ভারত-ভুটানের বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদার করতে নতুন ইন্টিগ্রেটেড চেকপোস্ট নির্মাণের উদ্যোগ

ভারত-ভুটানের বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদার করতে নতুন ইন্টিগ্রেটেড চেকপোস্ট নির্মাণের উদ্যোগ
ভারত ও ভুটান তাদের বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও দৃঢ় করার জন্য নতুন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। উভয় দেশ সীমান্ত জুড়ে পণ্য, সেবা এবং মানুষের চলাচল আরও সহজতর করার লক্ষ্যে যোগাযোগ ও অবকাঠামো উন্নয়নের দিকে গুরুত্ব দিচ্ছে। ভারতের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় শুক্রবার জানিয়েছে, এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে একটি ইন্টিগ্রেটেড চেকপোস্ট (আইসিপি) প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা করা হয়েছে যা ভারত-ভুটানের গুরুত্বপূর্ণ সীমান্ত শহর জয়গাঁও-ফুয়েন্টশোলিং এবং রেল সংযোগ গড়ে তুলবে।
আইসিপি এবং রেল সংযোগের পরিকল্পনা:
ভারত ও ভুটানের বাণিজ্য সচিব স্তরের বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই বৈঠকটি ভুটানের রাজধানী থিম্পুতে অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে ভারতের পক্ষে বাণিজ্য সচিব সুনীল বারথওয়াল এবং ভুটানের পক্ষ থেকে ডাশো তাশি ওয়াংমো নেতৃত্ব দেন। বারথওয়াল বর্তমানে দুই দিনের সরকারি সফরে ভুটানে অবস্থান করছেন।
উভয় দেশ দ্রুত গতিতে যোগাযোগ ও অবকাঠামো উন্নয়নের পরিকল্পনা নিয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল জয়গাঁও-ফুয়েন্টশোলিংয়ে ইন্টিগ্রেটেড চেকপোস্টের (আইসিপি) প্রতিষ্ঠা এবং কোকরাঝাড়-গেলেফু ও বানারহাট-সমত্সে রেলপথ সংযোগের উন্নয়ন।
ভুটানের বাণিজ্য সচিব ডাশো তাশি ওয়াংমো বলেন, “এই উন্নয়ন উভয় দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক সহযোগিতা আরও মজবুত করবে এবং সীমান্তবর্তী এলাকাগুলির অর্থনৈতিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত করবে।”
নতুন রুট এবং এলসিএসের উন্নয়ন:
ভারত ও ভুটানের মধ্যে বাণিজ্য বৃদ্ধির আরও একটি উদ্যোগ হিসেবে উভয় পক্ষ আমদানি ও রপ্তানি রুট আরও প্রসারিত করার প্রস্তাব গ্রহণ করেছে। বিশেষত ভুটান থেকে ভারতের দিকে এরেকা পামের (সুপারি) আমদানির জন্য অতিরিক্ত রুট উন্মুক্ত করা হবে। এই উদ্দেশ্যে, ভারতীয় সীমান্তের হাটিসার এবং দারাঙ্গা ল্যান্ড কাস্টমস স্টেশন (এলসিএস) ব্যবহার করা হবে।
ভারতের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, “আমদানি কার্যক্রম সহজতর করতে দারাঙ্গা এলসিএস-এ খাদ্যপণ্যের জন্য একটি নতুন প্রবেশপথ চালু করার বিষয়ে উভয় দেশ আলোচনা করেছে।”
এছাড়া, ভুটান থেকে ভারতে ধাতব স্ক্র্যাপ আমদানির জন্য জয়গাঁও এলসিএসকে নোটিফাই করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। উভয় দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও মজবুত করতে এই উদ্যোগগুলি নেওয়া হয়েছে বলে জানা যায়।
এছাড়াও, পড়ুন : বাজারের নেতা এবং পিছিয়ে থাকা: গ্লোবাল আইআর নাইট ভিশন ডিভাইসের বাজার প্রবণতা এবং পূর্বাভাস (2024 – 2031)
ভারতের প্রতিশ্রুতি:
ভারতের সরকার জানিয়েছে, সমরং এলসিএসকে নোটিফাই করার জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো উন্নয়নের কাজ সম্পন্ন হলে সেটিও কার্যকর করা হবে।
এছাড়াও ভুটান থেকে ভারতে অন্যান্য পণ্য আমদানির জন্য আরও বেশ কয়েকটি নতুন রুট খোলার ব্যাপারেও আলোচনা হয়েছে। এই উদ্যোগগুলি ভারত ও ভুটানের মধ্যকার সীমান্ত বাণিজ্যকে আরও প্রসারিত করবে এবং উভয় দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক:
ভারত ও ভুটান দীর্ঘদিন ধরে ঘনিষ্ঠ বাণিজ্যিক সম্পর্ক বজায় রেখেছে। ভুটানের সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক অংশীদার হিসেবে ভারত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। গত কয়েক বছরে ভুটান থেকে ভারতে বিভিন্ন কৃষিপণ্য, খনিজ এবং হস্তশিল্পের আমদানির পরিমাণ বেড়েছে। ভারতও ভুটানে বিদ্যুৎ, গ্যাস এবং অন্যান্য প্রযুক্তিগত সেবা রপ্তানি করে আসছে।
এছাড়া, ভুটানের উন্নয়ন প্রকল্পগুলিতে ভারতের সক্রিয় অংশগ্রহণ রয়েছে। বিশেষত ভুটানের জলবিদ্যুৎ প্রকল্পগুলিতে ভারতীয় কোম্পানিগুলি বিনিয়োগ করছে এবং এই খাতে ভারতের ভূমিকা ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে।
বৈঠকের গুরুত্ব:
এই বাণিজ্য সচিব স্তরের বৈঠকটি উভয় দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও গভীর করার লক্ষ্যে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। উভয় দেশের শীর্ষ কর্মকর্তারা বাণিজ্য এবং বিনিয়োগের ক্ষেত্রে নতুন সুযোগ সৃষ্টির জন্য দীর্ঘমেয়াদী কৌশল নিয়ে আলোচনা করেছেন।
ভারতের বাণিজ্য সচিব সুনীল বারথওয়াল বলেন, “ভারত ও ভুটানের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক সবসময়ই আমাদের অর্থনৈতিক উন্নয়নে সহায়ক হয়েছে। আমরা বিশ্বাস করি, উভয় দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও গভীর হবে এবং নতুন বাণিজ্য পথ উন্মুক্ত হবে।”
ভুটানের বাণিজ্য সচিব ডাশো তাশি ওয়াংমো উল্লেখ করেন, “এই বৈঠক আমাদের উভয় দেশের জন্যই অত্যন্ত ফলপ্রসূ হয়েছে। আমরা আশা করি, এই উদ্যোগগুলি আমাদের বাণিজ্যিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করবে।”
এই নতুন উন্নয়নগুলি দুই দেশের জনগণের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে। উভয় দেশের সরকার এই উদ্যোগগুলির দ্রুত বাস্তবায়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।