সত্যেন্দ্র জৈনের জামিনে অরবিন্দ কেজরিওয়ালের প্রতিক্রিয়া: ‘তার অপরাধ কি ছিল?’

সত্যেন্দ্র জৈনের জামিনে অরবিন্দ কেজরিওয়ালের প্রতিক্রিয়া: ‘তার অপরাধ কি ছিল?’

সত্যেন্দ্র জৈনের জামিনে অরবিন্দ কেজরিওয়ালের প্রতিক্রিয়া: ‘তার অপরাধ কি ছিল?’

দিল্লি আদালত আপ নেতা সত্যেন্দ্র জৈনকে টাকা পাচার মামলায় জামিন দিয়েছে। আম আদমি পার্টির (এএপি) প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান অরবিন্দ কেজরিওয়াল শুক্রবার এই রায়কে স্বাগত জানিয়েছেন এবং তাঁর সহযোগী সত্যেন্দ্র জৈনকে জামিন দেওয়ার জন্য আদালতের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।

দিল্লির আদালতে প্রায় দুই বছর জেল খাটার পর সত্যেন্দ্র জৈনকে জামিন মঞ্জুর করা হয়। টাকা পাচার মামলায় তিনি ২০২২ সালে গ্রেফতার হয়েছিলেন এবং দীর্ঘ সময় ধরে বিচার প্রক্রিয়ায় আটকে ছিলেন। আদালত তার দীর্ঘকালীন কারাবাস ও বিচার কার্যক্রমের বিলম্বের কথা উল্লেখ করে তাকে জামিন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।

অরবিন্দ কেজরিওয়ালের প্রতিক্রিয়া:

কেজরিওয়াল, যিনি দিল্লির প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’ (প্রাক্তন টুইটার) এ একটি পোস্টে এই সিদ্ধান্তের প্রশংসা করেন। তিনি লেখেন, “সত্যেন্দ্র জৈনও আজ জামিন পেয়েছেন, দুই বছরের বেশি সময় জেল খাটার পর। তার অপরাধ কি ছিল? তার বাড়িতে একাধিকবার তল্লাশি চালানো হয়েছিল, কিন্তু এক পয়সাও উদ্ধার হয়নি।“

কেজরিওয়াল আরও বলেন, “তার একমাত্র অপরাধ ছিল দিল্লিতে মোহল্লা ক্লিনিক গড়ে তোলা এবং সবার জন্য চিকিৎসা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে করে দেওয়া। মোদীজী তাকে জেলে পাঠিয়েছিলেন শুধুমাত্র এই কারণে যে, তিনি দরিদ্র মানুষের চিকিৎসা সেবা বন্ধ করতে চান। কিন্তু ঈশ্বর আমাদের সাথে আছেন। আজ তিনিও মুক্তি পেয়েছেন। স্বাগতম, সত্যেন্দ্র!”

সত্যেন্দ্র জৈনের মামলা:

সত্যেন্দ্র জৈন ২০২২ সালে অর্থ পাচার অভিযোগে গ্রেফতার হন। এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি) তাকে দিল্লির কিছু জমি কেনা-বেচার সঙ্গে যুক্ত একটি অর্থ পাচারের মামলায় অভিযুক্ত করে। অভিযোগের ভিত্তিতে তার বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয় এবং তিনি দীর্ঘ ১৮ মাস ধরে জেলে আটক ছিলেন। কেজরিওয়াল ও আপ নেতারা বারবার এই মামলা এবং গ্রেফতারকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা হিসেবে দাবি করেছেন।

আদালতের রায়:

দিল্লির আদালত তার জামিনের জন্য বেশ কিছু যুক্তি পেশ করে। আদালত জানায় যে, মামলার বিচার শুরু হতে এবং শেষ হতে দীর্ঘ সময় লাগবে। এছাড়া, সত্যেন্দ্র জৈনের দীর্ঘ কারাবাসের সময়সীমাও আদালতের নজরে আনা হয়। আদালত তার দীর্ঘ ১৮ মাসের কারাবাসকে বিচার প্রক্রিয়ার বিলম্ব হিসেবে উল্লেখ করে বলে, “বিচার কার্যক্রমে এই বিলম্বের কথা বিবেচনা করে, আসামিকে জামিন দেওয়ার জন্য এই পরিস্থিতি যথাযথ।”

আদালত জানিয়েছে যে, তদন্তের দেরি হওয়ায় এবং বিচার প্রক্রিয়ায় দীর্ঘ বিলম্বের কারণে জামিন দেওয়ার উপযুক্ত কারণ বিদ্যমান। জামিন মঞ্জুর করার সময় আদালত আরও উল্লেখ করেছে যে, তদন্ত সংস্থা এখন পর্যন্ত সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পেশ করতে ব্যর্থ হয়েছে।

মোহল্লা ক্লিনিকের ভূমিকা:

সত্যেন্দ্র জৈনের রাজনৈতিক কেরিয়ারে মোহল্লা ক্লিনিক প্রকল্প একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে দিল্লিতে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা জনগণের কাছে সহজলভ্য করা হয়েছিল। অল্প সময়ের মধ্যে দিল্লির বিভিন্ন স্থানে অসংখ্য মোহল্লা ক্লিনিক স্থাপন করা হয়, যেখানে বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা দেওয়া হত। বিশেষ করে দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য এটি এক বড় সাফল্য বলে বিবেচিত হয়।

কিন্তু এই ক্লিনিক প্রকল্প নিয়েই রাজনৈতিক বিরোধ দেখা দেয়। কেজরিওয়াল সরকারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময় অভিযোগ করা হয়েছিল যে, এই প্রকল্পের তহবিল ব্যবস্থাপনায় দুর্নীতি হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে সত্যেন্দ্র জৈনের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয় এবং তাকে গ্রেফতার করা হয়।

কেজরিওয়ালের মতে, জৈনের একমাত্র অপরাধ ছিল, এই মোহল্লা ক্লিনিক প্রকল্পকে বাস্তবায়ন করা এবং দরিদ্র জনগণের জন্য চিকিৎসা সেবা বিনামূল্যে দেওয়া।

এছাড়াও, পড়ুন : গ্লোবাল কার্বন মনোক্সাইড সেন্সর বাজারের আকার 2023 সালে USD 527.00 মিলিয়ন ছিল, এই প্রতিবেদনটি বাজারের বৃদ্ধি, প্রবণতা, সুযোগ এবং পূর্বাভাস 2024-2030 কভার করে


রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া:

সত্যেন্দ্র জৈনের গ্রেফতার এবং তার বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাকে কেন্দ্র করে দিল্লির রাজনীতিতে এক নতুন উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। কেজরিওয়াল এবং আম আদমি পার্টির অন্যান্য নেতারা বারবার দাবি করেছেন যে, জৈনের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা সম্পূর্ণভাবে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তারা এই অভিযোগকে কেন্দ্র করে কেন্দ্রীয় সরকারের ওপর তীব্র সমালোচনা করেছেন।

এদিকে, বিরোধী দলগুলিও এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছে। তারা দাবি করেছে যে, জৈনের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাটি সঠিক এবং তার বিরুদ্ধে তদন্ত স্বচ্ছতার সঙ্গে হওয়া উচিত।