ঘূর্ণিঝড় ডানা: ওড়িশা ও পশ্চিমবঙ্গে প্রভাব, ২৫ অক্টোবরের আগে অবরুদ্ধ রেল পরিষেবা, স্কুল বন্ধ

ঘূর্ণিঝড় ডানা: ওড়িশা ও পশ্চিমবঙ্গে প্রভাব, ২৫ অক্টোবরের আগে অবরুদ্ধ রেল পরিষেবা, স্কুল বন্ধ

ঘূর্ণিঝড় ডানা: ওড়িশা ও পশ্চিমবঙ্গে প্রভাব, ২৫ অক্টোবরের আগে অবরুদ্ধ রেল পরিষেবা, স্কুল বন্ধ

ওড়িশা ও পশ্চিমবঙ্গের উপকূলবর্তী অঞ্চলে শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় ডানা ২৫ অক্টোবর আছড়ে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ঘূর্ণিঝড়টির প্রভাবে ১০০-১১০ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টা বাতাসের গতিবেগ, যা দমকা হাওয়ায় ১২০ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছতে পারে বলে জানিয়েছে ভারতের আবহাওয়া দপ্তর। পরিস্থিতি মোকাবিলায় দুই রাজ্যের প্রশাসন বিভিন্ন ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।

ওড়িশা ও পশ্চিমবঙ্গের প্রস্তুতি

ওড়িশা সরকার ইতিমধ্যে ১৪টি জেলায় ৩,০০০টিরও বেশি গ্রাম থেকে ১০ লাখের বেশি মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এই জেলাগুলির মধ্যে রয়েছে বালাসোর, ভদ্রক, জাজপুর, কেন্ড্রাপাড়া, পুরী, এবং আরও অন্যান্য উপকূলীয় এলাকা, যেগুলি এই ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। অর্ধেকের বেশি রাজ্যবাসী এই ঘূর্ণিঝড়ে প্রভাবিত হতে পারে বলে সরকার সতর্ক করেছে।

পশ্চিমবঙ্গেও একই রকম সতর্কতা জারি করা হয়েছে। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন যে, সরকার ঘূর্ণিঝড় ডানার মোকাবিলায় প্রস্তুত। সব ধরনের উদ্ধার এবং পুনর্বাসনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে বলে প্রশাসন আশ্বস্ত করেছে।

রেল পরিষেবা বিপর্যস্ত

ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে পূর্ব রেলওয়ের অধীনে ১৯৮টি ট্রেন বাতিল করা হয়েছে, যার মধ্যে বেশিরভাগই ওড়িশা ও পশ্চিমবঙ্গ দিয়ে যাতায়াত করে। টিরুনেলভেলি থেকে শালিমার গামী বিশেষ ট্রেন (ট্রেন নং ০৬০৮৭) ২৪ অক্টোবরের যাত্রা বাতিল করা হয়েছে। পাশাপাশি ভুবনেশ্বর থেকে রামেশ্বরমগামী সুপারফাস্ট এক্সপ্রেস ট্রেনের (ট্রেন নং ০২৮৯৬) ২৫ অক্টোবরের যাত্রাও বাতিল করা হয়েছে।

এ ছাড়াও আরও অনেক ট্রেন বাতিল হতে পারে বলে পূর্ব রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। ঘূর্ণিঝড়ের কারণে ট্রেন চলাচলে বিপর্যয় ঘটেছে এবং ক্ষতির আশঙ্কায় ট্রেন চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

স্কুল ও অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ

ওড়িশা ও পশ্চিমবঙ্গ সরকারের তরফ থেকে জানানো হয়েছে, যে সমস্ত এলাকাগুলি ঘূর্ণিঝড়ের ক্ষতির সম্ভাব্য তালিকায় রয়েছে, সেগুলি থেকে শিক্ষার্থীদের সুরক্ষার জন্য সব ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও, উপকূলীয় অঞ্চলগুলোতে স্কুলগুলোকে অস্থায়ী ত্রাণ শিবিরে পরিণত করা হয়েছে, যেখানে উপদ্রুত এলাকার মানুষদের আশ্রয় দেওয়া হবে।

জেলেদের সতর্কবার্তা

মৎস্যজীবীদের সমুদ্রে যেতে নিষেধ করা হয়েছে। ইতিমধ্যেই, প্রশাসন উপকূলবর্তী অঞ্চলে কাজ করা মৎস্যজীবীদের অবিলম্বে ফিরে আসার নির্দেশ দিয়েছে। বালাসোরের বাহাবলপুর জেটিতে স্থানীয় বিধায়ক মানস কুমার দত্ত মৎস্যজীবীদের সঙ্গে কথা বলে সতর্ক করেছেন এবং তাদের নিরাপদ স্থানে সরে যেতে বলেছেন।

সরকারি উদ্যোগ ও প্রস্তুতি

ওড়িশা সরকারের বিপর্যয় ব্যবস্থাপনা দলগুলি ইতিমধ্যে মাঠে নেমেছে। জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা দল (NDRF) এবং রাজ্য বিপর্যয় ব্যবস্থাপনা দল (ODRAF) তৈরি রয়েছে এবং উপকূলবর্তী এলাকায় সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে। পশ্চিমবঙ্গ সরকারও একইভাবে বিপর্যয় মোকাবিলায় রাজ্য জুড়ে সতর্কতা জারি করেছে। উপকূলবর্তী অঞ্চলে অতিরিক্ত প্রশাসনিক কর্মীদের মোতায়েন করা হয়েছে এবং জনগণের সুরক্ষার জন্য সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

যানবাহন ও অন্যান্য পরিষেবা ব্যাহত

ঘূর্ণিঝড়ের কারণে শুধুমাত্র রেল পরিষেবা নয়, অন্যান্য পরিবহন ব্যবস্থাও ব্যাহত হতে পারে। বেশ কয়েকটি বাস রুট বন্ধ করার পরিকল্পনা রয়েছে এবং গাড়িচালকদের নিরাপদ স্থানে গাড়ি রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। প্রশাসন থেকে জানানো হয়েছে, ঝড়ের সময় বাড়ির ভিতরে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে এবং অপ্রয়োজনীয়ভাবে বাইরে না যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

এছাড়াও, পড়ুন : গ্লোবাল এলসিডি টাইমিং কন্ট্রোলার বাজারের আকার 2023 সালে USD 1.50 বিলিয়ন ছিল, এই প্রতিবেদনটি বাজারের বৃদ্ধি, প্রবণতা, সুযোগ এবং 2024-2030 পূর্বাভাস কভার করে


আবহাওয়া দপ্তরের সতর্কবার্তা

ভারতের আবহাওয়া দপ্তর ইতিমধ্যে উচ্চ সতর্কতা জারি করেছে এবং জনগণকে সমস্ত সতর্কতা অবলম্বন করার পরামর্শ দিয়েছে। ঘূর্ণিঝড় ডানা ধীরে ধীরে শক্তি বৃদ্ধি করছে এবং ২৫ অক্টোবর ভোরবেলা ওড়িশা ও পশ্চিমবঙ্গের উপকূলে আছড়ে পড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। ফলে, আগামী ৪৮ ঘণ্টা উপকূলবর্তী অঞ্চলের মানুষের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

এই মুহূর্তে, সমস্ত সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান জরুরি পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত রয়েছে এবং নাগরিকদের কাছে আবেদন করা হয়েছে যে, তারা সরকারি নির্দেশনা মেনে চলুক এবং প্রয়োজনীয় সর্তকতা গ্রহণ করুক।

প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ ও সহায়তা

সরকারি ত্রাণকেন্দ্রগুলি ইতিমধ্যেই প্রস্তুত করা হয়েছে, যেখানে প্রয়োজনীয় খাদ্য, পানীয় জল এবং প্রাথমিক চিকিৎসা সরবরাহ করা হবে। স্থানীয় প্রশাসনের তরফ থেকে স্থানীয় বাসিন্দাদের সাহায্য করার জন্য পর্যাপ্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

প্রশাসনের তরফ থেকে আরও জানানো হয়েছে, ঝড়ের পরে যে কোনও ধরনের উদ্ধার ও পুনর্বাসন কার্যক্রম চালানোর জন্য সমস্ত রকম প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।

সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে চোখ রাখুন

উল্লেখযোগ্যভাবে, ঘূর্ণিঝড় ডানার প্রভাব সম্পর্কে আরও তথ্য ও আপডেট সরবরাহ করার জন্য সংবাদমাধ্যমগুলি নিয়মিত তথ্য সরবরাহ করছে।