অমূল-এর নামে ভুয়া দাবি: তিরুপতি লাড্ডুর বিতর্ক নিয়ে অভিযোগ দায়ের

অমূল-এর নামে ভুয়া দাবি: তিরুপতি লাড্ডুর বিতর্ক নিয়ে অভিযোগ দায়ের
আহমেদাবাদ | আপডেট: ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৪ |
ভারতের শীর্ষস্থানীয় দুগ্ধজাত পণ্য প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান অমূল সম্প্রতি একটি গুরুতর অভিযোগের সম্মুখীন হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া মিথ্যা তথ্যের ভিত্তিতে, দাবি করা হয়েছিল যে, তিরুপতি মন্দিরের বিখ্যাত লাড্ডুর জন্য ব্যবহৃত ঘি অমূল সরবরাহ করেছে। এই তথ্যের পরিপ্রেক্ষিতে অমূল সংস্থাটি আহমেদাবাদের সাইবার ক্রাইম পুলিশ স্টেশনে একটি অভিযোগ দায়ের করেছে।
ভুয়া তথ্য ও অমূল-এর পদক্ষেপ
অমূল-এর অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে যে, মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে পড়ার ফলে সংস্থার সুনাম ক্ষতিগ্রস্ত করার উদ্দেশ্যে মিথ্যা দাবি করা হয়েছিল। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি গুজব ছড়িয়ে পড়ে যে তিরুপতি মন্দিরে যে লাড্ডু প্রসাদ বিতরণ করা হয়, সেখানে ব্যবহৃত ঘি-তে প্রাণীর চর্বি রয়েছে এবং সেই ঘি সরবরাহ করেছে অমূল। অমূল-এর পক্ষ থেকে এই অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও ভুয়া বলে জানানো হয়। প্রতিষ্ঠানটি অবিলম্বে এই মিথ্যা প্রচারের বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করে।
গুজরাট কো-অপারেটিভ মিল্ক মার্কেটিং ফেডারেশন (GCMMF)-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক জয়েন মেহতা এই বিষয়ে একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেন। তিনি বলেন, “পূর্বে এমন একটি গুজব ছড়িয়ে পড়েছিল যে তিরুপতি মন্দিরের লাড্ডুতে ব্যবহৃত ঘি অমূল সরবরাহ করেছে এবং সেই ঘি-তে প্রাণীর চর্বি রয়েছে। আমি স্পষ্ট করতে চাই যে, অমূল কখনই তিরুপতি দেবস্থানমকে ঘি সরবরাহ করেনি। যারা আমাদের প্রতিষ্ঠানকে এই বিতর্কে টেনে এনেছে এবং আমাদের সুনাম ক্ষুণ্ণ করার চেষ্টা করছে, তাদের বিরুদ্ধেই আমরা এফআইআর দায়ের করেছি।”
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অমূল-এর পদক্ষেপ
অমূল তার সামাজিক মাধ্যম প্ল্যাটফর্মে ইতোমধ্যে জানিয়ে দিয়েছে যে এই বিতর্কের সাথে তাদের কোনও সম্পৃক্ততা নেই। জয়েন মেহতা আরও বলেন, “অমূল-এর মালিকানাধীন ৩.৬ মিলিয়ন কৃষক পরিবারের জীবনযাপন এর উপর নির্ভরশীল। এই মিথ্যা প্রচার তাদের জীবিকার ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে। এজন্য আমরা এই মিথ্যা তথ্য ছড়ানোর বিরুদ্ধে আইনানুগ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছি এবং এটি বন্ধ করার জন্য দ্রুত ব্যবস্থা নিচ্ছি।”
এছাড়াও, পড়ুন: প্রাকৃতিক গ্যাস অ্যালার্ম ডিভাইস বাজার
তিনি আরও বলেন, “আমাদের পণ্যগুলি সর্বোচ্চ মানের, এবং আমরা দীর্ঘদিন ধরে আমাদের গ্রাহকদের কাছে প্রিমিয়াম মানের ঘি সরবরাহ করছি। তিরুপতি দেবস্থানমের সাথে অমূল-এর কোনও ঘি সরবরাহের সম্পর্ক নেই, এবং যারা এই মিথ্যা তথ্য ছড়িয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
তিরুপতি লাড্ডুর বিতর্কের প্রেক্ষাপট
বিতর্কের সূত্রপাত ঘটে ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৪-এ, যখন অন্ধ্রপ্রদেশের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রবাবু নাইডু দাবি করেন যে, বর্তমান ওয়াইএসআরসিপি সরকার শ্রী ভেঙ্কটেশ্বর মন্দিরের লাড্ডু তৈরিতে নিম্নমানের উপাদান এবং প্রাণীর চর্বি ব্যবহার করেছে। এর ফলে মন্দির কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। পরবর্তী ল্যাব রিপোর্টে লাড্ডুর উপাদানে প্রাণীর চর্বির উপস্থিতি পাওয়া যায়।
বিশ্ব হিন্দু পরিষদের প্রতিক্রিয়া
এই বিতর্ককে কেন্দ্র করে বিশ্ব হিন্দু পরিষদ (VHP) একে ‘গুরুতর ইস্যু’ বলে আখ্যা দিয়েছে। VHP দাবি করেছে যে, যারা এই অপরাধের সাথে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করা উচিত। মন্দিরের প্রসাদ হিসাবে লাড্ডু বিতরণের বিষয়টি ভক্তদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, এবং এই ধরনের অভিযোগ ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করেছে বলে VHP দাবি করে।
অমূল-এর বিবৃতি ও ভবিষ্যৎ পদক্ষেপ
এই বিতর্কে অমূল একেবারেই জড়িত নয়, এটি বারবার জানানো সত্ত্বেও, সামাজিক মাধ্যমে গুজব থামেনি। অমূল-এর কর্মকর্তারা উল্লেখ করেছেন যে, তাদের বিরুদ্ধে ছড়ানো মিথ্যা প্রচারের প্রতিটি ক্ষেত্রে তারা আইনগত ব্যবস্থা নিতে প্রস্তুত। কোম্পানির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তাদের সুনামের ক্ষতি হলে ক্ষতিপূরণের জন্যও তারা আদালতে যাবে।
অমূল ইতোমধ্যেই আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সহায়তায় সাইবার ক্রাইম বিভাগে এফআইআর দায়ের করেছে এবং তারা দ্রুত এই মিথ্যা প্রচার রোধ করার জন্য প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ গ্রহণ করছে।