রতন টাটার প্রয়াণে শোকাহত হরিয়ানা ও পাঞ্জাবের নেতৃবৃন্দ

রতন টাটার প্রয়াণে শোকাহত হরিয়ানা ও পাঞ্জাবের নেতৃবৃন্দ
হরিয়ানার মুখ্যমন্ত্রী নয়াব সিং সাইনি, পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী ভগবন্ত মান সহ হরিয়ানা ও পাঞ্জাবের অন্যান্য রাজনৈতিক নেতারা বিশিষ্ট শিল্পপতি ও সমাজসেবী রতন টাটার প্রয়াণে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। বুধবার রাতে মুম্বাইয়ের একটি হাসপাতালে ৮৬ বছর বয়সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন রতন টাটা।
রতন টাটার প্রয়াণে পুরো দেশ শোকের ছায়ায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়েছে। তাঁর অগ্রণী নেতৃত্বে, টাটা গ্রুপের ব্যানারে ভারতীয় শিল্প এবং অর্থনীতিতে অভূতপূর্ব সাফল্য অর্জিত হয়েছে। এছাড়াও, জনসেবা এবং স্বাস্থ্য খাতে তাঁর অনন্য অবদান ভারতকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে।
শোকবার্তায় ভগবন্ত মান
পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী ভগবন্ত মান বৃহস্পতিবার একটি শোকবার্তায় বলেন, “রতন টাটার মৃত্যু এক যুগের সমাপ্তি। ভারতীয় শিল্পজগতে তাঁর যে অবদান, তা ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব নয়।” মান আরও উল্লেখ করেন, “তাঁর মৃত্যুতে শুধু পাঞ্জাব নয়, পুরো ভারতবাসী গভীরভাবে শোকাহত। তাঁর অসামান্য নেতৃত্ব, সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতা এবং দেশের উন্নয়নে তাঁর অবদান চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।”
রতন টাটার প্রয়াণে মানের এই শোকবার্তা দেশের সকল স্তরের মানুষকে আবেগতাড়িত করেছে। টাটা গ্রুপের সঙ্গে পাঞ্জাবের সম্পর্ক অত্যন্ত গভীর। পাঞ্জাবে শিল্পবিস্তারের ক্ষেত্রে টাটার নেতৃত্বে বহু গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছিল।
নয়াব সিং সাইনির শোকবার্তা
হরিয়ানার মুখ্যমন্ত্রী নয়াব সিং সাইনি টাটার প্রয়াণে গভীর শোক প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “ভারত এবং বিশ্বের এক বিশিষ্ট শিল্পপতি, মহান দেশপ্রেমিক ও পদ্মবিভূষণ পুরস্কারপ্রাপ্ত রতন টাটার প্রয়াণ অত্যন্ত বেদনাদায়ক।”
সাইনি আরও বলেন, “তাঁর অসামান্য নেতৃত্ব এবং সেবা মনোভাবের কারণে ভারত আজ শিল্পক্ষেত্রে যে উচ্চতায় পৌঁছেছে, তার পিছনে রতন টাটার অবদান অনস্বীকার্য। তাঁর স্বপ্ন ও কাজ দেশকে সর্বদা এগিয়ে নিয়ে যাবে।” সাইনি নিজের শোকবার্তায় একথাও উল্লেখ করেন যে, “ঈশ্বর তাঁর আত্মাকে শান্তি দান করুন। ওম শান্তি।”
সাইনির এই বার্তাটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ‘এক্স’ (প্রাক্তন টুইটার)-এ প্রকাশিত হয়। শোকবার্তায় তাঁর বিশাল অনুগামীগণও তাদের দুঃখপ্রকাশ করেন এবং টাটার অসামান্য অবদানের প্রশংসা করেন।
অন্যান্য নেতৃবৃন্দের শোক
পাঞ্জাবের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ক্যাপ্টেন অমরিন্দর সিংও রতন টাটার প্রয়াণে গভীর শোকপ্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “রতন টাটা শুধু একজন বিশিষ্ট শিল্পপতি নন, তিনি ছিলেন একজন মহান মানবতাবাদী। তাঁর সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতা এবং জনসেবার মনোভাব সত্যিই অনুপ্রেরণামূলক।” অমরিন্দর সিং আরও বলেন, “তাঁর মতো উদার মনের মানুষ এই জগতে বিরল।”
হরিয়ানার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী এবং কংগ্রেস নেতা ভূপিন্দর সিং হুডা বলেন, “রতন টাটা শুধু শিল্পজগতের নয়, তিনি ভারতীয় সমাজেরও একজন অন্যতম স্তম্ভ ছিলেন। তাঁর অবদান দেশের ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।”
মুম্বাইতে শেষ শ্রদ্ধা
রতন টাটার প্রয়াণে শুধু রাজনৈতিক নেতারা নয়, সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে শিল্পজগতের বিশিষ্ট ব্যক্তিরাও শোক প্রকাশ করছেন। মুম্বাইয়ের বাড়ির সামনে এবং হাসপাতালে তাঁর অনুগামীরা শেষ শ্রদ্ধা নিবেদন করতে ভিড় করেন।
টাটা পরিবারের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত কোনও আনুষ্ঠানিক বিবৃতি প্রকাশ করা হয়নি। তবে পরিবারের ঘনিষ্ঠ সূত্রে জানা গেছে, শেষকৃত্য অনুষ্ঠান মুম্বাইতেই অনুষ্ঠিত হবে এবং এতে পরিবারের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিরা উপস্থিত থাকবেন।
রতন টাটার মৃত্যুর সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এবং টেলিভিশন চ্যানেলে তাঁর অবদানের কথা স্মরণ করা হয়। দেশজুড়ে শিল্পপতি, রাজনৈতিক নেতা, সমাজসেবক এবং সাধারণ মানুষ তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করছেন।
রতন টাটার জীবনী
রতন টাটা ১৯৩৭ সালের ২৮ ডিসেম্বর মুম্বাইয়ে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি তাঁর শিক্ষাজীবন শেষ করেন হার্ভার্ড বিজনেস স্কুল থেকে এবং পরে টাটা গ্রুপের বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯১ সালে তিনি টাটা গ্রুপের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং তাঁর নেতৃত্বে কোম্পানিটি বিশ্ববাজারে নতুন উচ্চতায় পৌঁছে যায়।
তাঁর নেতৃত্বে টাটা গ্রুপ বিশ্বখ্যাত কোম্পানি টেটলি, ল্যান্ড রোভার এবং জাগুয়ার-এর অধিগ্রহণ করে, যা ভারতীয় ব্যবসায়িক ইতিহাসে এক মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত হয়। টাটার সমাজসেবামূলক কাজগুলোও প্রশংসিত হয়েছে। তিনি ব্যক্তিগতভাবে শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং দারিদ্র্য দূরীকরণে অনেক অবদান রেখেছেন।
রতন টাটা তাঁর মেধা, নেতৃত্ব এবং মানবতাবাদী কাজের জন্য ২০০৮ সালে পদ্মবিভূষণ পুরস্কারে সম্মানিত হন। তাঁর কর্মময় জীবন দেশবাসীর কাছে এক অসামান্য দৃষ্টান্ত হিসেবে থেকে যাবে।
শিল্প ও সমাজের প্রতি তাঁর অসামান্য অবদান এবং অমিত ব্যক্তিত্ব তাঁকে সর্বদাই স্মরণীয় করে রাখবে।