জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়ায় দীপাবলি উদযাপনের সময় দুই পক্ষের সংঘর্ষ; স্লোগান দেওয়ার ভিডিও ভাইরাল

জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়ায় দীপাবলি উদযাপনের সময় দুই পক্ষের সংঘর্ষ; স্লোগান দেওয়ার ভিডিও ভাইরাল
দিল্লির জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে মঙ্গলবার রাতে দীপাবলি উদযাপনের সময় দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। ওই সংঘর্ষের কারণে ক্যাম্পাসে উত্তেজনা দেখা দেয় এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
এনডিটিভি ও পিটিআই সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার রাতে জামিয়ার ক্যাম্পাসে দীপাবলি উপলক্ষে আয়োজিত একটি রঙ্গোলি প্রতিযোগিতার সময় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়, যখন দুই পক্ষের মধ্যে তীব্র বাক-বিতণ্ডা শুরু হয়। বিভিন্ন ভিডিও ক্লিপে দেখা যায়, একদল ব্যক্তি ওই উৎসবের সময় স্লোগান দিতে শুরু করে, যা সংঘর্ষের রূপ নেয়।
কয়েকটি ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, দীপাবলি উদযাপনের মধ্যে ‘ফিলিস্তিন জিন্দাবাদ’ স্লোগান দেওয়া হচ্ছিল, যা আরও উত্তেজনার সৃষ্টি করে। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া ভিডিওগুলির ভিত্তিতে বলা হচ্ছে, এই স্লোগানের কারণে এক পক্ষ ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে এবং তাদের মধ্যে বিতর্ক শুরু হয়। তবে, এই দাবির সত্যতা এখনো স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
সংঘর্ষের মূল ঘটনা:
জানা যায়, সংঘর্ষটি ঘটেছে তখন, যখন বিশ্ববিদ্যালয়ে আখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ (এবিভিপি) এর উদ্যোগে দীপাবলি উপলক্ষে একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। উল্লেখ্য, এবিভিপি ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) ছাত্র সংগঠন হিসেবে পরিচিত। ক্যাম্পাসে আয়োজিত এই উৎসবের মধ্যে হঠাৎই দুই পক্ষের মধ্যে এই বিতর্ক সৃষ্টি হয়।
ক্যাম্পাসের প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, প্রথমে এই ঘটনা ছোটখাটো বিতর্ক হিসেবে শুরু হলেও, তা দ্রুতই সংঘর্ষের দিকে মোড় নেয়। দু’পক্ষের মধ্যে বাগবিতণ্ডা তীব্র আকার ধারণ করলে, পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয় এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে।
পুলিশি তৎপরতা এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা:
সংঘর্ষের পর পুলিশ জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়ার ক্যাম্পাসের বাইরে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করে। পুলিশের উপস্থিতি নিশ্চিত করা হয়, যাতে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত না হয় এবং পরিস্থিতি যেন নিয়ন্ত্রণের বাইরে না চলে যায়। দিল্লি পুলিশের একটি দল দ্রুত ক্যাম্পাসের বাইরে মোতায়েন হয় এবং তারা পরিস্থিতির ওপর নজর রাখে।
শিক্ষার্থীদের প্রতিক্রিয়া এবং সামাজিক মাধ্যমে আলোচনা:
সংঘর্ষের পর শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা যায়। অনেকেই সামাজিক মাধ্যমে এই ঘটনাটি নিয়ে তাদের মতামত ব্যক্ত করতে থাকেন। ভিডিওগুলি ভাইরাল হওয়ার সাথে সাথে, ক্যাম্পাসের মধ্যে এবং বাইরে অনেকেই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু করেন।
একাংশ শিক্ষার্থীর দাবি, দীপাবলির মতো একটি উৎসবের মধ্যে এই ধরনের স্লোগান দেওয়া কোনোভাবে যুক্তিসঙ্গত নয় এবং এটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে উত্তেজনা সৃষ্টি করার জন্য করা হয়েছিল। অন্যদিকে, কিছু শিক্ষার্থী দাবি করেছেন, তারা শুধুমাত্র ফিলিস্তিনের প্রতি সমর্থন জানাচ্ছিলেন এবং এটি কোনোভাবেই দীপাবলি উদযাপনকে বাধাগ্রস্ত করার উদ্দেশ্যে করা হয়নি।
এছাড়াও, পড়ুন : গ্লোবাল AI নজরদারি ক্যামেরা বাজারের আকার 2023 সালে USD 4.70 বিলিয়ন ছিল, এই প্রতিবেদনটি বাজারের বৃদ্ধি, প্রবণতা, সুযোগ এবং 2024-2030 পূর্বাভাস কভার করে
জামিয়া প্রশাসনের প্রতিক্রিয়া:
এই ঘটনায় জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়ার প্রশাসনের তরফ থেকে এখনো কোনো অফিসিয়াল বিবৃতি দেওয়া হয়নি। তবে, প্রশাসনের একটি সূত্র জানিয়েছে যে তারা বিষয়টি তদন্ত করে দেখছে এবং সংঘর্ষের প্রকৃত কারণ খুঁজে বের করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন সিনিয়র কর্মকর্তা বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয় একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে সব ধরনের মত প্রকাশের অধিকারকে সম্মান করে। কিন্তু এমন কোনো ঘটনা যদি ঘটে যা শিক্ষার্থীদের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি করে, তবে তা অত্যন্ত দুঃখজনক। আমরা বিষয়টি নিয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেব।”
শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত:
পুলিশ পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে এনেছে বলে জানা গেছে, এবং ক্যাম্পাসে শান্তি ফিরে এসেছে। তবে, এই ঘটনা নিয়ে দিল্লি জুড়ে আলোচনা চলছে। পুলিশ ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ঘটনার তদন্তে নেমেছে এবং আগামী কয়েক দিনের মধ্যে তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে আরও তথ্য দেওয়া হতে পারে।
এখনো পর্যন্ত এই সংঘর্ষে কোনো আহতের খবর পাওয়া যায়নি, তবে পুলিশ এবং প্রশাসন উভয়েই শিক্ষার্থীদের মধ্যে আর কোনো উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা নিয়ন্ত্রণে রাখতে কাজ করছে।