তিরুপতি লাড্ডু বিতর্ক: অন্ধ্র মন্দিরে ‘শুদ্ধিকরণ’ শীঘ্রই হবে, জানালেন চন্দ্রবাবু নাইডু

তিরুপতি লাড্ডু বিতর্ক: অন্ধ্র মন্দিরে ‘শুদ্ধিকরণ’ শীঘ্রই হবে, জানালেন চন্দ্রবাবু নাইডু

তিরুপতি লাড্ডু বিতর্ক: অন্ধ্র মন্দিরে ‘শুদ্ধিকরণ’ শীঘ্রই হবে, জানালেন চন্দ্রবাবু নাইডু

তারিখ: ২১ সেপ্টেম্বর  ২০২৪
অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী এন চন্দ্রবাবু নাইডু ঘোষণা করেছেন যে রাজ্যের সমস্ত মন্দিরে শীঘ্রই একটি “শুদ্ধিকরণ প্রক্রিয়া” চালু করা হবে। এই সিদ্ধান্ত এসেছে তিরুপতি লাড্ডুর প্রস্তুতিতে “পশুর চর্বি” ব্যবহারের অভিযোগের পর। মুখ্যমন্ত্রী নাইডু এ কথা জানিয়েছেন যে, শীর্ষস্থানীয় ধর্মীয় নেতাদের সাথে পরামর্শ করে এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

তিরুপতি লাড্ডু বিতর্ক
তিরুপতি লাড্ডু বিতর্ক শুরু হয় যখন চন্দ্রবাবু নাইডু এবং তার দল তেলেগু দেশম পার্টি (টিডিপি) অভিযোগ করেন যে, পূর্ববর্তী ওয়াইএসআর কংগ্রেস পার্টির (ওয়াইএসআরসিপি) শাসনামলে তিরুমালা লাড্ডুর প্রস্তুতিতে গরুর চর্বি, শূকরের চর্বি এবং মাছের তেল ব্যবহৃত হয়েছিল। উল্লেখ্য, এই লাড্ডু তিরুমালা তিরুপতি দেবস্থানম (টিটিডি) দ্বারা প্রস্তুতকৃত এবং ভগবান ভেঙ্কটেশ্বরকে নিবেদন করা হয়।

এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে রাজ্যজুড়ে ধর্মীয় অনুভূতিতে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং লাড্ডু বিতর্ক নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনও সরগরম হয়ে ওঠে। মুখ্যমন্ত্রী নাইডু এই ইস্যুতে তার দলের পক্ষ থেকে সরাসরি সরকারের প্রতি সমালোচনা করেন এবং বলেন যে জনগণের ধর্মীয় অনুভূতিকে শ্রদ্ধা জানিয়ে সরকারকে এই বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে।

শুদ্ধিকরণ প্রক্রিয়া শীঘ্রই শুরু হবে
শনিবার, তেলেগু দেশম পার্টির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া বক্তব্যে নাইডু বলেন, “ধর্মীয় অনুভূতিকে সম্মান জানানো আমাদের প্রথম অগ্রাধিকার। আমরা শীঘ্রই শুদ্ধিকরণ প্রক্রিয়া চালু করব এবং এটি করতে শীর্ষ ধর্মীয় নেতাদের পরামর্শ নেব।”

নাইডু আরও বলেন যে, রাজ্য সরকার পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়ার আগে জীর স্বামী, কাঞ্চি স্বামীসহ শীর্ষস্থানীয় ধর্মীয় ব্যক্তিত্বদের সাথে পরামর্শ করবে। ধর্মীয় নেতাদের সাথে পরামর্শের ভিত্তিতেই টিটিডি এবং তিরুমালা লাড্ডুর ভবিষ্যৎ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

ধর্মীয় নেতাদের সাথে পরামর্শ
নাইডু স্পষ্টভাবে জানান যে, মন্দিরের শুদ্ধিকরণ প্রক্রিয়ার আগে পন্ডিত, সাধু, পুরোহিত এবং অন্যান্য হিন্দু ধর্মবিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নেওয়া হবে। “এই বিতর্ক খুবই স্পর্শকাতর এবং আমরা নিশ্চিত করতে চাই যে, ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত না করে এবং সকলের বিশ্বাস অক্ষুণ্ণ রেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে,” বলেন নাইডু।

এছাড়াও, পড়ুন: গ্রাফাইট হটপ্লেট মার্কেট

তিনি আরও জানান, “আমরা জনগণের বিশ্বাস এবং ধর্মীয় বিশ্বাসকে সম্পূর্ণ সম্মান জানাই। টিটিডির মত একটি প্রতিষ্ঠানের উপর দায়িত্বে থাকা বিষয়গুলো নিয়ে আমাদের সচেতন থাকতে হবে।”

তিরুমালা তিরুপতি দেবস্থানম রাজ্যের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান এবং প্রতিদিন হাজার হাজার ভক্ত তিরুমালার ভেঙ্কটেশ্বর মন্দিরে ভগবান ভেঙ্কটেশ্বরের দর্শনে আসেন। তিরুমালা লাড্ডু এই মন্দিরের প্রসাদ হিসেবে সমগ্র ভারতজুড়ে জনপ্রিয়। নাইডু সরকারের এই সিদ্ধান্ত ভক্তদের মাঝে সমর্থন এবং সরকারের ধর্মীয় দায়িত্বের প্রতি প্রতিশ্রুতি প্রদর্শন করছে।

রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া
এই সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে অন্ধ্রপ্রদেশের রাজনীতিতে আবার উত্তেজনা ছড়িয়েছে। ওয়াইএসআর কংগ্রেস পার্টির নেতারা এই অভিযোগকে ভিত্তিহীন এবং রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র হিসেবে অভিহিত করেছেন। তাদের দাবি, “ওয়াইএসআরসিপি কখনো তিরুমালার মতো পবিত্র স্থানের মর্যাদাহানি করেনি, এবং এই বিতর্কের মাধ্যমে টিডিপি কেবল রাজনৈতিক ফায়দা লোটার চেষ্টা করছে।”

নাইডু তার পাল্টা বক্তব্যে জানান, “ধর্মীয় আচার ও অনুভূতিকে ক্ষুণ্ণ করার কোন ইচ্ছা আমাদের নেই। তবে পূর্ববর্তী শাসনকালে এমন অভিযোগ উঠেছে এবং আমরা এটি নিশ্চিত করবো যে, কোন ধরনের অন্যায় কার্যকলাপ ভবিষ্যতে আর হবে না।”

তিরুমালা লাড্ডুর ঐতিহ্য
তিরুমালা লাড্ডুর ইতিহাস প্রায় কয়েক শতাব্দী পুরোনো। ভক্তদের মধ্যে এই লাড্ডু ভগবান ভেঙ্কটেশ্বরের প্রসাদ হিসেবে অত্যন্ত পবিত্র এবং প্রিয়। তাই এই প্রসাদের উপাদান নিয়ে প্রশ্ন তোলার অর্থ হল ধর্মীয় বিশ্বাস এবং আচার-অনুষ্ঠানকে সরাসরি আঘাত করা।

তিরুপতি লাড্ডুর প্রস্তুতি প্রক্রিয়া কঠোর নিয়ম-কানুন মেনে করা হয়, এবং এটি একটি নির্দিষ্ট পদ্ধতিতে মন্দিরের নির্দিষ্ট কর্মচারীরা সম্পন্ন করেন। প্রথাগতভাবে এই লাড্ডুতে গী, চিনি, বেসন, এবং শুকনো ফলের মতো উপকরণ ব্যবহৃত হয়। তবে চন্দ্রবাবু নাইডু এবং তার দলের এই অভিযোগ যে এতে পশুর চর্বি এবং মাছের তেল ব্যবহার করা হয়েছে, তা ভক্তদের মধ্যে গুরুতর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

শুদ্ধিকরণ প্রক্রিয়া ও ভবিষ্যতের পরিকল্পনা
মুখ্যমন্ত্রী নাইডুর ঘোষণায় রাজ্যের বিভিন্ন হিন্দু মন্দিরগুলোতে শুদ্ধিকরণ প্রক্রিয়ার গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। এই প্রক্রিয়ায়, মন্দিরের প্রাচীন রীতি-নীতি অনুযায়ী বিভিন্ন ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান সম্পন্ন করা হবে, যাতে মন্দির ও তার পরিবেশ পবিত্র করা হয়।

নাইডু জানান যে, ধর্মীয় নেতাদের সাথে পরামর্শের পরই এই প্রক্রিয়া শুরু করা হবে। মন্দিরে শুদ্ধিকরণ আচার ছাড়াও ভক্তদের মনোবল বজায় রাখতে এবং মন্দির পরিচালনার ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা আনতে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করবে।

তিরুমালা লাড্ডুর বিতর্ক নিয়ে অন্ধ্রপ্রদেশের ধর্মীয় ও রাজনৈতিক অঙ্গনে যে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে, তা শীঘ্রই মিটবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে সরকারের পদক্ষেপ এবং এই প্রসঙ্গে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত কবে নেওয়া হবে, তা এখনও দেখার বিষয়।