রাজ্য সরকারগুলি থেকে হাওয়ারার আবেদনের বিষয়ে প্রতিক্রিয়া চাওয়া হয়েছে। আদালত চার সপ্তাহের মধ্যে তাঁদের উত্তর দিতে বলেছে এবং তার পরেই এই বিষয়ে শুনানি হবে।
অন্যদিকে, হাওয়ারার স্থানান্তরের বিষয়ে কেন্দ্র এবং রাজ্য সরকারের অবস্থান এখনও পরিষ্কার নয়। তিহার জেলে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকা সত্ত্বেও, হাওয়ারার স্থানান্তর নিয়ে কোনও অসুবিধা হবে কি না, তা সরকারগুলির প্রতিক্রিয়া থেকে বোঝা যাবে।
হাওয়ারার পরিবারের সদস্যরা এবং তাঁর সমর্থকরা দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে আসছেন যে তাঁকে পাঞ্জাবের কোনও কারাগারে স্থানান্তর করা হোক, যাতে তাঁর পরিবারের সদস্যরা সহজে দেখা করতে পারেন।
আইনি ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট
হাওয়ারার মামলা রাজনৈতিক দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ, কারণ তিনি বাব্বর খালসা সন্ত্রাসী সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। এই সংগঠনটি পাঞ্জাবে খালিস্তানি আন্দোলনের সময় সন্ত্রাসমূলক কার্যকলাপে জড়িত ছিল। বেয়ান্ত সিংয়ের হত্যাকাণ্ডও এই আন্দোলনের একটি অংশ হিসেবে বিবেচিত হয়।
বেয়ান্ত সিং পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন, যিনি খালিস্তানি আন্দোলনকে কঠোর হাতে দমন করেছিলেন। তাঁর বিরুদ্ধে অনেক সন্ত্রাসী সংগঠন ক্ষুব্ধ ছিল, যা পরবর্তীতে তাঁর হত্যার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
জগতার সিং হাওয়ারার মামলাটি শুধু আইনি দিক থেকেই নয়, পাঞ্জাবের রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপটেও বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ।
কারাগারে হাওয়ারার বর্তমান পরিস্থিতি
হাওয়ারা বর্তমানে দিল্লির তিহার জেলে রয়েছেন, যেখানে তাঁর নিরাপত্তার জন্য কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। কারা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তাঁর স্বাস্থ্য এবং নিরাপত্তার প্রতি বিশেষ নজর রাখা হচ্ছে।
তাঁর পরিবারের সদস্যরা দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে আসছেন যে পাঞ্জাবের কারাগারে স্থানান্তরের মাধ্যমে হাওয়ারার পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ সহজ হবে এবং এই কারণে আদালতের কাছে এই আবেদনের জন্য আর্জি জানানো হয়েছে।