মিডিয়ার নীরবতায় হতাশ সাক্সী মালিক: ‘বৃজ ভূষণের অন্ধকার কীর্তির কথা কেউ বলে না’

মিডিয়ার নীরবতায় হতাশ সাক্সী মালিক: ‘বৃজ ভূষণের অন্ধকার কীর্তির কথা কেউ বলে না’

মিডিয়ার নীরবতায় হতাশ সাক্সী মালিক: ‘বৃজ ভূষণের অন্ধকার কীর্তির কথা কেউ বলে না’

প্রখ্যাত কুস্তিগির এবং অলিম্পিক পদকজয়ী সাক্সী মালিক সম্প্রতি মিডিয়ার ভূমিকা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তিনি অভিযোগ করেছেন যে, মিডিয়া তাদের বিরুদ্ধে ক্ষতিকর এবং ভুল ধারণা ছড়াচ্ছে, কিন্তু প্রাক্তন ভারতীয় কুস্তি ফেডারেশনের সভাপতি বৃজ ভূষণ শরণ সিং-এর বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ এবং মহিলা কুস্তিগিরদের সংগ্রামকে উপেক্ষা করছে। সাক্সী মালিক তার এক্স (পূর্বের টুইটার) পোস্টে এই বিষয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন।

সাক্সী মালিকের প্রতিক্রিয়া

সাক্সী মালিক মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি পোস্টে বলেন, “আমি মিডিয়ার সাথে আমার নতুন বই নিয়ে কথা বলার জন্য যোগাযোগ করেছিলাম। আমি মনে করি, গণতন্ত্রে মিডিয়া একটি শক্তিশালী মাধ্যম, এবং মহিলাদের বিষয়গুলি এর মাধ্যমে আলোচিত হওয়া উচিত। তবে আমি আজ সকাল থেকে খবর দেখছি—কোথাও মহিলাদের ইস্যু নেই, আমাদের কুস্তিগিরদের বিরুদ্ধে মিথ্যা খবর ছড়ানো হচ্ছে। বৃজ ভূষণের কোনো অন্ধকার কীর্তির কথা বলা হচ্ছে না, আর মহিলা কুস্তিগিরদের সংগ্রামের কোনো উল্লেখ নেই।”

সাক্সী মালিকের এই পোস্টটি শোরগোল ফেলে দেয়, এবং অনেকেই তার বক্তব্যের সঙ্গে সহমত প্রকাশ করেন। অনেক মহিলা অধিকার সংগঠন এবং খেলাধুলার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিত্ব তার পাশে দাঁড়িয়েছেন। সাক্সী মালিকের অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন বৃজ ভূষণ শরণ সিং, যিনি কুস্তি ফেডারেশনের প্রধান ছিলেন এবং যাকে কুস্তিগিরদের একটি অংশ দীর্ঘদিন ধরে অভিযুক্ত করে আসছেন।

বৃজ ভূষণ শরণ সিং-এর বিরুদ্ধে অভিযোগ

সাক্সী মালিক সহ অন্যান্য মহিলা কুস্তিগিররা বৃজ ভূষণের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন। এর আগে, দিল্লিতে একাধিকবার প্রতিবাদ অনুষ্ঠিত হয়েছে, যেখানে শীর্ষস্থানীয় কুস্তিগিররা দাবি করেছেন যে, বৃজ ভূষণ শরণ সিং তার ক্ষমতার অপব্যবহার করে একাধিক মহিলা কুস্তিগিরকে হয়রানি করেছেন। যদিও এসব অভিযোগ নিয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে, কিন্তু বিষয়টি নিয়ে এখনও পর্যন্ত সুনির্দিষ্ট কোন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায়নি।

মিডিয়ার ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ

সাক্সী মালিকের বক্তব্য অনুযায়ী, মিডিয়া বৃজ ভূষণ শরণ সিং-এর কুকর্ম নিয়ে আলোচনা না করে কেবল মহিলা কুস্তিগিরদের বিরুদ্ধে ভুয়া খবর ছড়াচ্ছে। তিনি আরো বলেন, “মহিলাদের বিরুদ্ধে অন্যায় হলে মিডিয়ার উচিত সেই বিষয়গুলোকে সবার সামনে তুলে ধরা। কিন্তু এখানে আমরা উল্টো চিত্র দেখছি। আমাদের কুস্তিগিরদের নামে মিথ্যা অপবাদ ছড়ানো হচ্ছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক।”

এই পরিস্থিতিতে সাক্সী মালিক এবং অন্যান্য কুস্তিগিরদের সমর্থকরা প্রশ্ন তুলছেন, কেন মিডিয়া তাদের অভিযোগগুলো গুরুত্বের সাথে নিচ্ছে না। তারা দাবি করছেন, মহিলাদের বিরুদ্ধে অপরাধের ঘটনা নিয়ে মিডিয়া সাধারণত নিরবতা পালন করে, যা এক ধরনের বৈষম্য।

এছাড়াও, পড়ুন : 2023 সালে গ্লোবাল ডিজিটাল আউট অফ হোম মার্কেটের আকার ছিল USD 2.30 বিলিয়ন, এই প্রতিবেদনটি বাজারের বৃদ্ধি, প্রবণতা, সুযোগ এবং 2024-2030 পূর্বাভাস কভার করে


সাক্সী মালিকের নতুন বই এবং তার প্রতিক্রিয়া

সাক্সী মালিকের নতুন বই প্রকাশের সময় তিনি আশা করেছিলেন যে, মিডিয়া তার বইয়ের মূল বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করবে এবং মহিলাদের বিষয় নিয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি করবে। তবে, তার বক্তব্য অনুযায়ী, মিডিয়া শুধুমাত্র তার এবং অন্যান্য কুস্তিগিরদের বিরুদ্ধে মিথ্যা গল্প ছড়াচ্ছে, যা তাকে হতাশ করেছে।

তিনি আরো বলেন, “মিডিয়া এমন একটি প্ল্যাটফর্ম যেখানে আমরা আমাদের কণ্ঠ তুলে ধরতে পারি, কিন্তু দুঃখজনকভাবে আমরা এই প্ল্যাটফর্ম থেকে সঠিক সহায়তা পাচ্ছি না। বরং আমরা দেখতে পাচ্ছি যে আমাদের বিরুদ্ধে ভুল খবর ছড়ানো হচ্ছে।”

সাক্সী মালিকের এই প্রতিক্রিয়ায় সামাজিক মাধ্যমে অনেকেই তার পাশে দাঁড়িয়েছেন এবং তার সমর্থনে পোস্ট করেছেন। তাদের মধ্যে অনেকেই মিডিয়ার দায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এবং মহিলা কুস্তিগিরদের অভিযোগগুলিকে গুরুত্ব সহকারে না নেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

কুস্তিগিরদের চলমান লড়াই

বিগত কয়েক মাস ধরে, সাক্সী মালিক সহ অন্যান্য কুস্তিগিররা বিভিন্ন ফোরামে তাদের অভিযোগ তুলে ধরেছেন। তারা বলছেন, কুস্তি ফেডারেশনের সাবেক প্রধানের বিরুদ্ধে যে অভিযোগগুলো উঠেছে, সেগুলো গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। অনেক সময় তারা প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করেছেন এবং সরকারের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন।

তবে, এখন পর্যন্ত এই বিষয়ে কোন সুনির্দিষ্ট সমাধান আসেনি। বিভিন্ন রাজনীতিবিদ এবং সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তিরাও কুস্তিগিরদের সমর্থন জানিয়েছেন, কিন্তু বৃজ ভূষণ শরণ সিং-এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে এখনো সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ দেখা যায়নি।

মহিলা কুস্তিগিরদের সমর্থনে গণমাধ্যম এবং সোশ্যাল মিডিয়া

সাক্সী মালিকের বক্তব্যের পর, সোশ্যাল মিডিয়াতে অনেক সমর্থন জেগে উঠেছে। অনেক মহিলা অধিকার কর্মী এবং সাধারণ মানুষ তাকে সমর্থন জানিয়ে বিভিন্ন পোস্ট শেয়ার করছেন। তারা মনে করছেন, মহিলাদের বিরুদ্ধে অপরাধের ঘটনাগুলো নিয়ে মিডিয়ার আরও সরব হওয়া উচিত এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে চাপ দেওয়া উচিত।

সাক্সী মালিকের মতে, মিডিয়ার নিরবতা কেবল এই সমস্যাকে আরও গভীর করে তুলছে।