বাবা সিদ্দিকির হত্যাকাণ্ড: পুত্র জিশান সিদ্দিকির বিচার দাবি, ‘আমার পরিবার ভেঙে গেছে’

বাবা সিদ্দিকির হত্যাকাণ্ড: পুত্র জিশান সিদ্দিকির বিচার দাবি, ‘আমার পরিবার ভেঙে গেছে’
জাতীয়তাবাদী কংগ্রেস পার্টির (এনসিপি) নেতা বাবা সিদ্দিকির হত্যা নিয়ে রাজনৈতিক মঞ্চ উত্তাল হলেও, তার পুত্র এবং কংগ্রেস বিধায়ক জিশান সিদ্দিকি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, এই ঘটনায় রাজনৈতিক উপাদান সংযুক্ত করা উচিত নয়। সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘এক্স’-এ একটি আবেগময় পোস্টের মাধ্যমে তিনি তার বাবার হত্যার বিরুদ্ধে কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন এবং ন্যায়বিচারের দাবি তুলেছেন।
জিশান সিদ্দিকির বার্তা সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক সাড়া ফেলে। “আমার বাবা গরিব এবং নিরীহ মানুষের জীবন ও ঘর রক্ষার জন্য নিজের জীবন হারিয়েছেন। আজ, আমার পরিবার ভেঙে গেছে। কিন্তু তার মৃত্যু কখনই রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হওয়া উচিত নয় এবং এই হত্যাকাণ্ড কখনও বৃথা যেতে পারে না। আমি ন্যায়বিচার চাই, আমার পরিবার ন্যায়বিচার চাই!” তিনি লিখেছেন।
বাবা সিদ্দিকি, যিনি মুম্বাইয়ের রাজনীতিতে প্রভাবশালী নেতা হিসেবে পরিচিত ছিলেন, গত সপ্তাহে মুম্বাইয়ে একটি নৃশংস হামলায় নিহত হন। ঘটনার পরপরই, রাজনৈতিক মহলে নানান গুঞ্জন ওঠে এবং অনেকেই হত্যাকাণ্ডের পিছনে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তোলেন। তবে, জিশান স্পষ্টভাবে বলেন যে, এই হত্যার বিষয়ে কোনও রাজনৈতিক উদ্দেশ্য জড়ানো উচিত নয়।
পরিবারের আবেগময় অবস্থান
বাবা সিদ্দিকির হত্যার পর তার পরিবার এবং বিশেষ করে তার পুত্র জিশান সিদ্দিকি মানসিকভাবে বিধ্বস্ত অবস্থায় রয়েছেন। “আমরা এখন বিধ্বস্ত একটি পরিবার, যারা তাদের প্রধানকে হারিয়েছে। আমরা এই মুহূর্তে একটাই দাবি করছি, আমাদের প্রিয়জনের ন্যায়বিচার চাই,” তিনি এক সংবাদ সম্মেলনে জানান।
তিনি আরও যোগ করেন, “আমার বাবা কোনও রাজনৈতিক ক্ষমতা বা সম্পদ অর্জনের জন্য কাজ করেননি, বরং তিনি সবসময় মানুষের সেবা এবং গরিবদের পাশে থাকার জন্য নিজেকে উৎসর্গ করেছেন। তাই তার মৃত্যুকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করা যাবে না।”
রাজনৈতিক মহলে প্রতিক্রিয়া
বাবা সিদ্দিকির হত্যার পরপরই মুম্বাইয়ের রাজনৈতিক মহলে আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। মুম্বাইয়ের রাজনৈতিক নেতারা তাদের শোক এবং ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। এনসিপি দলের প্রধান শরদ পওয়ার থেকে শুরু করে কংগ্রেস, বিজেপি, এবং শিবসেনার নেতারা সকলেই এই হত্যাকাণ্ডের নিন্দা করেছেন এবং দোষীদের কঠোর শাস্তির দাবি তুলেছেন। তবে, এই ঘটনার পিছনে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র আছে কি না তা নিয়েও নানা আলোচনা শুরু হয়েছে।
কংগ্রেস নেতা এবং মহারাষ্ট্র বিধানসভার প্রাক্তন সদস্য সঞ্জয় নিরুপম বলেন, “এটি একটি দুঃখজনক ঘটনা। আমরা প্রত্যেকেই এই হত্যাকাণ্ডের যথাযথ তদন্ত চাই। কিন্তু কোনও রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নিয়ে এই হত্যার ঘটনা ব্যবহার করা উচিত নয়।”
বিজেপি নেত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিস এই হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, “আমরা মহারাষ্ট্র সরকার এবং পুলিশ প্রশাসনকে অনুরোধ করছি, অবিলম্বে এই হত্যাকাণ্ডের দায়ীদের চিহ্নিত করে তাদের গ্রেপ্তার করা হোক এবং কঠোর শাস্তি দেওয়া হোক।”
তদন্ত এবং পুলিশের ভূমিকা
মুম্বাই পুলিশ ইতিমধ্যেই এই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাস্থলে সিসিটিভি ফুটেজ এবং অন্যান্য প্রযুক্তিগত প্রমাণ সংগ্রহ করা হচ্ছে। এখন পর্যন্ত কয়েকজন সন্দেহভাজনকে আটক করা হয়েছে এবং তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তবে, এখনো হত্যার প্রকৃত কারণ কিংবা এর পেছনে কারা আছে তা স্পষ্টভাবে জানা যায়নি।
একজন ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, “আমরা সব ধরনের দিক থেকে তদন্ত করছি এবং শীঘ্রই আমরা হত্যাকারীদের চিহ্নিত করতে পারব বলে আশা করছি।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষণ
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই হত্যাকাণ্ডের পর মুম্বাইয়ের রাজনীতিতে একটি অস্থির অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে, বাবা সিদ্দিকির মতো একজন জনপ্রিয় নেতার হত্যা রাজনৈতিক অঙ্গনে গভীর প্রভাব ফেলেছে। অনেকেই এই ঘটনাকে একটি রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে দেখছেন, যদিও এখনও পর্যন্ত কোনও প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
বিশ্লেষকরা আরও উল্লেখ করেছেন যে, এই ধরনের ঘটনা মুম্বাইয়ের রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি করতে পারে এবং রাজনৈতিক শক্তিগুলোর মধ্যে দ্বন্দ্ব বৃদ্ধি করতে পারে।
পরিবারের ভবিষ্যৎ অবস্থান
জিশান সিদ্দিকি এবং তার পরিবার এখনও শোকাহত অবস্থায় রয়েছেন এবং তারা এই মুহূর্তে শুধুমাত্র ন্যায়বিচার পেতে চান। “আমার বাবা সবসময় ন্যায়বিচারের পক্ষে ছিলেন, এবং আজ আমরা তার জন্য সেই একই ন্যায়বিচার চাই,” জিশান বলেন।
বর্তমানে, মুম্বাই পুলিশ এই হত্যাকাণ্ডের তদন্তে দ্রুত অগ্রসর হচ্ছে, এবং শীঘ্রই দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।