দিল্লির বায়ু দূষণ: ১৩টি হটস্পট চিহ্নিত, সমন্বয় কমিটি গঠন করেছে দিল্লি সরকার

দিল্লির বায়ু দূষণ: ১৩টি হটস্পট চিহ্নিত, সমন্বয় কমিটি গঠন করেছে দিল্লি সরকার
দিল্লি, ১৮ অক্টোবর, ২০২৪: রাজধানী দিল্লির বায়ু দূষণের পরিস্থিতি ক্রমশ উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে, বিশেষ করে শীতকালের আগমনের প্রাক্কালে। পরিবেশমন্ত্রী গোপাল রাই শুক্রবার ঘোষণা করেছেন যে, দিল্লি সরকার শহরের ১৩টি এলাকাকে দূষণের হটস্পট হিসাবে চিহ্নিত করেছে। এই এলাকাগুলিতে বায়ু দূষণের মাত্রা “খুব খারাপ” হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে এবং সেখানে স্থানীয় দূষণের উৎস চিহ্নিত ও নিয়ন্ত্রণের জন্য একটি সমন্বয় কমিটি গঠন করা হয়েছে।
দিল্লির এই হটস্পটগুলি হলো নরেলা, বাওয়ানা, মুন্ডকা, ওয়াজিরপুর, রোহিনী, আর কে পুরম, ওখলা, জাহাঙ্গীরপুরী, আনন্দ বিহার, পাঞ্জাবি বাগ, মায়াপুরি, এবং দ্বারকা সেক্টর-৮। এই এলাকাগুলিতে বায়ুর গুণমান সূচক (AQI) ৩০০ অতিক্রম করেছে, যা “খুব খারাপ” অবস্থার ইঙ্গিত দেয়।
দিল্লির বায়ু গুণমান সূচক ও দূষণ পরিস্থিতি
গোপাল রাই বলেন, “দিল্লির বায়ু গুণমান সামগ্রিকভাবে ‘খারাপ’ হলেও এই ১৩টি এলাকায় এটি বিশেষভাবে ‘খুব খারাপ’ অবস্থায় পৌঁছেছে।” তিনি আরও জানান, শীতকালে বায়ু দূষণের মাত্রা বাড়তে থাকে এবং এই সময়ে শহরের দূষণ পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে। এর মধ্যে মূলত হিমায়িত তাপমাত্রা, স্থবির বাতাস এবং যানবাহন ও শিল্পের দূষণ একত্রে বায়ুর গুণমানকে ব্যাপকভাবে প্রভাবিত করে।
বিশেষত, দিল্লি ও তার পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে এই সময়ে কৃষি পোড়ানোর কারণে পাঞ্জাব, হরিয়ানা, এবং পশ্চিম উত্তর প্রদেশ থেকে ধোঁয়া আসা শুরু হয়। এটি দিল্লির বায়ু গুণমানে ব্যাপক প্রভাব ফেলে এবং AQI দ্রুত বাড়িয়ে দেয়।
১৩টি হটস্পটের সমন্বয়ে কমিটি গঠন
এই দূষণ পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য দিল্লি সরকার ১৩টি হটস্পট চিহ্নিত করেছে, যেখানে বায়ুর গুণমান অত্যন্ত খারাপ অবস্থায় রয়েছে। এই এলাকাগুলিতে স্থানীয় দূষণের উৎস চিহ্নিত করে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে সরকারের পক্ষ থেকে একটি সমন্বয় কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটি প্রত্যেক এলাকার জন্য পৃথকভাবে দায়িত্ব পালন করবে এবং দূষণ নিয়ন্ত্রণের জন্য স্থানীয় প্রশাসন এবং পৌর কর্পোরেশনের সঙ্গে সমন্বয় সাধন করবে।
পরিবেশমন্ত্রী গোপাল রাই বলেন, “এই হটস্পটগুলিতে দূষণ বাড়ছে এবং এর উৎস শনাক্ত করে স্থানীয় স্তরে পদক্ষেপ নেওয়া হবে। ইতিমধ্যে পৌর কর্পোরেশনের ডেপুটি কমিশনারদের (MCD DCs) দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, এবং তারা স্থানীয় দূষণের উৎস সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করছেন।”
দূষণ মোকাবিলায় স্থানীয় স্তরে উদ্যোগ
পরিবেশ মন্ত্রক এবং দিল্লি সরকারের অন্যান্য বিভাগগুলির মধ্যে সমন্বয় সাধন করে বায়ু দূষণ কমানোর জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে রাস্তা ধুলো নিয়ন্ত্রণ, শিল্প দূষণ রোধ, যানবাহন দূষণ নিয়ন্ত্রণ, এবং নির্মাণ সাইটগুলিতে ধুলো দূষণ রোধের জন্য কড়া নিয়মাবলি প্রয়োগ।
বিশেষত, দিল্লি ট্রাফিক পুলিশ, পরিবেশ মন্ত্রক, এবং স্থানীয় পৌর কর্তৃপক্ষ একসঙ্গে কাজ করে যানবাহনের নির্গমন নিয়ন্ত্রণে বিশেষ পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। কমিউনিটি স্তরে সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে পরিবেশবান্ধব পদ্ধতি প্রচার করাও এই পরিকল্পনার অংশ।
বায়ু দূষণ সূচক ও তার প্রভাব
দিল্লির বায়ু গুণমান পর্যবেক্ষণ করতে নিয়মিতভাবে AQI (Air Quality Index) পরিমাপ করা হয়। AQI মান ০ থেকে ৫০ এর মধ্যে থাকলে তা “ভাল”, ৫১ থেকে ১০০ এর মধ্যে থাকলে “মাঝারি”, ১০১ থেকে ২০০ এর মধ্যে থাকলে “খারাপ”, ২০১ থেকে ৩০০ এর মধ্যে থাকলে “খুব খারাপ”, এবং ৩০০ এর উপরে থাকলে “বিপজ্জনক” হিসেবে চিহ্নিত হয়। বর্তমানে দিল্লির এই ১৩টি এলাকায় AQI ৩০০ অতিক্রম করেছে, যা বায়ু গুণমানের “খুব খারাপ” অবস্থার ইঙ্গিত দেয়।
বায়ু দূষণের প্রভাবে শ্বাসকষ্ট, ফুসফুসের রোগ, এবং হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ছে। বিশেষত শিশু, প্রবীণ এবং শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত ব্যক্তিদের জন্য এই সময়ে স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য বিশেষ সতর্কতা প্রয়োজন।
শীতকালে দূষণ পরিস্থিতি
দিল্লিতে শীতকালে বায়ু দূষণের পরিস্থিতি সবচেয়ে খারাপ হয়। বায়ুমণ্ডলের নিম্ন তাপমাত্রা এবং শীতল হাওয়ার কারণে দূষিত কণাগুলি বায়ুর নিম্নস্তরে আটকে যায়, যা শহরের বায়ু গুণমানকে বিপজ্জনক পর্যায়ে নিয়ে যায়। এছাড়া, এই সময়ে চাহিদা বেড়ে যাওয়ার ফলে যানবাহনের সংখ্যা এবং নির্মাণ কাজের পরিমাণও বৃদ্ধি পায়, যা দূষণের মাত্রা বাড়ায়।
এছাড়াও, পড়ুন : গ্লোবাল কপার রটার মোটরস বাজারের আকার 2023 সালে USD 802.00 মিলিয়ন ছিল, এই প্রতিবেদনটি বাজারের বৃদ্ধি, প্রবণতা, সুযোগ এবং পূর্বাভাস 2024-2030 কভার করে
স্থানীয় প্রশাসনের পদক্ষেপ
দিল্লি সরকার এবং স্থানীয় প্রশাসন দূষণ মোকাবিলায় বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে, যার মধ্যে রাস্তা ধুলা নিয়ন্ত্রণ, শিল্প দূষণ নিয়ন্ত্রণ, এবং যানবাহনের নির্গমন নিয়ন্ত্রণের ওপর বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে। শীতকালীন দূষণ নিয়ন্ত্রণের জন্য দিল্লি সরকারের পক্ষ থেকে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার ঘোষণা করা হয়েছে।
এছাড়া, নির্মাণ সাইটগুলিতে কড়া নিয়মাবলি আরোপ করা হয়েছে, যেখানে ধুলো দূষণ রোধে পানি ছিটানো এবং নির্মাণ সামগ্রীর যথাযথ সংরক্ষণ ব্যবস্থা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
এই দূষণ পরিস্থিতি মোকাবিলায় সাধারণ মানুষকে সচেতন করে তুলতেও বিভিন্ন প্রচারাভিযান শুরু করেছে সরকার।