চেন্নাই এয়ার শো মৃত্যু: বিজেপির তোপ, এমকে স্টালিনকে দায়ী করল, বলল ‘নিয়ম শুধুই পরিবারের জন্য’

চেন্নাই এয়ার শো মৃত্যু: বিজেপির তোপ, এমকে স্টালিনকে দায়ী করল, বলল ‘নিয়ম শুধুই পরিবারের জন্য’
চেন্নাইয়ের মারিনা বিচে আয়োজিত ২০২৪ সালের ভারতীয় বায়ুসেনা এয়ার শোতে ঘটে যাওয়া মৃত্যুর ঘটনায় তামিলনাড়ু সরকারের তীব্র সমালোচনা করেছে বিজেপি। তামিলনাড়ু বিজেপি সভাপতি কে. আনামালাই বলেন, “এটি নিছক একটি দুর্ঘটনা নয়, বরং এটি রাজ্য সরকারের প্রশাসনিক ব্যর্থতার পরিপ্রকাশ।” রোববারের ঘটনায় ৫ জন প্রাণ হারিয়েছেন এবং কয়েকশো মানুষ আহত হয়েছেন, যার মধ্যে প্রায় ২০০ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
প্রেক্ষাপট
রোববার, ৬ই অক্টোবর, ২০২৪ সালে চেন্নাইয়ের বিখ্যাত মারিনা বিচে ভারতীয় বায়ুসেনার এয়ার শো আয়োজন করা হয়। শোটি দেখার জন্য প্রচুর সংখ্যক মানুষ মারিনা বিচে জড়ো হয়। তবে, আয়োজনে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকায় অতিরিক্ত ভিড়, তাপদাহ এবং অপর্যাপ্ত পরিবহন ব্যবস্থার কারণে ব্যাপক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়। এর ফলে ৫ জনের মৃত্যু হয় এবং প্রায় ২০০ জন গুরুতরভাবে আহত হন। আহতদের স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং তাঁদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
বিজেপির অভিযোগ
তামিলনাড়ু বিজেপি সভাপতি কে. আনামালাই সরাসরি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী এমকে স্টালিনের নেতৃত্বাধীন ডিএমকে সরকারকে দায়ী করেছেন। আনামালাই বলেন, “আমি স্তম্ভিত হয়ে গেছি এই খবর শুনে যে ৫ জন মানুষের মৃত্যু হয়েছে এবং ২০০ জন মানুষ আহত হয়েছেন এই ভিড়ের চাপে। ভারতীয় বায়ুসেনার এয়ার শো দেখতে আসা সাধারণ মানুষের জন্য পর্যাপ্ত নিরাপত্তা, প্রাথমিক সুবিধা এবং পরিবহন ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়েছে ডিএমকে সরকার।”
সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে আনামালাই আরও বলেন, “এটি নিছক একটি দুর্ঘটনা নয়, বরং এটি সম্পূর্ণ প্রশাসনিক ব্যর্থতা। চেন্নাইয়ের মারিনা বিচে এই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ একটি অনুষ্ঠানের জন্য পর্যাপ্ত পরিকল্পনা ও ব্যবস্থাপনা করা উচিত ছিল। তবে ডিএমকে সরকারের অযোগ্যতার ফলে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন যে, “মুখ্যমন্ত্রী এমকে স্টালিন শুধুমাত্র নিজের পরিবার এবং ঘনিষ্ঠদের সুরক্ষা নিয়েই চিন্তিত, সাধারণ মানুষের সুরক্ষার প্রতি কোনো গুরুত্ব নেই। নিয়ম শুধুমাত্র পরিবারের জন্য, আর সাধারণ মানুষকে অবহেলিত করা হয়েছে।” বিজেপির মতে, এই ঘটনা প্রমাণ করে যে বর্তমান রাজ্য সরকারের প্রশাসন সম্পূর্ণরূপে ব্যর্থ হয়েছে এবং সাধারণ মানুষের জীবনের নিরাপত্তা দিতে পারছে না।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার অভাব
এই ঘটনা শুধু জনসাধারণের নিরাপত্তা ব্যবস্থার অভাবকেই তুলে ধরেনি, বরং আয়োজনের ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত প্রস্তুতির অভাবও স্পষ্ট করেছে। এমন একটি বৃহৎ আয়োজনের জন্য যা হাজার হাজার মানুষের অংশগ্রহণ প্রত্যাশা করা হয়েছিল, সেখানে জরুরি পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার কোনো পূর্ব পরিকল্পনা ছিল না। আহতরা অভিযোগ করেছেন যে, প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থাও খুবই কম ছিল এবং যারা অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন, তাঁদের দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার জন্য পর্যাপ্ত অ্যাম্বুলেন্স বা পরিবহন ব্যবস্থা ছিল না।
সরকারি প্রতিক্রিয়া
তামিলনাড়ুর সরকারের পক্ষ থেকে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে এই মৃত্যুর জন্য কোনো দায় স্বীকার করা হয়নি। তবে, চেন্নাই পুলিশের এক কর্মকর্তা জানান, অতিরিক্ত ভিড় এবং চরম গরমের কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, তদন্ত শুরু করা হয়েছে এবং এই ঘটনার জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তবে আনামালাইয়ের দাবি, “এই তদন্ত শুধুমাত্র একটি প্রহসন হবে যদি ডিএমকে সরকার নিজেই নিজেদের দোষ স্বীকার না করে। সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়েছে সরকার এবং তারা যদি এই ব্যর্থতার দায় না নেয়, তবে জনগণের প্রতি তাঁদের দায়িত্বহীনতা আরও স্পষ্ট হবে।”
জনসাধারণের প্রতিক্রিয়া
দুর্ঘটনার পরপরই ঘটনাস্থলে থাকা মানুষের মধ্যে আতঙ্কের সৃষ্টি হয়। অনেকে অভিযোগ করেছেন যে, মারিনা বিচে পর্যাপ্ত শেড বা পানীয় জলের ব্যবস্থা ছিল না, যার কারণে অনেক মানুষ তাপদাহের শিকার হয়েছেন। ঘটনার পর আহতদের দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছানোর জন্য যথাযথ পরিবহন ব্যবস্থা না থাকায় পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়ে ওঠে। বহু মানুষ দাবি করেছেন যে, আয়োজনকারীরা জনসাধারণের ভিড় সামাল দেওয়ার জন্য কোনো পরিকল্পনাই করেনি, যার কারণে এই বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়েছে।
এদিকে, স্থানীয় স্বাস্থ্যকর্মীরা জানিয়েছেন, আহতদের মধ্যে অনেকেই হিট স্ট্রোক ও ডিহাইড্রেশনের শিকার হয়েছেন। হাসপাতালের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে যে, তারা আহতদের চিকিৎসা দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে এবং সাধ্যমত সব ধরনের সহায়তা প্রদান করছে।
অতিরিক্ত জনসমাগমের ঝুঁকি
এই ধরনের জনবহুল আয়োজনের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাপনা না থাকলে বিপর্যয় ঘটতে পারে, তা এই ঘটনায় আবারও প্রমাণিত হয়েছে। আনামালাই বলেন, “ডিএমকে সরকার পুরোপুরি অযোগ্যতার পরিচয় দিয়েছে। এয়ার শো দেখতে আসা সাধারণ মানুষের জীবনকে বিপন্ন করে তোলা হয়েছে। অতিরিক্ত জনসমাগমের ঝুঁকি নিয়ে আয়োজন করার আগে প্রশাসন যদি সঠিকভাবে প্রস্তুতি নিত, তবে এই ঘটনা এড়ানো যেত।”
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্যজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। বহু রাজনৈতিক নেতা ও সাধারণ মানুষ ডিএমকে সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এবং সরকারের প্রশাসনিক ব্যর্থতার জন্য মুখ্যমন্ত্রী এমকে স্টালিনের পদত্যাগ দাবি করেছেন।