জয়শঙ্কর পাকিস্তান প্রধানমন্ত্রীর আয়োজিত নৈশভোজে যোগদান করলেন এসসিও বৈঠকের প্রাক্কালে

জয়শঙ্কর পাকিস্তান প্রধানমন্ত্রীর আয়োজিত নৈশভোজে যোগদান করলেন এসসিও বৈঠকের প্রাক্কালে

জয়শঙ্কর পাকিস্তান প্রধানমন্ত্রীর আয়োজিত নৈশভোজে যোগদান করলেন এসসিও বৈঠকের প্রাক্কালে

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রী সুব্রহ্মণ্যম জয়শঙ্কর ইসলামাবাদে পৌঁছেছেন মঙ্গলবার, সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশন (এসসিও) বৈঠকে যোগদানের জন্য। ইসলামাবাদের নূর খান বিমানবন্দরে পাকিস্তানের সিনিয়র কর্মকর্তারা তাকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান।

সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশন (এসসিও)-এর প্রধানমন্ত্রীদের বৈঠকে অংশগ্রহণ করতে এসেছেন তিনি, যা পাকিস্তানের রাজধানীতে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এসসিও-র ২৩তম মন্ত্রিপর্যায়ের বৈঠকটি এইবারের প্রধান আন্তর্জাতিক গুরুত্বসম্পন্ন বৈঠকগুলির মধ্যে একটি বলে বিবেচিত হচ্ছে।

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফ তার বাসভবনে এসসিও সদস্য দেশগুলির প্রতিনিধিদের সম্মানে একটি নৈশভোজের আয়োজন করেন, যেখানে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রী জয়শঙ্করও উপস্থিত ছিলেন। নৈশভোজের সময়, জয়শঙ্কর এবং শাহবাজ শরীফের মধ্যে সৌহার্দ্যপূর্ণ কথাবার্তা হয়। এটি ছিল পাকিস্তান এবং ভারতের মধ্যে কূটনৈতিক পর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ মেলবন্ধন, বিশেষত দুই দেশের দীর্ঘস্থায়ী সম্পর্কের প্রেক্ষাপটে।

এসসিও বৈঠকের গুরুত্ব

এসসিও একটি আন্তঃসরকারি সংস্থা, যা ২০০১ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, যার প্রধান লক্ষ্য হল নিরাপত্তা, অর্থনীতি এবং সাংস্কৃতিক সহযোগিতা বৃদ্ধি করা। এই সংস্থার সদস্য দেশগুলির মধ্যে রয়েছে ভারত, চীন, পাকিস্তান, রাশিয়া এবং অন্যান্য মধ্য এশিয়ার দেশগুলি। ২০২৪ সালের এই বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীরা আন্তর্জাতিক এবং আঞ্চলিক বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে আলোচনা করবেন।

এই বছরের বৈঠকের আলোচ্যসূচি সম্পর্কে অনেকেই আগ্রহী, বিশেষত বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে। পাকিস্তান এবং ভারতের মধ্যকার সম্পর্ক বরাবরই কূটনৈতিকভাবে চ্যালেঞ্জপূর্ণ ছিল, এবং দুই দেশের উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধিদের মধ্যে এই ধরনের কূটনৈতিক মেলবন্ধন অনেকের নজর কেড়েছে।

আন্তর্জাতিক এবং আঞ্চলিক আলোচনা

এসসিও বৈঠকের মূল আলোচ্য বিষয়গুলির মধ্যে থাকবে আঞ্চলিক নিরাপত্তা, সন্ত্রাসবাদবিরোধী প্রচেষ্টা, বাণিজ্য সহযোগিতা এবং সাংস্কৃতিক বিনিময় বৃদ্ধি। পাকিস্তান এবং ভারতের সম্পর্কের স্থিতিশীলতা এই অঞ্চলের নিরাপত্তার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।

ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে অন্যান্য সদস্য দেশগুলির প্রতিনিধিরাও অংশগ্রহণ করেছেন। পাকিস্তান সরকার আশা করছে, এই বৈঠকটি আঞ্চলিক সহযোগিতা বাড়াতে সহায়ক হবে এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পাকিস্তানের ভূমিকা আরও সুদৃঢ় করবে।

এছাড়াও, পড়ুন : SAW ডুপ্লেক্সার বাজারের আকার 10.20% এর CAGR-এ বাড়ছে, এই প্রতিবেদনটি 2024-2030 এর ধরন, বিভাজন, বৃদ্ধি এবং পূর্বাভাস দ্বারা বিশ্লেষণ কভার করে


জয়শঙ্করের সফরের প্রভাব

জয়শঙ্করের ইসলামাবাদ সফরটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি পাকিস্তান এবং ভারতের মধ্যে বিরল এক রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক মেলবন্ধনের মুহূর্ত। যদিও এই ধরনের সফরগুলি সাম্প্রতিক সময়ে খুব কমই দেখা গেছে, কিন্তু এসসিওর মতো একটি আন্তর্জাতিক মঞ্চে দুই দেশের নেতাদের উপস্থিতি নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

বৈঠকের অন্যান্য দিক

এই বৈঠকে শুধুমাত্র আঞ্চলিক নয়, বরং আন্তর্জাতিক বিষয়গুলিও আলোচনা হতে পারে। চীনের অর্থনৈতিক উদ্ভাবন এবং রাশিয়ার ভূ-রাজনৈতিক কৌশল এই বৈঠকে বিশেষভাবে প্রাধান্য পেতে পারে। পাকিস্তানের পক্ষ থেকে আশা করা হচ্ছে যে এই বৈঠকটি নতুন দ্বিপাক্ষিক এবং বহুপাক্ষিক চুক্তিগুলির জন্য একটি মঞ্চ হয়ে উঠবে।

সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশন এর এই বৈঠকে নিরাপত্তা, বাণিজ্য, সাংস্কৃতিক বিনিময়, এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিয়ে আলোচনা করা হবে।