সাইক্লোন ডানা: ২৪ অক্টোবরের মধ্যে ওড়িশার উপকূলে আছড়ে পড়তে পারে, মুখ্যমন্ত্রী প্রস্তুতি পর্যালোচনা করলেন

ঘূর্ণিঝড় ডানা: ওড়িশা ও পশ্চিমবঙ্গে প্রভাব, ২৫ অক্টোবরের আগে অবরুদ্ধ রেল পরিষেবা, স্কুল বন্ধ

সাইক্লোন ডানা: ২৪ অক্টোবরের মধ্যে ওড়িশার উপকূলে আছড়ে পড়তে পারে, মুখ্যমন্ত্রী প্রস্তুতি পর্যালোচনা করলেন

সাইক্লোন ডানা নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে ওড়িশা সরকার পর্যটকদের সতর্ক করেছে এবং বিশেষ করে পুরী শহর ছাড়ার পরামর্শ দিয়েছে। ভারতীয় আবহাওয়া দফতরের (আইএমডি) পূর্বাভাস অনুযায়ী, প্রবল ঘূর্ণিঝড় ডানা ২৪ অক্টোবরের মধ্যে ওড়িশা উপকূলে আঘাত হানতে পারে। এই সাইক্লোনের প্রভাবে ভদ্রক, কেন্ড্রাপাড়া, জগতসিংহপুর, এবং কটক জেলায় ঘন্টায় ১০০ থেকে ১১০ কিলোমিটার বেগে ঝড়ো হাওয়া বইতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

পর্যটকদের সতর্কবার্তা ও নিরাপত্তা:
ওড়িশা সরকার পর্যটকদের জন্য সতর্কবার্তা জারি করেছে এবং পুরী ছাড়ার জন্য জোরালো পরামর্শ দিয়েছে। পুরীর সমুদ্র তীরবর্তী এলাকাগুলি ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী মোহন চরন মাঝি জানিয়েছেন, “যে সমস্ত পর্যটক বর্তমানে পুরীতে অবস্থান করছেন, তাদের অনতিবিলম্বে শহর ছেড়ে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। ঘূর্ণিঝড় আছড়ে পড়ার আগে পর্যন্ত পুরী ভ্রমণ করা থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে।”

উপকূলবর্তী এলাকায় সতর্কবার্তা:
ওড়িশা রাজ্যের রাজস্ব ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রী সুরেশ পূজারী জানিয়েছেন, “সমস্ত মৎস্যজীবীকে ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত সমুদ্রে যেতে নিষেধ করা হয়েছে। উপকূলবর্তী এলাকাগুলিতে ইতিমধ্যেই সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছে, বিশেষ করে ভদ্রক, কটক, এবং জগতসিংহপুর অঞ্চলে। উপকূলের গ্রামবাসীদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতি শুরু হয়েছে।”

এনডিআরএফ-এর প্রস্তুতি:
জাতীয় দুর্যোগ প্রতিক্রিয়া বাহিনী (এনডিআরএফ) এই দুর্যোগ মোকাবিলার জন্য আগাম প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে। পশ্চিমবঙ্গের জন্য ১৪টি এবং ওড়িশার জন্য ১১টি এনডিআরএফ দল প্রস্তুত রাখা হয়েছে, যা যেকোনো জরুরি অবস্থায় কাজ করতে নামানো হবে।

ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাব:
ভারতীয় আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, সাইক্লোন ডানা ওড়িশার উপকূলীয় এলাকায় ব্যাপক প্রভাব ফেলতে পারে। রাজ্যের ভদ্রক, কটক, এবং জগতসিংহপুর জেলাগুলিতে ঘণ্টায় ১০০-১১০ কিলোমিটার বেগে ঝড়ো হাওয়া বইতে পারে। এছাড়াও, ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে, যা নিম্নাঞ্চলে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি করতে পারে। পশ্চিমবঙ্গের উপকূলীয় এলাকাগুলিও এই সাইক্লোনের প্রভাব থেকে মুক্ত থাকবে না।

সরকারের প্রস্তুতি পর্যালোচনা:
ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী মোহন চরন মাঝি ইতিমধ্যেই একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে এই প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় রাজ্যের প্রস্তুতি পর্যালোচনা করেছেন। তিনি বিভিন্ন জেলার জেলা প্রশাসকদের সাথে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে, সমস্ত জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ অনুযায়ী, সমস্ত নীচু এলাকাগুলির মানুষদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার কাজ শুরু করা হয়েছে।

পশ্চিমবঙ্গেও সতর্কতা:
পশ্চিমবঙ্গেও সাইক্লোন ডানার প্রভাবে সম্ভাব্য ক্ষতির আশঙ্কা করে প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। পশ্চিমবঙ্গের উপকূলীয় জেলাগুলিতে ১৪টি এনডিআরএফ দল প্রস্তুত রাখা হয়েছে। বিশেষ করে পূর্ব মেদিনীপুর এবং দক্ষিণ ২৪ পরগণা জেলাগুলিতে বৃষ্টি এবং ঝড়ো হাওয়ার পূর্বাভাস রয়েছে।

জলবিদ্যুৎ প্রকল্পগুলিতে নজরদারি:
ওড়িশা সরকার সাইক্লোন ডানার প্রভাবে রাজ্যের বড় জলবিদ্যুৎ প্রকল্পগুলিতেও নজরদারি বাড়িয়েছে। বিদ্যুৎ এবং জলের সরবরাহে যাতে বিঘ্ন না ঘটে, তার জন্য বিশেষ দল গঠন করা হয়েছে। বিশেষ করে হিরাকুদ বাঁধ সহ অন্যান্য বড় জলাধারগুলির অবস্থার উপর কড়া নজর রাখা হচ্ছে।

এছাড়াও, পড়ুন : সবজি বীজ বাজার: বৃদ্ধি এবং স্থায়িত্ব চাষ


পরিবহন ব্যবস্থা স্থগিত:
সাইক্লোনের কারণে ওড়িশা সরকার পুরীর সাথে সংযুক্ত বিভিন্ন বাস এবং রেল পরিষেবা সাময়িকভাবে স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এছাড়াও, বিভিন্ন পর্যটন কেন্দ্রগুলি বন্ধ রাখা হয়েছে এবং স্থানীয় প্রশাসন পর্যটকদের নিরাপদে ফিরে যাওয়ার ব্যবস্থা করছে।

রাজ্য সরকারের কড়া নির্দেশিকা:
ওড়িশা সরকার ইতিমধ্যেই বিভিন্ন জরুরি নির্দেশিকা জারি করেছে। সরকারি কর্মকর্তাদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে এবং তাদের সবসময় প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে। প্রতিটি জেলার জেলা প্রশাসনকে একযোগে কাজ করতে বলা হয়েছে এবং যেকোনো প্রয়োজনীয় ত্রাণ ও পুনর্বাসনের জন্য প্রস্তুত থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

মৎস্যজীবীদের সতর্কবার্তা:
সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, আগামী ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত সমস্ত মৎস্যজীবীকে সমুদ্রে যেতে নিষেধ করা হয়েছে। যারা ইতিমধ্যেই সমুদ্রে মাছ ধরতে গেছেন, তাদের অবিলম্বে ফিরে আসার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। উপকূলীয় এলাকায় বসবাসকারী মানুষদের জন্য নিরাপত্তার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে এবং জরুরি পরিষেবাগুলি সর্বদা সচল রাখা হয়েছে।

পরিস্থিতির উপর নজরদারি:
প্রকৃতির এই ক্রোধ থেকে রাজ্যবাসীকে রক্ষা করতে ওড়িশা সরকার সর্বক্ষণ পরিস্থিতির উপর নজর রেখে চলছে। এনডিআরএফ দলগুলিকে যথাযথ প্রশিক্ষণ দিয়ে প্রস্তুত রাখা হয়েছে এবং প্রয়োজন হলে তারা দ্রুত পদক্ষেপ নেবে।