গ্যাংস্টার লরেন্স বিষ্ণোই এবং সালমান খান: সম্পর্ক ও বিরোধ নিয়ে আরও নতুন তথ্য প্রকাশিত

গ্যাংস্টার লরেন্স বিষ্ণোই এবং সালমান খান: সম্পর্ক ও বিরোধ নিয়ে আরও নতুন তথ্য প্রকাশিত

বলিউডের জনপ্রিয় অভিনেতা সালমান খান এবং কুখ্যাত গ্যাংস্টার লরেন্স বিষ্ণোইয়ের নাম আবারও শিরোনামে উঠে এসেছে। বিষ্ণোই পরিবারের এক সদস্য সালমান খানের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ এনেছেন এবং বিষ্ণোই গ্যাংয়ের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। তার এই বক্তব্য দেশজুড়ে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি করেছে।

বিষ্ণোই গ্যাংয়ের পক্ষে পরিবারের সদস্যের মন্তব্য

লরেন্স বিষ্ণোইয়ের কাজিন সম্প্রতি দাবি করেছেন যে লরেন্স বিষ্ণোইয়ের বিশাল সম্পত্তি রয়েছে, যার মধ্যে ১১০ একর জমিও অন্তর্ভুক্ত। তিনি সতর্ক করে দিয়েছেন যে, সালমান খানের প্রতি বিষ্ণোই গ্যাংয়ের বিরোধিতা এত সহজে শেষ হবে না। তিনি আরও বলেন যে, তাদের পরিবারে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা একটি বিশ্বাস আছে যা প্রাকৃতিক সংরক্ষণ ও পরিবেশের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। এই ধর্মীয় বিশ্বাসই মূলত সালমান খানের বিরুদ্ধে বিষ্ণোই গ্যাংয়ের ক্ষোভের কারণ।

উল্লেখ্য, ১৯৯৮ সালের ব্ল্যাকবাক হত্যার মামলায় সালমান খানের নাম ওঠার পর থেকেই বিষ্ণোই সম্প্রদায়ের মধ্যে তাকে নিয়ে ক্ষোভ ছিল। বিষ্ণোই সম্প্রদায়ের মধ্যে ব্ল্যাকবাক (কালো হরিণ) একটি পবিত্র প্রাণী হিসেবে গণ্য হয়। ২০১৮ সালে, আদালত সালমান খানকে এই মামলায় দোষী সাব্যস্ত করে পাঁচ বছরের কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছিল। যদিও তিনি পরে জামিনে মুক্তি পান, বিষ্ণোই সম্প্রদায়ের সঙ্গে তার বিরোধ তখন থেকেই চরমে ওঠে।

বিষ্ণোইয়ের জমি ও অর্থসম্পদ নিয়ে নতুন বিতর্ক

বিষ্ণোই পরিবারের সদস্যদের দাবি অনুযায়ী, লরেন্স বিষ্ণোইয়ের প্রচুর জমি ও অর্থসম্পদ রয়েছে। এই সম্পদের সঠিক উৎস নিয়ে এখনও স্পষ্ট কিছু জানা যায়নি, তবে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলি বিষ্ণোই গ্যাংয়ের আর্থিক কার্যক্রম ও সন্ত্রাসী কার্যকলাপ নিয়ে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। বিষ্ণোই সম্প্রদায়ের নেতারা বলেছেন যে তারা সালমান খানের বিরুদ্ধে তাদের ঐতিহ্য রক্ষার সংগ্রাম চালিয়ে যাবেন।

গ্যাংস্টার লরেন্স বিষ্ণোই: অপরাধ জগতের চিত্র

লরেন্স বিষ্ণোই ভারতীয় অপরাধ জগতে একটি বড় নাম হিসেবে পরিচিত। তিনি তার গ্যাং নিয়ে উত্তর ভারত জুড়ে একাধিক অপরাধমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। পুলিশের দাবি অনুযায়ী, তার গ্যাং অস্ত্রের চোরাচালান, হত্যাকাণ্ড, এবং মাদক পাচারের মতো বেশ কয়েকটি অপরাধের সঙ্গে জড়িত। তার বিরুদ্ধে কয়েক ডজন মামলা রয়েছে এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলি তার ওপর নজরদারি চালিয়ে যাচ্ছে।

লরেন্স বিষ্ণোইয়ের নাম বহুবার শিরোনামে এসেছে, বিশেষ করে বলিউডের সঙ্গে তার সম্পর্ক নিয়ে। ২০২১ সালে সালমান খানের বাড়িতে বিষ্ণোই গ্যাং থেকে হুমকির চিঠি পাঠানো হয়েছিল। চিঠিতে বলা হয়েছিল যে বিষ্ণোই গ্যাং সালমান খানের প্রাণনাশের পরিকল্পনা করছে। এই ঘটনার পর থেকে সালমান খান এবং তার পরিবারের নিরাপত্তা ব্যবস্থা কঠোর করা হয়।

হুমকি ও আতঙ্কের মধ্য দিয়ে চলা সালমান খানের জীবন

লরেন্স বিষ্ণোইয়ের সঙ্গে বিরোধের কারণে সালমান খান এবং তার পরিবারকে গত কয়েক বছর ধরে কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে থাকতে হচ্ছে। মুম্বাই পুলিশ ও অন্যান্য নিরাপত্তা সংস্থাগুলি তাকে ও তার পরিবারের সদস্যদের সুরক্ষায় বিশেষ ব্যবস্থা নিয়েছে। যদিও সালমান খান এখনও পর্যন্ত এই বিষয়ে সরাসরি কোনও মন্তব্য করেননি, তবুও বলিউডের ভেতরে ও বাইরে তার ভক্তরা এবং সহকর্মীরা বিষয়টি নিয়ে উদ্বিগ্ন।

বিষ্ণোই পরিবারের সাম্প্রতিক হুমকির পর, পুলিশের নজরদারি আরও বৃদ্ধি পেয়েছে এবং এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। যদিও তদন্ত এখনও চলমান, তবে গ্যাংস্টার এবং তার অনুসারীদের হুমকি দেশের আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বিষ্ণোই গ্যাংয়ের কার্যক্রম: অতীত থেকে বর্তমান

লরেন্স বিষ্ণোইয়ের নেতৃত্বে বিষ্ণোই গ্যাংয়ের কার্যক্রম উত্তর ভারতজুড়ে বিস্তৃত। দিল্লি, পাঞ্জাব, রাজস্থান এবং হরিয়ানাতে তাদের সক্রিয়তা বিশেষভাবে লক্ষ্য করা যায়। তাদের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে হত্যাকাণ্ড, দস্যুতা, চাঁদাবাজি, এবং অস্ত্র পাচারের মতো অপরাধের অভিযোগ রয়েছে। বিষ্ণোই গ্যাংয়ের প্রতি আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলির কড়া নজরদারি থাকা সত্ত্বেও, তারা নিজেদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ ওঠে। বিষ্ণোই সম্প্রদায়ের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক বিশ্বাসকে কেন্দ্র করে তাদের কিছু কার্যকলাপ পরিচালিত হচ্ছে বলে দাবি করেন গ্যাংয়ের সদস্যরা।

এছাড়াও, পড়ুন : ওয়্যারলেস ইন্ডাস্ট্রিয়াল রাউটার বাজারের আকার 11.50% এর CAGR এ বাড়ছে, এই প্রতিবেদনটি 2024-2030 এর ধরন, বিভাজন, বৃদ্ধি এবং পূর্বাভাস দ্বারা বিশ্লেষণ কভার করে

পুলিশের ভূমিকা এবং তদন্ত

মুম্বাই পুলিশ ও অন্যান্য রাজ্যের নিরাপত্তা সংস্থাগুলি বিষয়টি নিয়ে উচ্চ সতর্কতায় রয়েছে। বিষ্ণোই গ্যাংয়ের গতিবিধি নজরদারি করা হচ্ছে এবং তাদের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযানে নেমেছে পুলিশ। ২০২৩ সালে বিষ্ণোই গ্যাংয়ের বেশ কয়েকজন শীর্ষ নেতা গ্রেফতার করা হয়েছিল, তবে লরেন্স বিষ্ণোই এবং তার গ্যাং এখনও সক্রিয়।

বর্তমান পরিস্থিতিতে, মুম্বাই পুলিশ আবারও সালমান খানের নিরাপত্তা ব্যবস্থা পুনর্বিবেচনা করেছে। নিরাপত্তার দিক থেকে তার চলাফেরা এবং অনুষ্ঠানগুলিতে অংশগ্রহণের সময় পুলিশি প্রহরা আরও বাড়ানো হয়েছে।

সালমান খানের ভবিষ্যৎ কার্যক্রম

সালমান খান বর্তমানে বলিউডে তার আসন্ন ছবি নিয়ে ব্যস্ত। তবে গ্যাংস্টারদের হুমকির কারণে তার জীবনযাত্রায় কিছুটা পরিবর্তন এসেছে। বলিউডের অভ্যন্তরে তিনি তার সতর্কতা বাড়িয়েছেন এবং তার নিরাপত্তা দলকে সর্বদা প্রস্তুত রেখেছেন।

লরেন্স বিষ্ণোই এবং সালমান খানের মধ্যে এই বিরোধ ভবিষ্যতে কোন দিকে মোড় নেবে, তা নিয়ে দেশবাসীর নজর এখন টেলিভিশন এবং সংবাদমাধ্যমের দিকে।