আরজি কর মেডিকেল কলেজের সিনিয়র ডাক্তারদের গণ পদত্যাগ, জুনিয়র ডাক্তারদের পাশে দাঁড়ালেন

আরজি কর মেডিকেল কলেজের সিনিয়র ডাক্তারদের গণ পদত্যাগ, জুনিয়র ডাক্তারদের পাশে দাঁড়ালেন
কলকাতা, ৮ অক্টোবর ২০২৪: আরজি কর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে জুনিয়র ডাক্তারদের লাগাতার আন্দোলনের মধ্যেই আজ কমপক্ষে ৪৮ জন সিনিয়র ডাক্তার ও শিক্ষক পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। শনিবার রাত থেকে অনশনরত জুনিয়র ডাক্তারদের পাশে দাঁড়াতে এই গণ পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ঘটনাটি চিকিৎসাজগতে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।
সিনিয়র ডাক্তারদের মতে, প্রায় দুই মাস ধরে জুনিয়র ডাক্তাররা তাদের দাবির পক্ষে প্রতিবাদ জানিয়ে আসছেন, কিন্তু কোনো সমাধান না পাওয়ায় তারা এবার অনশন শুরু করেছেন। অনশনরত ডাক্তারদের শারীরিক অবস্থার ক্রমশ অবনতি হচ্ছে। সিনিয়র ডাক্তার ডঃ দেবব্রত দাস, যিনি ENT বিভাগে কর্মরত, সাংবাদিকদের জানান, “জুনিয়র ডাক্তাররা আমাদের সন্তানের মতো। আমরা চুপ করে বসে থাকতে পারি না। তাই আমরা গণ পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছি।”
আন্দোলনের মূল কারণ
গত দুই মাস ধরে জুনিয়র ডাক্তাররা নিরাপত্তা বৃদ্ধি ও রাজ্য পরিচালিত হাসপাতাল ও মেডিকেল কলেজগুলির পরিকাঠামো শক্তিশালী করার দশ দফা দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন। যদিও এই দাবিগুলি রাজ্য সরকারের কাছে বারবার উত্থাপন করা হয়েছে, তাদের বক্তব্য কোনোভাবেই গুরুত্ব পায়নি বলে অভিযোগ উঠেছে।
এই অনশন ধর্মঘটের সূচনা হয় গত শনিবার রাতে, যখন রাজ্যের বিভিন্ন মেডিকেল কলেজের সাতজন জুনিয়র ডাক্তার অনির্দিষ্টকালের জন্য অনশন শুরু করেন। অনশনরতদের মধ্যে একজন আরজি কর হাসপাতালেরও সদস্য।
সরকারের প্রতিক্রিয়া
এদিকে, ঘটনার গুরুত্ব উপলব্ধি করে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যসচিব রাজ্যের স্বাস্থ্যসচিবের সঙ্গে জরুরি বৈঠকের সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানা গেছে। রাজ্য সচিবালয়ে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে পারে। তবে এই বৈঠকে কি ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হবে তা এখনও পরিষ্কার নয়।
আন্দোলনের প্রেক্ষাপট
এই জুনিয়র ডাক্তারদের দাবির মূলে রয়েছে হাসপাতালগুলিতে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং চিকিৎসা পরিকাঠামোর উন্নয়ন। তাদের অভিযোগ, রাজ্য পরিচালিত হাসপাতালগুলিতে বর্তমান নিরাপত্তা ব্যবস্থা অত্যন্ত দুর্বল। ফলে রোগীর আত্মীয়স্বজনদের দ্বারা ডাক্তারদের উপর হামলার ঘটনা প্রায়শই ঘটে।
জুনিয়র ডাক্তারদের দাবি, হাসপাতালে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন, নিরাপত্তা রক্ষীর সংখ্যা বৃদ্ধি, এবং জরুরি পরিষেবার জন্য আধুনিক সরঞ্জামের ব্যবস্থা করা অত্যন্ত প্রয়োজন। এছাড়াও, চিকিৎসকদের কাজের চাপ কমানোর জন্য পর্যাপ্ত সংখ্যক চিকিৎসক নিয়োগেরও দাবি উঠেছে।
এছাড়াও, পড়ুন :অনকোলজি প্রিসিশন মেডিসিন মার্কেটে উদীয়মান প্রবণতা
জুনিয়র ডাক্তারদের অবস্থা
অনশনরত জুনিয়র ডাক্তারদের শারীরিক অবস্থার ক্রমশ অবনতি হচ্ছে বলে জানা গেছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, ইতিমধ্যেই কয়েকজন অনশনকারীর অবস্থা আশঙ্কাজনক হয়ে উঠেছে। তবু, তারা অনশন শেষ করার কোনো ইঙ্গিত দেননি। বরং তাদের দাবি, যতক্ষণ না রাজ্য সরকার তাদের দাবিগুলি মেনে নিচ্ছে, ততক্ষণ তারা অনশন চালিয়ে যাবেন।
সিনিয়র ডাক্তারদের ভূমিকা
সিনিয়র ডাক্তারদের গণ পদত্যাগ চিকিৎসাজগতের জন্য এক বড় ধাক্কা হয়ে উঠেছে। ডঃ দেবব্রত দাস বলেন, “আমরা চুপ করে বসে থাকতে পারি না। আমাদের জুনিয়ররা দিনরাত কঠোর পরিশ্রম করে। তাদের উপর এত চাপ থাকা সত্ত্বেও কোনো সমাধান না হওয়ায় আমরা বাধ্য হয়ে এই পদক্ষেপ নিয়েছি।”
সিনিয়র ডাক্তারদের মতে, হাসপাতালগুলির পরিকাঠামোর উন্নয়ন না হলে ডাক্তারদের পক্ষে রোগীদের সঠিক পরিষেবা দেওয়া অসম্ভব। তারা এই পদত্যাগের মাধ্যমে সরকারের উপর চাপ সৃষ্টি করতে চায়, যাতে জুনিয়র ডাক্তারদের দাবি দ্রুত মেটানো হয়।
এছাড়াও, পড়ুন : গ্লোবাল রাডার ডিটেক্টর বাজারের আকার 2023 সালে USD 837.90 মিলিয়ন ছিল, এই প্রতিবেদনটি বাজারের বৃদ্ধি, প্রবণতা, সুযোগ এবং পূর্বাভাস 2024-2030 কভার করে
সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া
এই ঘটনার পর সামাজিক ও রাজনৈতিক মহলে প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। বিভিন্ন চিকিৎসক সংগঠন এবং রাজনৈতিক দল জুনিয়র ডাক্তারদের দাবির প্রতি সমর্থন জানিয়েছে। কিছু সংগঠন ইতিমধ্যেই জুনিয়র ডাক্তারদের দাবির সমর্থনে আন্দোলন করার ঘোষণা দিয়েছে।
তবে রাজ্য সরকারের তরফ থেকে এখনও পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। মুখ্যসচিব এবং স্বাস্থ্যসচিবের বৈঠকের পর এই বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে কী পদক্ষেপ নেওয়া হবে তা স্পষ্ট হতে পারে।
এই পদত্যাগের ফলে রাজ্যের চিকিৎসাব্যবস্থায় অচলাবস্থার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।