পাঞ্জাবের নিজস্ব ব্র্যান্ডে সিল্ক পণ্য লঞ্চের উদ্যোগ

পাঞ্জাবের নিজস্ব ব্র্যান্ডে সিল্ক পণ্য লঞ্চের উদ্যোগ

পাঞ্জাবের নিজস্ব ব্র্যান্ডে সিল্ক পণ্য লঞ্চের উদ্যোগ

চন্ডীগড় | ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৪

পাঞ্জাব সরকারের উদ্যোগে সিল্ক পণ্যের নতুন ব্র্যান্ড লঞ্চ হতে চলেছে। রাজ্যের উদ্যানমন্ত্রী চেতন সিং জুরামাজরা শনিবার মহাত্মা গান্ধী স্টেট ইনস্টিটিউট অব পাবলিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (MGSIPA) -তে একটি রাজ্য-স্তরের অনুষ্ঠানে এই প্রকল্পের উদ্বোধন করেন। এই উপলক্ষে তিনি সিল্ক পণ্যের জন্য নতুন লোগো উন্মোচন করেন, যা পাঞ্জাবের তৈরি সিল্ক পণ্যগুলিকে নিজের লেবেলে বাজারজাত করার প্রথম ধাপ হিসেবে ধরা হচ্ছে। সরকারের লক্ষ্য আগামী ২০২৫ সালের মধ্যে রাজ্যের সিল্ক উৎপাদনকে দ্বিগুণ করা।

পাঞ্জাবের সেরিকালচার: রাজ্যের অগ্রগতি

পাঞ্জাবে সেরিকালচার বা রেশম উৎপাদন বর্তমানে প্রায় ২৩০টি গ্রামে পরিচালিত হচ্ছে। এর মধ্যে গুরদাসপুর, হোশিয়ারপুর, পাঠানকোট এবং রূপনগর (রোপার) জেলার অন্তর্গত পাহাড়ী এলাকাগুলির গ্রামগুলো উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করছে। মোট ১,২০০ থেকে ১,৪০০ সিল্ক উৎপাদক এই কাজে নিযুক্ত আছেন। তবে, মন্ত্রী চেতন সিং জুরামাজরা জানিয়েছেন, একজন সিল্ক উৎপাদক বার্ষিক প্রায় ₹৪০,০০০ থেকে ₹৫০,০০০ আয় করে, যা বর্তমান বাজারে পর্যাপ্ত নয়।

মন্ত্রী জুরামাজরা বলেন, “আমাদের লক্ষ্য হলো সিল্ক উৎপাদকদের আয় বৃদ্ধি করা এবং তাদের অর্থনৈতিক অবস্থা শক্তিশালী করা। তাই সরকার নির্ধারিত সঠিক দাম পাওয়ার ব্যবস্থা গ্রহণ করছে। আমরা নিজেরা সিল্ক রিলিং ইউনিট স্থাপন করছি, যেখানে কোকুনকে সিল্ক সুতায় পরিণত করা হবে। এর ফলে কৃষকরা নিজেদের উৎপাদিত কোকুনের জন্য আরও বেশি মূল্য পাবেন।”

পাঠানকোটে রিলিং ইউনিট: উন্নয়নের নতুন ধাপ

সরকারি উদ্যোগে পাঠানকোটে প্রথম রিলিং ইউনিট স্থাপন করা হচ্ছে। এই ইউনিটটি সিল্ক চাষিদের উৎপাদিত কোকুনকে প্রসেস করবে এবং সেগুলি সিল্ক থ্রেড বা সুতায় রূপান্তর করবে। বর্তমান বাজারে রেশম কোকুনের কম মূল্য সমস্যার একটি প্রধান কারণ বলে মনে করা হয়। কৃষকরা দীর্ঘদিন ধরে তাদের কোকুনের ন্যায্য মূল্য পাচ্ছেন না, এবং তা থেকে তাদের প্রাপ্য আয়ও যথেষ্ট বৃদ্ধি পাচ্ছে না। নতুন রিলিং ইউনিটের মাধ্যমে কৃষকরা আরও ভালো দাম পাবেন এবং তারা লাভজনক অবস্থানে পৌঁছতে পারবেন বলে আশাবাদী সরকার।

মন্ত্রী আরও জানান, সেরিকালচার খাতে কৃষকদের আয় বাড়ানোর জন্য রাজ্য সরকার প্রত্যেক সিল্ক উৎপাদকের সাথে সরাসরি কাজ করবে এবং সিল্ক শিল্পকে আরও উন্নত করতে নতুন নতুন উদ্যোগ গ্রহণ করবে। কৃষকদের উৎপাদিত কোকুনকে রেশম সুতায় রূপান্তর করার জন্য একটি সুসংহত প্রক্রিয়া চালু করা হবে এবং পাঞ্জাবের সিল্ক বাজারে নতুন প্রতিযোগিতা তৈরি করবে। এদিকে, কৃষকদের তাদের পণ্য সঠিক বাজারমূল্য পেতে সরকারি সহায়তা প্রদান করা হবে।

পাঞ্জাব সরকারের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা

২০২৫ সালের মধ্যে সিল্ক উৎপাদন দ্বিগুণ করার লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে সরকার কাজ করছে। মন্ত্রী জুরামাজরা জানান, “আমাদের উদ্দেশ্য হলো পাঞ্জাবের সিল্ক উৎপাদকদের নিজেদের পণ্য রাজ্যের বাজারে নিজেদের লেবেলের মাধ্যমে বিক্রি করতে সাহায্য করা। এতে কৃষকদের আয় যেমন বাড়বে, তেমনি রাজ্যের অর্থনৈতিক উন্নয়নের ক্ষেত্রেও নতুন সম্ভাবনার সৃষ্টি হবে।”

এছাড়াও, পড়ুন: গ্লোবাল লুব্রিকেন্ট রিজেনারেশন সিস্টেম মার্কেট

পাঞ্জাব সরকার ইতিমধ্যেই কৃষি ও সংশ্লিষ্ট খাতে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে এবং সেরিকালচার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। এ খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধির মাধ্যমে রাজ্যের তরুণদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি এবং কৃষি খাতের বিকাশের পথ আরও মসৃণ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সেরিকালচারের উন্নয়নে অন্যান্য পদক্ষেপ

সিল্ক উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য পাঞ্জাব সরকার আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিতে চলেছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো নতুন সিল্ক প্রসেসিং প্রযুক্তির প্রচলন, আধুনিক প্রশিক্ষণ ও গবেষণার সুযোগ তৈরি, এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা করতে সক্ষম এমন মানসম্পন্ন পণ্য তৈরি করা। সরকারের উদ্যান ও কৃষি বিভাগ যৌথভাবে সিল্ক চাষের নতুন নতুন পদ্ধতি এবং গবেষণার মাধ্যমে সেরিকালচার খাতে উদ্ভাবনী উন্নতি আনার চেষ্টা করছে। এই উদ্যোগগুলি শুধু রাজ্যের কৃষকদের জন্য উপকারী হবে না, বরং পাঞ্জাবের সার্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতিকে শক্তিশালী করবে।

পাঞ্জাবের নতুন ব্র্যান্ডের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বাজারেও প্রতিযোগিতা করতে সক্ষম এমন সিল্ক পণ্য তৈরি করা হবে। মন্ত্রী জানান, “আমরা চাই রাজ্যের উৎপাদিত সিল্ক আন্তর্জাতিক স্তরে পরিচিতি লাভ করুক এবং পাঞ্জাবের কৃষকরা নিজেদের পণ্যের মাধ্যমে বিশ্ববাজারে শক্ত অবস্থান তৈরি করুক।”

পাঞ্জাবের রেশম পণ্য বিশ্বের অন্যান্য প্রতিযোগিতামূলক সিল্ক পণ্যের সাথে টক্কর দিতে প্রস্তুত বলে আশাবাদী রাজ্য সরকার।