অন্তঃসত্ত্বা কন্যাকে হত্যা মামলায় সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ: মৃত্যুদণ্ড বাতিল, ২০ বছরের কারাদণ্ড

অন্তঃসত্ত্বা কন্যাকে হত্যা মামলায় সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ: মৃত্যুদণ্ড বাতিল, ২০ বছরের কারাদণ্ড

অন্তঃসত্ত্বা কন্যাকে হত্যা মামলায় সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ: মৃত্যুদণ্ড বাতিল, ২০ বছরের কারাদণ্ড

নাশিকের বাসিন্দা একনাথ কিসান কুম্ভারকর নামে এক ব্যক্তি নিজের অন্তঃসত্ত্বা কন্যা প্রমিলাকে ২০১৩ সালের ২৮ জুন হত্যা করেন। কারণ ছিল তাঁর মেয়ের ইচ্ছার বিরুদ্ধে এক আন্তঃজাতি বিবাহ। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পর কুম্ভারকরকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছিল এবং নীচের আদালত থেকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করা হয়। কিন্তু সুপ্রিম কোর্ট তার মৃত্যুদণ্ড কমিয়ে ২০ বছরের কঠোর কারাদণ্ড ঘোষণা করেছে।

মামলার পটভূমি

২০১৩ সালের জুন মাসে প্রমিলা কুম্ভারকর তাঁর পরিবারের ইচ্ছার বিরুদ্ধে গিয়ে এক ভিন্ন জাতির পুরুষের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। পরিবারের জন্য এটি ছিল অপমানজনক। ফলে পরিবারে এক তীব্র বিরোধের সূত্রপাত হয়, যার পরিণতিতে প্রমিলার পিতা একনাথ কুম্ভারকর তাঁকে নির্মমভাবে হত্যা করেন। মামলার অভিযোগপত্র অনুযায়ী, প্রমিলা অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন এবং এই ঘটনা ঘটার সময় তাঁর গর্ভে সন্তানের বয়স কয়েক মাস ছিল।

আদালতের বিচার প্রক্রিয়া

এই হত্যাকাণ্ডের পর কুম্ভারকরকে গ্রেফতার করা হয় এবং নাশিক জেলার আদালতে বিচার শুরু হয়। তদন্তের প্রমাণের ভিত্তিতে এবং সাক্ষীদের বিবৃতি অনুযায়ী, আদালত তাকে ৩০২ ধারা অনুযায়ী দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ড ঘোষণা করে। এই রায় বম্বে হাইকোর্টেও সমর্থিত হয়।

তবে, ২০২৪ সালের ১৬ অক্টোবর, সুপ্রিম কোর্টের একটি তিন বিচারপতির বেঞ্চ, যেখানে বিচারপতি বি আর গাভাই, অরবিন্দ কুমার এবং কে ভি বিশ্বনাথন অন্তর্ভুক্ত ছিলেন, মামলাটি পুনর্বিবেচনা করে রায় দেন। সুপ্রিম কোর্ট তাঁর মৃত্যুদণ্ড বাতিল করে এবং তার পরিবর্তে ২০ বছরের কঠোর কারাদণ্ড প্রদান করে।

সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ

সুপ্রিম কোর্ট এই মামলায় মৃত্যুদণ্ড কমানোর কারণ হিসেবে বলেছে, “এই ধরনের অপরাধ গুরুতর হলেও মৃত্যুদণ্ডই সর্বোচ্চ শাস্তি হতে পারে না। এটি এমন একটি পরিস্থিতি যেখানে অপরাধীকে সংশোধন করা সম্ভব হতে পারে।” আদালত আরও জানিয়েছে যে, ২০ বছরের কঠোর কারাদণ্ড দেওয়া হবে এবং এর মধ্যে কোনো ধরণের রেহাই দেওয়া হবে না।

বিচারপতিরা তাদের রায়ে বলেন, “বিচারালয়ের প্রথম পর্যায়ের এবং উচ্চ আদালতের রায় অনুযায়ী, একনাথ কিসান কুম্ভারকরকে হত্যার দায়ে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। তবে, আমরা মনে করি মৃত্যুদণ্ডের পরিবর্তে দীর্ঘমেয়াদী কারাদণ্ড এই অপরাধের জন্য যথোপযুক্ত শাস্তি।”

সমাজে প্রতিফলন

এই ধরনের ঘটনা আমাদের সমাজের একটি গভীর সামাজিক সমস্যার প্রতি আলোকপাত করে। জাতপাতের নামে সমাজে ঘটে যাওয়া এই ধরনের নির্মম হত্যাকাণ্ড সমাজে বিদ্যমান বৈষম্য এবং কুসংস্কারের উদাহরণ। এমনকি নিজের পরিবারের মধ্যেও এর প্রভাব দেখা যায়, যেখানে প্রথাগত সামাজিক রীতিনীতি ভাঙার কারণে একজন পিতা নিজের কন্যাকে হত্যা করতে পর্যন্ত পিছপা হন না।

বিচার বিভাগের এই সিদ্ধান্ত যদিও মৃত্যুদণ্ডকে কঠোর কারাদণ্ডে রূপান্তরিত করেছে, কিন্তু এই রায় জাতপাত এবং সামাজিক কুসংস্কারের বিরুদ্ধে সমাজকে একটি শক্তিশালী বার্তা দিয়েছে।

মৃত্যুদণ্ড বনাম কঠোর কারাদণ্ড

ভারতের বিচার ব্যবস্থায় মৃত্যুদণ্ডের বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন সময়ে আলোচনা হয়েছে। অনেক বিশেষজ্ঞ মৃত্যুদণ্ডের বিরুদ্ধে, কারণ তারা মনে করেন এটি অপরাধীর সংশোধনের সম্ভাবনা সম্পূর্ণভাবে শেষ করে দেয়। অপরদিকে, কঠোর কারাদণ্ড দেওয়ার মাধ্যমে অপরাধীর শাস্তি নিশ্চিত হয়, কিন্তু তাকে সংশোধনের একটি সুযোগও দেওয়া হয়। এই মামলায় সুপ্রিম কোর্টের রায় সেই আলোচনার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে।

এছাড়াও, পড়ুন : গ্লোবাল বল ক্যামেরার বাজারের আকার 2023 সালে USD 848.00 মিলিয়ন ছিল, এই প্রতিবেদনটি বাজারের বৃদ্ধি, প্রবণতা, সুযোগ এবং 2024-2030 পূর্বাভাস কভার করে


আইনগত সিদ্ধান্তের প্রভাব

এই মামলায় সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্ত আগামী দিনের জন্য একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারে। আদালত তার রায়ে জানিয়েছে যে, সমাজে প্রতিটি অপরাধের শাস্তি তার গুরুত্ব অনুযায়ী হতে হবে, এবং শুধুমাত্র প্রতিহিংসার জন্য শাস্তি প্রদান করা ঠিক নয়। কঠোর কারাদণ্ডের মাধ্যমে অপরাধীকে শাস্তি দেওয়া যেমন অপরাধীর পুনর্বাসনের সম্ভাবনা বজায় রাখে, তেমনি তা সমাজের প্রতি একটি সতর্কবার্তাও প্রদান করে।

এই রায় ভারতীয় বিচার ব্যবস্থায় একটি উল্লেখযোগ্য নজির হিসেবে থেকে যাবে, যেখানে আদালত সমাজের রীতি-নীতি ও আইনগত প্রক্রিয়ার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখার চেষ্টা করেছে।