পশ্চিমবঙ্গ: জুনিয়র ডাক্তারদের ধর্মঘট অব্যাহত, সরকারের সঙ্গে বৈঠকে অংশগ্রহণ করবেন

পশ্চিমবঙ্গ: জুনিয়র ডাক্তারদের ধর্মঘট অব্যাহত, সরকারের সঙ্গে বৈঠকে অংশগ্রহণ করবেন
পশ্চিমবঙ্গে জুনিয়র ডাক্তারদের চলমান ধর্মঘটের মধ্যে, তারা সোমবার সরকার দ্বারা ডাকা বৈঠকে অংশগ্রহণ করবেন, তবে তাদের অনশন ধর্মঘট প্রত্যাহার করবেন না। গত ১৫ দিন ধরে জুনিয়র ডাক্তাররা তাদের সহকর্মীর ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগের প্রতিবাদে অনশন পালন করছেন। এই ঘটনা ঘটেছে কলকাতার আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে।
ঘটনার পটভূমি
কলকাতার আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে এক সহকর্মী জুনিয়র ডাক্তারকে ধর্ষণ ও হত্যা করা হয়, এই অভিযোগ সামনে আসার পর থেকেই জুনিয়র ডাক্তারদের আন্দোলন শুরু হয়। রাজ্যের সরকার, বিশেষত মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, তাদের বেশ কিছু দাবি মেনে নিলেও, স্বাস্থ্যমন্ত্রী এন এস নিগমকে সরানোর দাবি মেনে নিতে অস্বীকার করেছেন। এই বিষয়টি এখন প্রতিবাদের অন্যতম প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রীর আহ্বান
শনিবার, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ডাক্তারদের উদ্দেশ্যে অনশন ধর্মঘট প্রত্যাহারের আহ্বান জানান। তিনি জানিয়েছেন, সরকার তাদের বেশিরভাগ দাবি মেনে নিয়েছে এবং সমস্যা সমাধানের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে সবরকম চেষ্টা করা হয়েছে। তবে, মুখ্যমন্ত্রীর এ আহ্বান সত্ত্বেও, ধর্মঘটরত ডাক্তাররা এখনও পর্যন্ত তাদের অনশন ধর্মঘট চালিয়ে যাচ্ছেন।
বৈঠকের আহ্বান
জুনিয়র ডাক্তারদের অন্যতম নেতা, দেবাশীষ হালদার, রবিবার পিটিআই-কে জানিয়েছেন যে, তাদের একটি সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয় এবং সেখানে তারা সিদ্ধান্ত নেন যে, সরকারের সঙ্গে আলোচনা করতে তারা প্রস্তুত। মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের শর্ত ছিল অনশন প্রত্যাহার করা, তবে তারা আলোচনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত সেই বিষয়ে কোনও সিদ্ধান্ত নেবেন না বলে জানিয়েছেন।
জুনিয়র ডাক্তারদের দাবি
জুনিয়র ডাক্তারদের দাবি ছিল, স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে পদত্যাগ করতে হবে এবং ঘটনা তদন্তে সঠিক ব্যবস্থা নিতে হবে। যদিও সরকার বেশ কয়েকটি দাবি মেনে নিয়েছে, তবুও নিগমের অপসারণের প্রশ্নে এখনও কোনও সমাধান আসেনি। এই দাবি না মেটার কারণে তারা ধর্মঘট চালিয়ে যাচ্ছেন এবং আরও বড় আন্দোলনের হুমকি দিয়েছেন।
আগামী কর্মসূচি
জুনিয়র ডাক্তারদের আন্দোলনের পরবর্তী ধাপ সম্পর্কে জানা যায় যে, তারা যদি সোমবারের বৈঠকে কোনও সন্তোষজনক সমাধান না পান, তবে ২২ অক্টোবর থেকে রাজ্যজুড়ে সমস্ত মেডিক্যাল পেশাদারদের ধর্মঘট শুরু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এতে রাজ্যের স্বাস্থ্য পরিষেবায় বড় ধরনের বিপর্যয়ের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
সরকারের প্রতিক্রিয়া
সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে স্বাস্থ্য মন্ত্রক এই পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করছে এবং সকলের দাবি মেনে নিয়ে সমাধানের চেষ্টা করছে। তবে, মুখ্যমন্ত্রী মন্ত্রীর অপসারণের প্রশ্নে আপাতত অনড় অবস্থান নিয়েছেন।
এদিকে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় চিকিৎসকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেছেন যে, মানুষের সেবা প্রথমে হওয়া উচিত এবং কোনও পরিস্থিতিতে চিকিৎসা পরিষেবা ব্যাহত করা উচিত নয়। তিনি আরও বলেছেন যে, এই ধরনের আন্দোলন বা ধর্মঘট মানুষের জন্য ক্ষতিকারক হতে পারে এবং এর ফলে সাধারণ মানুষকে স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হতে হবে।
অতীত অভিজ্ঞতা
এ ধরনের আন্দোলন পশ্চিমবঙ্গের চিকিৎসা খাতের জন্য নতুন নয়। ২০১৯ সালেও জুনিয়র ডাক্তাররা এক বৃহৎ আন্দোলন করেছিলেন, যা রাজ্যজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল। সেই সময়ও চিকিৎসা খাতে সংকটের সৃষ্টি হয়েছিল এবং রাজ্য সরকারকে বড় ধরনের চাপের মধ্যে পড়তে হয়েছিল। এবারও তেমন একটি পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সামাজিক প্রতিক্রিয়া
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জুনিয়র ডাক্তারদের আন্দোলন নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। একদিকে অনেকেই জুনিয়র ডাক্তারদের সমর্থন করছেন, অন্যদিকে সাধারণ মানুষ স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে সমস্যায় পড়ছেন বলে অভিযোগ করছেন। অনেকেই মনে করছেন যে, এই ধরনের বড় ধরনের আন্দোলন মানুষের স্বাস্থ্য পরিষেবা ব্যাহত করছে, যা সমাধান খোঁজার চেয়ে আরও জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে।
এই পরিস্থিতিতে, আগামী সোমবারের বৈঠকের ওপর নির্ভর করছে আন্দোলনের ভবিষ্যৎ।