প্রধানমন্ত্রী মোদীর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সফর: প্রযুক্তি খাতের শীর্ষ সিইওদের সঙ্গে বৈঠক

প্রধানমন্ত্রী মোদীর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সফর: প্রযুক্তি খাতের শীর্ষ সিইওদের সঙ্গে বৈঠক
নিউ ইয়র্ক: ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী তার তিন দিনের মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সফরের দ্বিতীয় দিনে নিউ ইয়র্কে বিভিন্ন শিল্পখাতের শীর্ষ সিইওদের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে সেমিকন্ডাক্টর, ইলেকট্রনিক্স, এবং বায়োটেকনোলজি সহ প্রযুক্তি খাতের প্রধান নেতারা অংশগ্রহণ করেন। আলোচনায় ভারতীয় বাজারের সম্ভাবনা এবং ভবিষ্যতের প্রযুক্তিগত উন্নয়নের ওপর জোর দেওয়া হয়।
প্রধানমন্ত্রীর এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন Adobe এর চেয়ারম্যান, প্রেসিডেন্ট এবং সিইও শানতনু নারায়ণ, Google এর সিইও সুন্দর পিচাই, IBM এর সিইও অরবিন্দ কৃষ্ণা, AMD এর চেয়ার এবং সিইও লিসা সু, এবং Moderna এর চেয়ারম্যান নউবার আফেইয়ান।
প্রযুক্তি এবং উদ্ভাবনের অগ্রগতি:
প্রধানমন্ত্রী মোদী বৈঠকের পর সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করে বলেন, “নিউ ইয়র্কে শীর্ষ প্রযুক্তি সিইওদের সঙ্গে ফলপ্রসূ বৈঠক হয়েছে, যেখানে প্রযুক্তি, উদ্ভাবন এবং অন্যান্য বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। ভারতের এই খাতে যে অগ্রগতি হয়েছে তা আমি তুলে ধরেছি। আমি খুশি যে ভারতকে নিয়ে বিশাল আশাবাদ রয়েছে।”
মোদীর এই বৈঠকটি ভারতের প্রযুক্তি খাতে বিনিয়োগ এবং উদ্ভাবনের সম্ভাবনাগুলি তুলে ধরার একটি প্রধান পদক্ষেপ ছিল। বিভিন্ন সেক্টরের সিইওরা ভারতীয় প্রযুক্তি খাতের ভবিষ্যত নিয়ে অত্যন্ত আশাবাদী। বৈঠকে উদ্ভাবনী হ্যান্ডশেক এজেন্ডা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), সেমিকন্ডাক্টর রিসার্চ এবং কোয়ান্টাম প্রযুক্তির উন্নয়ন নিয়ে বিস্তৃত আলোচনা হয়।
সেমিকন্ডাক্টর উৎপাদনে ভারতের অগ্রগতি:
শনিবার অনুষ্ঠিত ভারত-মার্কিন দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে, প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন এবং প্রধানমন্ত্রী মোদী সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে সেমিকন্ডাক্টর সরবরাহ শৃঙ্খল তৈরির বিষয়ে আলোচনা করেন। বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয় GlobalFoundries (GF) এর কোলকাতায় অবস্থিত GF কোলকাতা পাওয়ার সেন্টার, যা ভারত-মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ গবেষণা ও উন্নয়নের মাধ্যমে সেমিকন্ডাক্টর উৎপাদনের ক্ষেত্রে নতুন অধ্যায় উন্মোচন করবে।
হোয়াইট হাউস থেকে প্রকাশিত এক যৌথ ফ্যাক্ট শিটে বলা হয়, IBM সম্প্রতি ভারতের সরকারের সঙ্গে একটি সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষর করেছে, যা IBM এর Watsonx প্ল্যাটফর্মকে ভারতের এয়ারাওয়াট সুপারকম্পিউটারে প্রয়োগ করার সুযোগ তৈরি করবে। এটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ক্ষেত্রে নতুন উদ্ভাবনের সুযোগ সৃষ্টি করবে এবং সেমিকন্ডাক্টর প্রসেসরের উন্নত রিসার্চ ও ডেভেলপমেন্টকে সমর্থন করবে।
বৈঠকে আরও আলোচনা হয় ভারতের জাতীয় কোয়ান্টাম মিশনকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার এবং নতুন নতুন খাতে বিনিয়োগের সুযোগ তৈরির বিষয়ে। ২০২৩ সালের নভেম্বরে স্বাক্ষরিত একটি সমঝোতা স্মারক, যা ভারত-মার্কিন উদ্ভাবন ইকোসিস্টেমের মধ্যে সহযোগিতাকে বাড়ানোর জন্য তৈরি করা হয়েছিল, তা নিয়েও আলোচিত হয়।
এছাড়াও, পড়ুন :গ্লোবাল মডিফাইড অ্যাটমোস্ফিয়ার কোল্ড স্টোরেজ মার্কেট
উদ্ভাবনী হ্যান্ডশেক এজেন্ডা:
উদ্ভাবনী হ্যান্ডশেক এজেন্ডার অধীনে ভারত এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ২০২৩ সালের পর থেকে দুটি শিল্প-সংশ্লিষ্ট রাউন্ডটেবিল বৈঠক করেছে, যেখানে স্টার্টআপ, প্রাইভেট ইকুইটি এবং ভেঞ্চার ক্যাপিটাল সংস্থাগুলি, কর্পোরেট বিনিয়োগ বিভাগ এবং সরকারি কর্মকর্তারা অংশগ্রহণ করেন। এই বৈঠকগুলির মূল লক্ষ্য হল উদ্ভাবনের বিনিয়োগকে ত্বরান্বিত করা এবং ব্যবসায়িক সংযোগ স্থাপন করা।
প্রধানমন্ত্রী মোদী এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের ভারতীয় সম্প্রদায়ের বিশাল জনসভায় বক্তৃতা দেন। হাজার হাজার ভারতীয় বিভিন্ন রাজ্য থেকে এসেছিলেন এই সমাবেশে অংশ নিতে। নিউ ইয়র্কে এই সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী মোদী ভারতীয় সমাজের কৃতিত্ব এবং ভারত-মার্কিন সম্পর্কের গভীরতার ওপর আলোকপাত করেন।
প্রধানমন্ত্রীর সফরের তৃতীয় দিনে তিনি নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ‘Summit of the Future’ এ বক্তব্য রাখবেন। সম্মেলনের মূল বিষয়বস্তু হলো ‘ভবিষ্যতের জন্য বহুপাক্ষিক সমাধান’। প্রধানমন্ত্রী মোদীর এই সফর ভারত-মার্কিন সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যেখানে প্রযুক্তিগত এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতার নতুন অধ্যায় উন্মোচিত হচ্ছে।
উদ্ভাবনের ভবিষ্যত:
প্রধানমন্ত্রী মোদীর এই সফর নতুন প্রযুক্তিগত উন্নয়নের ক্ষেত্রে ভারত-মার্কিন সম্পর্কের গুরুত্ব বাড়াবে। ভারতের উদ্ভাবনী ইকোসিস্টেম আরও সমৃদ্ধ হবে এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ভারতের অবস্থানকে শক্তিশালী করবে।