কর্ণাটকে উর্দু বাধ্যতামূলক করার সিদ্ধান্তের বিরোধিতা: মুখ্যমন্ত্রীকে তেজস্বী সূর্যর চিঠি, কন্নড় ভাষা ও সংস্কৃতির উন্নতির দাবি

কর্ণাটকে উর্দু বাধ্যতামূলক করার সিদ্ধান্তের বিরোধিতা: মুখ্যমন্ত্রীকে তেজস্বী সূর্যর চিঠি, কন্নড় ভাষা ও সংস্কৃতির উন্নতির দাবি

কর্ণাটকে উর্দু বাধ্যতামূলক করার সিদ্ধান্তের বিরোধিতা: মুখ্যমন্ত্রীকে তেজস্বী সূর্যর চিঠি, কন্নড় ভাষা ও সংস্কৃতির উন্নতির দাবি

বেঙ্গালুরু: কর্ণাটক সরকারের অঙ্গনওয়াড়ি শিক্ষক পদে উর্দু ভাষাকে বাধ্যতামূলক করার সিদ্ধান্তের কড়া সমালোচনা করেছেন বিজেপি সাংসদ তেজস্বী সূর্য। কর্ণাটকের মুখ্যমন্ত্রী সিদ্দারামাইয়াকে লেখা এক চিঠিতে তিনি এই সিদ্ধান্তটি অবিলম্বে প্রত্যাহারের দাবি জানান এবং কন্নড় ভাষা ও তার সংস্কৃতির উন্নয়নকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানান।

তেজস্বী সূর্যর অভিযোগ:

মঙ্গলবার সামাজিক মাধ্যম ‘এক্স’ (সাবেক টুইটার)-এ নিজের চিঠির একটি কপি শেয়ার করে তেজস্বী সূর্য লেখেন, “কংগ্রেস কর্ণাটকে উর্দুকে বাধ্যতামূলক করার মাধ্যমে টিপু সুলতান এবং হায়দার আলীর মতামতকে পুনরুজ্জীবিত করতে চাইছে। আমি মুখ্যমন্ত্রী সিদ্দারামাইয়াকে অনুরোধ করেছি অবিলম্বে এই আদেশ প্রত্যাহার করতে এবং কন্নড় ভাষা ও তার সংস্কৃতির উন্নয়নে অগ্রাধিকার দিতে।”

চিঠির বক্তব্য:

তেজস্বী সূর্য তার চিঠিতে উল্লেখ করেন, কর্ণাটকের মুদিগের এবং চিক্কামাগালুরু জেলায় অঙ্গনওয়াড়ি শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে উর্দু ভাষার যোগ্যতা বাধ্যতামূলক করার সিদ্ধান্তটি একটি ভুল পদক্ষেপ। তিনি বলেন, “নারী ও শিশু কল্যাণ মন্ত্রণালয় অঙ্গনওয়াড়ি চাকরির জন্য উর্দু যোগ্যতার আদেশ দিয়েছে, যা সম্পূর্ণ নিন্দনীয়। এটি কংগ্রেসের তোষণমূলক রাজনীতির একটি অংশ। কর্ণাটকে কংগ্রেস ভুলে গেছে যে, কন্নড় এই রাজ্যের প্রধান ভাষা। এই সিদ্ধান্ত কন্নড়ের অস্তিত্বের উপর বড় আঘাত হানবে। তাই আমি অনুরোধ করছি, যে কর্মকর্তারা এই ধরনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তাদের বরখাস্ত করা হোক এবং যারা কন্নড়ের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হোক।”

কংগ্রেসের সিদ্ধান্তের সমালোচনা:

কর্ণাটক সরকারের এই পদক্ষেপটি কংগ্রেস সরকারের তোষণমূলক রাজনীতির একটি উদাহরণ বলে দাবি করেছেন তেজস্বী সূর্য। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, কর্ণাটক কন্নড় ভাষার জন্য সুপরিচিত এবং এর সংস্কৃতির রক্ষণাবেক্ষণ গুরুত্বপূর্ণ। এই ধরনের সিদ্ধান্ত শুধু ভাষার উপর প্রভাব ফেলবে না, এটি কন্নড়ের স্থানীয় জনগণের আবেগ এবং সংস্কৃতির প্রতি অবমাননা বলে অভিহিত করেন তিনি।

মুখ্যমন্ত্রী সিদ্দারামাইয়ার প্রতিক্রিয়া:

এখনও পর্যন্ত মুখ্যমন্ত্রী সিদ্দারামাইয়া এই বিষয়ে কোনও প্রকাশ্য প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন কিনা তা জানা যায়নি। তবে, কংগ্রেস সরকার সাধারণত এই ধরনের সিদ্ধান্তের পক্ষে যুক্তি হিসেবে রাজ্যের বিভিন্ন ভাষাভাষী জনগোষ্ঠীর সাথে সংযোগ রক্ষার প্রয়োজনীয়তা এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির কথাই তুলে ধরে থাকে।

ভাষা এবং সংস্কৃতির সংরক্ষণ:

কর্ণাটকের মত ভাষাভিত্তিক রাজ্যে কন্নড়ের গুরুত্ব অত্যন্ত বিশাল। স্থানীয় ভাষা এবং তার সাথে সম্পর্কিত সংস্কৃতির সংরক্ষণ যে কোনও রাজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সাংসদ সূর্য বলেছেন যে, কর্ণাটকের কন্নড় ভাষা এবং তার সংস্কৃতির উপর এই ধরনের আঘাত নতুন নয়, এবং তিনি বারবার এই ধরনের সিদ্ধান্তগুলির বিরুদ্ধে তার কণ্ঠস্বর তুলেছেন। সূর্যর মতে, সরকারের এই ধরনের নীতির ফলে কন্নড় ভাষার অবমূল্যায়ন হবে এবং স্থানীয় জনগণের ভাষার অধিকার হরণের শঙ্কা দেখা দেবে।

এছাড়াও, পড়ুন : ইনসেমিনেশন স্টল বাজারের বর্তমান এবং ভবিষ্যত সম্ভাবনা কি?


উর্দু ভাষার গুরুত্ব নিয়ে বিতর্ক:

কর্ণাটকের কয়েকটি অঞ্চলে উর্দু ভাষাভাষীর সংখ্যা যথেষ্ট। কিন্তু অঙ্গনওয়াড়ি শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে উর্দু বাধ্যতামূলক করার সিদ্ধান্ত বহু মানুষের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। কিছু বিশ্লেষক মনে করেন, এই সিদ্ধান্তের পিছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য থাকতে পারে। অন্যদিকে, কিছু মহল থেকে বলা হচ্ছে, রাজ্যের বিভিন্ন ভাষাগোষ্ঠীর মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরি করাই এই সিদ্ধান্তের মূল লক্ষ্য।

জনমতের প্রতিক্রিয়া:

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও এই ইস্যুটি নিয়ে প্রচুর আলোচনা হচ্ছে। বহু মানুষ এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছেন এবং কন্নড় ভাষা ও তার সংস্কৃতির উন্নয়নের দাবিতে সমর্থন জানিয়েছেন। অপরদিকে, কিছু মানুষ এই সিদ্ধান্তকে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির প্রতীক হিসেবে দেখছেন এবং উর্দু ভাষার গুরুত্বকে স্বীকার করে এগিয়ে চলার পরামর্শ দিচ্ছেন।

ভবিষ্যত প্রভাব:

এই ধরনের বিতর্কিত সিদ্ধান্ত সরকারের উপর জনসমর্থনের প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। বিশেষত কন্নড় ভাষাভাষী মানুষের মধ্যে এই ইস্যুটি প্রচণ্ড আলোড়ন সৃষ্টি করেছে এবং তা রাজনৈতিক ক্ষেত্রেও প্রতিফলিত হতে পারে।

তেজস্বী সূর্যর এই চিঠি এবং তার প্রকাশ্য বিবৃতি কন্নড় ভাষার প্রতি স্থানীয় জনগণের আবেগ ও অধিকার সুরক্ষার উপর গুরুত্বারোপ করেছে। এই পরিস্থিতিতে কর্ণাটক সরকারের সিদ্ধান্ত ও এর প্রভাব নিয়ে আগামী দিনে কী পদক্ষেপ নেওয়া হবে, তা দেখা গুরুত্বপূর্ণ। মুখ্যমন্ত্রী সিদ্দারামাইয়ার প্রতিক্রিয়া এবং সরকারের পরবর্তী পদক্ষেপই নির্ধারণ করবে যে, এই বিতর্ক কীভাবে সমাধান হবে এবং ভাষাগত ও সাংস্কৃতিক প্রশ্নে কী ধরনের নীতি গ্রহণ করা হবে।