করোনাভাইরাস মহামারির সময় স্বাস্থ্য সামগ্রী ক্রয়ে দুর্নীতি নিয়ে বিশেষ তদন্ত দল গঠনের সিদ্ধান্ত কর্ণাটক সরকারের

করোনাভাইরাস মহামারির সময় স্বাস্থ্য সামগ্রী ক্রয়ে দুর্নীতি নিয়ে বিশেষ তদন্ত দল গঠনের সিদ্ধান্ত কর্ণাটক সরকারের
কর্ণাটক সরকার বৃহস্পতিবার একটি বিশেষ তদন্ত দল (SIT) এবং মন্ত্রিসভা উপ-কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যা বিচারপতি মাইকেল ডি’কুনহা কমিশনের রিপোর্টের উপর ভিত্তি করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। বিচারপতি ডি’কুনহা কমিশন মহামারির সময় স্বাস্থ্য সামগ্রী এবং ওষুধ ক্রয়ের সময়কার অনুমিত অনিয়ম নিয়ে তদন্ত করেছে। এই সমস্ত ঘটনা তখন ঘটে যখন রাজ্যের ক্ষমতায় ছিল বিজেপি সরকার।
এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে কর্ণাটক মন্ত্রিসভার বৈঠকে, যেখানে মুখ্যমন্ত্রী সিদ্দারামাইয়া সভাপতিত্ব করেন। আইন ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী এইচ কে পাটিল বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের জানান, “৩১ আগস্ট ১১টি খণ্ডে ‘আংশিক’ রিপোর্ট জমা দেওয়া হয়েছে। সেখানে ৭,২২৩.৬৪ কোটি টাকার ব্যয় বিশ্লেষণ করা হয়েছে। যদিও রিপোর্টে কোথাও নির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়নি ঠিক কত টাকার অনিয়ম হয়েছে, তবে কমিশন ৫০০ কোটি টাকা পুনরুদ্ধারের সুপারিশ করেছে।”
কমিশন এখনো রাজ্যের ৩১টি জেলা এবং বৃহৎ বেঙ্গালুরু মহানগর পালিকে (BBMP)-এর চারটি জোনের রিপোর্ট পায়নি। কমিশন সংশ্লিষ্ট বিভাগের ৫৫,০০০টি ফাইল যাচাই করার পর এই আংশিক রিপোর্ট জমা দিয়েছে। মন্ত্রী পাটিল বলেন, রিপোর্টের ভিত্তিতে, যেখানে অপরাধমূলক ইচ্ছার প্রমাণ পাওয়া গেছে, SIT গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, মন্ত্রিসভা উপ-কমিটি গঠিত হবে রিপোর্টের উপর নজরদারি এবং পর্যালোচনা করার জন্য।
কমিশন রিপোর্ট
বিচারপতি মাইকেল ডি’কুনহা কমিশন, যা মহামারির সময়ের স্বাস্থ্য সামগ্রী ক্রয়ে অনিয়মের অভিযোগ নিয়ে তদন্ত চালিয়েছিল, তার তদন্তের পর একটি আংশিক রিপোর্ট জমা দিয়েছে। এই রিপোর্টে কমিশন প্রায় ৭,২২৩.৬৪ কোটি টাকার খরচ বিশ্লেষণ করেছে। যদিও পুরো পরিমাণে অনিয়মের কোন সুনির্দিষ্ট তথ্য নেই, তবে রিপোর্টে কমিশন ৫০০ কোটি টাকা পুনরুদ্ধারের সুপারিশ করেছে।
কমিশনের তরফ থেকে এখনও বেশ কিছু অঞ্চলের রিপোর্ট প্রাপ্তির অপেক্ষা রয়েছে। বিশেষ করে বৃহৎ বেঙ্গালুরু মহানগর পালিকে (BBMP)-এর চারটি জোন এবং রাজ্যের ৩১টি জেলার রিপোর্ট এখনও জমা পড়েনি। তবে, কমিশন ৫৫,০০০টিরও বেশি ফাইল যাচাই করেছে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিভাগ থেকে।
মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত
এই তদন্ত রিপোর্টের উপর ভিত্তি করে সরকার SIT গঠন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আইন ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী পাটিলের মতে, “এই রিপোর্টে অপরাধমূলক ইচ্ছা জড়িত থাকার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। তাই একটি বিশেষ তদন্ত দল গঠন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।” এছাড়া, মন্ত্রিসভা উপ-কমিটি গঠনেরও সিদ্ধান্ত হয়েছে, যা কমিশনের রিপোর্টের ভিত্তিতে পরবর্তী পদক্ষেপ নেবে এবং এর উপর নজরদারি করবে।
তদন্তের প্রাথমিক কারণ
মহামারির সময় বিজেপি সরকারের অধীনে স্বাস্থ্যমূলক সামগ্রী এবং ওষুধ ক্রয়ে অনুমিত অনিয়মের অভিযোগ ছিল। তখন রাজ্যের সরকার বিভিন্ন চিকিৎসা সামগ্রী এবং ওষুধ কিনেছিল, যা মহামারি নিয়ন্ত্রণে অত্যন্ত প্রয়োজনীয় ছিল। কিন্তু সেই সময়েই কিছু দুর্নীতি এবং অপচয় হয়েছে বলে অভিযোগ উঠে আসে। এই অভিযোগের ভিত্তিতেই বিচারপতি মাইকেল ডি’কুনহা কমিশন গঠন করা হয়েছিল।
কমিশনের কাজ ছিল মহামারির সময়ে রাজ্য সরকারের করা বিভিন্ন স্বাস্থ্য সম্পর্কিত ক্রয়-বিক্রয়ের বিশ্লেষণ এবং অনুমিত অনিয়ম নিয়ে তদন্ত করা। রিপোর্টে কোন নির্দিষ্ট অনিয়মের পরিমাণ উল্লেখ করা হয়নি, তবে ৫০০ কোটি টাকা পুনরুদ্ধারের সুপারিশ করা হয়েছে।
SIT এর কার্যক্রম
SIT গঠনের প্রধান উদ্দেশ্য হল মহামারির সময় স্বাস্থ্যমূলক সামগ্রী ক্রয়ে ঘটানো অনুমিত অনিয়মের তদন্ত করা এবং এই ব্যাপারে দোষীদের চিহ্নিত করা। এর পাশাপাশি মন্ত্রিসভা উপ-কমিটির কাজ হবে রিপোর্টের ভিত্তিতে তদন্ত প্রক্রিয়ার উপর নজরদারি করা এবং এই পুরো প্রক্রিয়া সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করা।
উল্লেখযোগ্যভাবে, কর্ণাটক সরকারের এই সিদ্ধান্তের পেছনে রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটও রয়েছে। মহামারির সময় এই অনুমিত দুর্নীতির ঘটনা বিজেপি সরকারের অধীনে ঘটে এবং বর্তমানে রাজ্যে কংগ্রেস সরকার ক্ষমতায় রয়েছে। তাই এই তদন্ত রিপোর্ট এবং SIT গঠনের সিদ্ধান্তের দিকে রাজ্যের রাজনৈতিক মহলের নজর রয়েছে।
উপসংহার
এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে কর্ণাটক সরকার মহামারির সময়ের অনুমিত অনিয়মের তদন্তে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। SIT গঠন এবং মন্ত্রিসভা উপ-কমিটির মাধ্যমে তদন্ত প্রক্রিয়াটি আরও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।