ইওয়াই কর্মীর মৃত্যু: রাহুল গান্ধী আন্না সেবাস্টিয়ানের বাবা-মায়ের সঙ্গে কথা বললেন, বললেন ‘আমি প্রতিশ্রুতি দিয়েছি…’

ইওয়াই কর্মীর মৃত্যু: রাহুল গান্ধী আন্না সেবাস্টিয়ানের বাবা-মায়ের সঙ্গে কথা বললেন, বললেন ‘আমি প্রতিশ্রুতি দিয়েছি...’

ইওয়াই কর্মীর মৃত্যু: রাহুল গান্ধী আন্না সেবাস্টিয়ানের বাবা-মায়ের সঙ্গে কথা বললেন, বললেন ‘আমি প্রতিশ্রুতি দিয়েছি…’

তারিখ: ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৪,

লোকসভার বিরোধী দলের নেতা রাহুল গান্ধী, ২৬ বছর বয়সী চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট আন্না সেবাস্টিয়ান পেরাইলের বাবা-মায়ের সঙ্গে ভিডিও কলে কথা বলেছেন। আন্না সম্প্রতি ইওয়াই (আর্নস্ট অ্যান্ড ইয়ং) এ কাজ করার সময় চরম কাজের চাপের কারণে মৃত্যু বরণ করেন বলে অভিযোগ ওঠে। গান্ধী তাঁদেরকে আশ্বস্ত করেছেন যে তিনি ভারতের লক্ষ লক্ষ পেশাজীবীদের কাজের পরিবেশ উন্নতির জন্য লড়বেন।

আন্নার পরিবারের সাথে ভিডিও কল

ভিডিও কনফারেন্সটি আয়োজন করেন অল ইন্ডিয়া প্রফেশনালস কংগ্রেস (এআইপিসি)-এর চেয়ারম্যান প্রবীণ চক্রবর্তী, যিনি কোচির আন্নার বাড়িতে তাঁদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। ভিডিও কলের মাধ্যমে গান্ধী পরিবারকে সমবেদনা জানিয়েছেন এবং তাঁদের সাহসিকতার প্রশংসা করেছেন। আন্নার পরিবার বিশেষ করে তাঁর মা, এমন কঠিন সময়ে যে আত্মবিশ্বাস ও দায়িত্বশীলতা দেখিয়েছেন, তাতে রাহুল গান্ধী মুগ্ধ হন। তিনি বলেন, “আমি এই বিষয়টি সংসদে উত্থাপন করব এবং লক্ষ লক্ষ পেশাজীবীদের সুরক্ষিত এবং ন্যায্য কর্মক্ষেত্রের জন্য লড়াই করব।”

গান্ধী এক্স (পূর্বে টুইটার) এ শেয়ার করা একটি ভিডিওতে বলেন, “আমি আন্না সেবাস্টিয়ানের ভেঙে পড়া বাবা-মায়ের সাথে কথা বলেছি, যিনি একজন প্রতিভাবান ও উচ্চাকাঙ্ক্ষী তরুণ পেশাজীবী ছিলেন। তাঁর জীবন বিষাক্ত এবং কঠিন কাজের পরিস্থিতির কারণে মর্মান্তিকভাবে শেষ হয়েছে।”

আন্না সেবাস্টিয়ানের মৃত্যুতে কর্মক্ষেত্রের সংস্কৃতি নিয়ে প্রশ্ন

আন্না সেবাস্টিয়ানের মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনা ভারতে কর্মক্ষেত্রের বিষাক্ত পরিবেশ সম্পর্কে একটি বড় প্রশ্ন তুলে ধরেছে। আন্না একজন চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট হিসাবে আর্নস্ট অ্যান্ড ইয়ং (ইওয়াই) সংস্থায় কর্মরত ছিলেন এবং রিপোর্ট অনুযায়ী চরম কাজের চাপের কারণে তাঁর শারীরিক এবং মানসিক অবস্থার অবনতি ঘটে, যা শেষ পর্যন্ত তাঁর মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়ায়। পরিবারের অভিযোগ, তাঁর কাজের সময় ছিল অত্যধিক, যা তাঁর স্বাস্থ্য এবং সামগ্রিক জীবনে প্রভাব ফেলেছিল।

কর্মক্ষেত্রে সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা

রাহুল গান্ধী এই ঘটনার মাধ্যমে ভারতের পেশাদার কর্মক্ষেত্রের সংস্কৃতি এবং কাজের চাপের বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাঁর মতে, এমন কর্মক্ষেত্র থাকা উচিত যেখানে একজন পেশাজীবী শুধুমাত্র উৎপাদনশীলতার জন্য নয়, তাদের মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্যের প্রতি যত্নবান থাকে। তিনি বলেন, “আমরা এমন একটি পরিবেশে কাজ করতে পারি না যেখানে তরুণ পেশাজীবীদের জীবন কাজের চাপে ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। এটি আমাদের পরিবর্তন করতে হবে।”

আন্নার মৃত্যুর পর তাঁর মা মর্মান্তিকভাবে পরিবারের একমাত্র সন্তান হারিয়েছেন, তবে তিনি তাঁর শোককে অন্যদের জন্য একটি বার্তা হিসাবে ব্যবহার করছেন। তাঁর আবেদন একটি নিরাপদ এবং ন্যায্য কর্মক্ষেত্রের জন্য, যেখানে কর্মীরা নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করলেও তাঁদের শারীরিক ও মানসিক সুস্থতার প্রতি গুরুত্বারোপ করা হবে।

গান্ধীর প্রতিশ্রুতি: ‘আমি এই লড়াইয়ে আছি’

গান্ধী প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে তিনি আন্না সেবাস্টিয়ানের মায়ের এই অনুরোধকে সংসদে তুলে ধরবেন এবং এই বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানাবেন। “আমি প্রতিশ্রুতি দিয়েছি যে আমি আন্নার স্মৃতির প্রতি সম্মান জানাতে এবং লক্ষ লক্ষ তরুণ পেশাজীবীর কর্মক্ষেত্রের মান উন্নত করতে কাজ করব,” গান্ধী বলেন।

এছাড়াও, পড়ুন: ইন্টেলিজেন্ট সুইচ প্যানেল বাজার

তিনি আরও বলেন, আন্না সেবাস্টিয়ানের এই মর্মান্তিক মৃত্যু দেশের অন্য সব পেশাজীবীদের কর্মক্ষেত্রের মান এবং কাজের ভারসাম্যের বিষয়ে ভাবতে বাধ্য করেছে। এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে সরকারের যথাযথ নীতি প্রণয়ন করা প্রয়োজন এবং তিনি এটি সুনিশ্চিত করবেন।

ভারতের কর্মক্ষেত্রের জন্য একটি নতুন দিশা

আন্না সেবাস্টিয়ানের মৃত্যুর পর বিভিন্ন কর্পোরেট কর্মচারী এবং বিশেষজ্ঞরা ভারতের কর্মক্ষেত্রের পরিবেশ এবং কাজের চাপ নিয়ে তাঁদের মতামত প্রকাশ করেছেন। অনেকেই মনে করছেন, ভারতের কর্মক্ষেত্রে প্রায়শই কর্মীদের উপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করা হয়, যা কর্মীদের মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হয়ে উঠছে। কাজের ভারসাম্য রক্ষা করা এবং কর্মীদের কল্যাণের প্রতি দায়বদ্ধতা সৃষ্টি করাই এখন সময়ের দাবি।

বিরোধীদের আহ্বান

বিরোধী দলের নেতা হিসেবে রাহুল গান্ধীর এই পদক্ষেপ কর্মক্ষেত্রের সংস্কারের জন্য একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। গান্ধী বলেন, “আন্নার মৃত্যু একটি চরম বিপর্যয় এবং আমরা সবাই এর থেকে শিক্ষা নিয়ে আমাদের কর্মক্ষেত্রকে আরও মানবিক এবং সহানুভূতিশীল করতে কাজ করব।”

এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে কর্পোরেট জগতেও বেশ আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে এবং বহু সংস্থা কর্মীদের কাজের পরিবেশ এবং কাজের সময় সম্পর্কে নতুন করে ভাবনা-চিন্তা করছে।